Cvoice24.com
corona-awareness

হালদায় মধ্যরাতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ 

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৪০, ২৬ মে ২০২১
হালদায় মধ্যরাতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ 

হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসব ডিম সংগ্রহ করা হয়।

এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র সরকার ঘোষিত বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে পূর্ণিমার চলতি জোতেই নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। কয়েক দিন ধরে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে থাকলেও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ডিম ছাড়বে কিনা তা নিয়ে ছিল সংশয়। তবে সব শঙ্কাকে পেছনে ফেলে মঙ্গলবার মধ্যরাতের জোয়ারেই নমুনা ডিম ছাড়তে শুরু করেছে মা মাছ। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারীর ইউএনও রুহুল আমীন সিভয়েসকে বলেন, ‘পূর্ণিমার চলতি জোতেই নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। গত কয়েক দিন ধরে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন ডিম সংগ্রহকারীরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে নমুনা ডিম ছেড়েছে। আজিমের ঘাটের কামাল সওদাগর, আশু বড়ুয়া ও আব্দুল কাদের নামের তিন ডিম সংগ্রহকারী আমাকে মোবাইল ফোনে ছবি পাঠিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এখন হালদাপাড়ে উৎসবের আমেজ। এটি আগামীকাল সকাল পেরিয়ে বিকেলেও থাকবে।’ 

তিনি জানান, হালদা নদীর হাটহাজারী ও রাউজান অংশের আজিমের ঘাট, অংকুরি ঘোনা, কাগতিয়ার মুখ, গড়দুয়ারা নয়াহাট, রাম দাশ মুন্সির ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও সত্তার ঘাট অংশে কয়েক শত নৌকার মাধ্যমে ডিম আহরণ চলছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়ে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিই ডিম ছাড়ার উপযুক্ত সময়। এসব তিথিতে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণের ফলে নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয়ে থাকে। বিশেষ করে নদীর উপরি অংশে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, মানিকছড়ি, চট্টগ্রামের উত্তর ফটিকছড়িতে প্রবল বর্ষণের ফলে নদীর সাথে সংযুক্ত ছড়া ও শাখা খালের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢল হালদা নদীতে এসে পড়ে। তখন ঢলের সময় মা মাছ ডিম ছেড়ে থাকে। 

এর মধ্যে এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত তিনটি তিথি/জো চলে গেছে। গতকাল ও পরশুর বৃষ্টিতেই ডিম ছাড়তে শুরু করেছে মা মাছ। গত সোমবার থেকে পূর্ণিমার জো শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ মে পর্যন্ত জো’র প্রভাব থাকবে। এপ্রিল মাসে ছাড়া ডিম সবচেয়ে ভালো এবং দ্রুত বর্ধনশীল বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। কিন্তু এখন মে মাসও শেষের পথে। গতকাল সোমবার বিকালের পর হাটহাজারীর কোন কোন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলেও তা নদীতে ঢল হওয়ার মত ছিল না।

খাগড়াছড়ির জেলার বাটনাতলী পাহাড় হতে নেমে সর্পিল ১০৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হালদা নদী মিলেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে। দেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এই নদীর সুরক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে এটিকে বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ ঘোষণা করেছে। বাড়ানো হয়েছে মনিটরিং কার্যক্রম। বসানো হয়েছে হালদার আট পয়েন্টে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সিসি ক্যামেরা। 

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়