Cvoice24.com

আলীনগর ছাড়তে সময় আর মাত্র ৯ দিন

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ১১ আগস্ট ২০২২
আলীনগর ছাড়তে সময় আর মাত্র ৯ দিন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলীনগরে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে সময় বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখানে যাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি রয়েছে তাদেরও স্থাপনা সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হয়েছে এবং জায়গার দলিলসহ যাবতীয় কাগজ নিয়ে সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে আলীনগরের সকল অবৈধ বাসিন্দাদের এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে সম্প্রতি একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এ সময়ের মধ্যে আলীনগর না ছাড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরের পাহাড়, টিলা, বনভূমি এবং এখানকার পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষাকল্পে মহামান্য হাইকোর্ট গত ৭ আগস্ট এক নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে সেখানে পাহাড়-টিলা দখল করে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বৈধ জমির মালিকদের মালিকানা নিশ্চিত করতে বলা হয়। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সেখানে খাসজমি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং বৈধ ভূমির মালিকদের ২০ আগস্টের মধ্যে সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যারা অবৈধ উপায়ে সেখানে পাহাড়-টিলা দখল করে কেটে বসত ঘর বা স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছেন তাদেরকে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অবশ্যই এলাকা ছেড়ে যেতে হবে। নইলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় প্রশাসন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন সিভয়েসকে বলেন, ‘আলীনগরে প্রবেশের সড়ক কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে ইয়াসিনের সহযোগীরা। সড়কের অন্তত ৬টি পয়েন্টে ৩ ফুট গভীর ও ৮ ফুট প্রশস্ত করে কাটা হয়েছে। গত ২ আগস্ট জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পর এখানে প্রবেশের কয়েকটি সড়ক কেটে গর্ত করা হয়েছে, যাতে সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে যেতে না পারেন। সেখানে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সেখানে অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। তাই তাদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৭৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। সেদিনও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় স্থানীয়রা বাধা দেয়। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখে।

এর আগে গত ১ জুলাই জঙ্গল সলিমপুরে পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে থাকা খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, ইকো পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনার কথা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

সেদিন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, জঙ্গল সলিমপুরে বসতি স্থাপনকারী ১৫ হাজার পরিবারকে সেখানেই পুনর্বাসন করে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

ওই এলাকায় মোট ৩ হাজার ১শ’ একর জমির মধ্যে ৮৮ একর অবৈধ দখলদারদের হাতে থাকার কথা সেদিন জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এরও আগে, ১৫ জুলাই বিকেলে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক সমীক্ষার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বদিউল আলমের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিদর্শনে যায়। তাদের গাড়ি বহরের শেষের দিকে থাকা ইউপি সদস্য মো. আরিফকে আটকে মারধর করে স্থানীয়রা।

ওই ঘটনায় ইউপি সদস্য আরিফ বাদী হয়ে মামলা করলে ১৮ জুলাই মো. ইয়াসিন (৫০)কে গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ।

ইয়াসিন সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর আলী নগর এলাকায় একটি বাহিনী গড়ে তুলেছেন এবং সেখানে চাঁদাবাজি, পাহাড় দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের ভাষ্য।

-সিভয়েস/এমএম/পিবি

Add

সর্বশেষ

    পাঠকপ্রিয়