Cvoice24.com

৮ মাস ধরে ‘লাপাত্তা’ কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার

মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ২১ আগস্ট ২০২৩
৮ মাস ধরে ‘লাপাত্তা’ কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার

এ কে এম হারুনুর রশিদ। বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। গত ৮ মাস ধরে কর্মস্থলে ‘লাপাত্তা’ তিনি। মোবাইল ফোন-চিঠি চালাচালি কোনভাবেই তার হদিস মিলেনি। এমনকি বেতন বন্ধ করেও তাকে কর্মস্থলে ফেরানো যায়নি।

জানা গেছে, ২০২২ সালের নভেম্বরের ফটিকছড়ি থেকে প্রশাসনিক কারণে বাঁশখালীতে বদলি করা হয়  উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এ কে এম হারুনুর রশিদকে। ২২ নভেম্বরে তিনি যোগ দেন। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে পদায়ন করা হয়। যোগদানের পর ২৯ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন তিনি। কোন প্রকার ছুটি ছাটা ছাড়াই ২৪৩ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত তিনি। এ কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউর রহমান মজুমদার তাকে অনুপস্থিতির প্রায় ১৬ দিনের মাথায় ৭ ডিসেম্বর শোকজ করা হয়। ২৩ দিনেও সেই শোকজের কোন জবাব না পেয়ে ২৯ ডিসেম্বরে শোকজ করা হয় আরও একবার। ২৬ দিনেও একইভাবে কোন জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে ২৩ জানুয়ারি আরেকটি শোকজ এবং সবশেষ ২৫ মার্চ তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

এরমধ্যে তার সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনরা নানাভাবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। মোবাইলে সংযোগ পাওয়া গেলেও তিনি কল রিসিভ করেন না কারও।

অভিযোগ রয়েছে— যে কয়দিন তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন কোনদিন ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেন নি। হাজিরা বইতে সই করে এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করতেন। এসব নিয়ে কেউ কথা বললে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে চরম দুর্ব্যবহার করতেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ জুয়েল সরকার বলেন, জরুরি বিভাগে দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি অনুপস্থিত। যে কদিন এসেছিল তখনও কোন দায়িত্ব পালন করতেন না, অফিসে এসে হাজিরা দিয়ে এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করতেন। যার কারণে জরুরি বিভাগে সমস্যা হতো। এগুলো নিয়ে আমরা বললে আমাদের সঙ্গে উল্টো খারাপ আচরণ করতো।

একই অভিযোগ খোদ আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.দিদারুল হকেরও। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। কখনো কখনো আসলেও ঠিকমত দায়িত্ব পালন করতেন না। এনিয়ে তাকে বলতে গেলেও সহকর্মীদের গালিগালাজ, দুর্ব্যবহার করতেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হারুনুর রশিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল ধরেন নি। এমনকি ক্ষুদে বার্তারও কোন জবাব দেননি।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউর রহমান মজুমদার  জানান, তিনি অফিসিয়ালি কোনও ছুটি নেননি এবং আমাদের কিছু জানানও নি। হঠাৎ করেই দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। এসব নিয়ে তাকে পাঁচ বার শোকজ করা হয়েছে। এমনকি মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেন না। সবশেষ তার বেতন বন্ধ করা হয়েছে। এখন সিভিল সার্জনের কাছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হবে।

৮ মাস ধরে একজন কর্মস্থলে অনুপস্থিত, তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, হবে এসব বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াসকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। তাঁর সরকারি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
 

nagad

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়