Cvoice24.com
corona-awareness

হালদার রেণুর কেজি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা  

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৯, ৩০ মে ২০২১
হালদার রেণুর কেজি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা  

রেণু বিক্রি করছেন হ্যাচারী মালিকরা। ছবি: ড. মনজুরুল কিবরিয়া।

গতবারের তুলনায় এবার ডিম সংগ্রহ হয়েছে চারগুণ কম। এরমধ্যে আবার হ্যাচারিতে মিঠা পানির সংকটের কারণে প্রায় ৬শ কেজি ডিম নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে গত বছর কার্প জাতীয় মাছের রেণু কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও তা এবার বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকায়। এক কেজি রেণুতে গড়ে আড়াই লাখ পোনা থাকে। 

রবিবার (৩০ মে) থেকে রেণু বিক্রি শুরু করেছেন হ্যাচারী মালিকরা। এদিন মাছুয়াঘোনা ও মদুনাঘাট হ্যাচারিতে মাছেল রেণু বিক্রি করা হয়। মদুনা ঘাটের এক হ্যাচারীতে সকালে কেজি প্রতি রেণু বিক্রি হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। আবার দুপুরের দিকে মাছুয়াঘোনায় কেজি প্রতি রেণু বিক্রি হয় ১ লাখ ৪২ হাজার টাকায়। এছাড়া অন্য হ্যাচারীগুলোতেও এ দামে রেণু বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা রনি। 

তিনি সিভেয়সকে বলেন, ‘আজ থেকে রেণু বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ মদুনাঘাট, মাছুয়াঘোনাসহ বিভিন্ন জায়গায় রেণু বিক্রি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এক কেজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা আগামীকাল ও পরশু পুরোদমে পোনা বিক্রি চলবে।’

তবে কী পারিমাণ পোনা বিক্রি হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে বলতে পারেননি এ মৎস কর্মকর্তা।

যদিও ডিম সংগ্রহকারীদের ওপর এবার মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে হ্যাচারীর অবব্যস্থাপনা। এবার রেকর্ড পরিমাণ কম ডিম সংগ্রহ হয়েছে। তার ওপর ডিম ফোটানোর সময় নোনা পানির কারণে কমপক্ষে ৬শ কেজি ডিম নষ্ট হয়ে গেছে। এরজন্য অনেকে হালদা নদীর উন্নয়ন ও সংরক্ষণে কাজ করা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দোষছেন। নদীর পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণ পানি থাকার কারণে হ্যাচারীতে মিঠা পানি সরবরাহ করতে না পারায় লবণাক্ত পানিতে ডিম ফোটাতে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় ৬শ কেজি ডিম। 

হালদা বিশেষজ্ঞ চবি অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া সিভয়েসকে বলেন, ‘চারদিনের মাথায় হ্যাচারীতে থাকা ডিমগুলো রেণুতে পরিণত হয়। এর মাস খানের মধ্যেই রেণু থেকে পোনায় পরিণত হয়। অনেকে রেণু কিনে নিয়ে পোনা ফুটায় আবার অনেকে পোনা কিনে সরাসরি পুকুরে ছাড়েন। এবছর প্রাকৃতিক বৈরিতার কারণে প্রত্যাশিত ডিম পাওয়া যায়নি। আশা করছি, আগামী জোনে আবার ডিম ছাড়বে মা মাছ।’ 

মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, হালদা থেকে সংগৃহীত ডিম ফোটানোর জন্য সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৭টি হ্যাচারি রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি সরকারি এবং একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিএফ-পিকেএসএফ পরিচালিত। হাটহাজারী ও রাউজানে এসব হ্যাচারি গড়ে তোলা হয়েছে। হাটহাজারীর মদুনাঘাট, মাদারী খালের মুখ ও মাছুয়াঘোনা এলাকায় এবং রাউজানের পশ্চিম গহিরা, মোবারকখীল ও কাগতিয়ায় সরকারি হ্যাচারি রয়েছে।

আইডিএফ-পিকেএসএফ পরিচালিত হ্যাচারিটি রাউজানের বিনাজুরিতে অবস্থিত। সাতটি হ্যাচারি ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে ১৭৬টি মাটির কুয়া রয়েছে। ওখানে সনাতন পদ্ধতিতে ডিম থেকে রেণু ফোটানো হয়। সরকারি ছয়টি হ্যাচারির দুটি পরিত্যক্ত। বাকি চারটিতে সমস্যার অন্ত নেই। বেসরকারি হ্যাচারিটির অবস্থা ভালো। সনাতন পদ্ধতির কুয়াগুলোও ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত হয়। একেকটি কুয়ায় চার থেকে ছয় বালতি বা ৬০ থেকে ৮০ কেজি ডিম দেওয়া যায়। ডিমের মানের উপর প্রতি ৪০ থেকে ৬০ কেজিতে এক কেজি রেণু উৎপাদিত হয়। এক কেজি রেণুতে গড়ে আড়াই লাখ পোনা থাকে। 

এদিকে পোনা বিক্রিতে ভেজাল পোনার বিষয়ে সর্তক করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন। তিনি বলেন, ‘সবাই রেণু ক্রয়ের সময় সতর্ক হবেন, কারণ ডিম কম তাই রেণু কম। ভেজালকারীরা সক্রিয়। আমরা সোর্স লাগিয়েছি ভেজালকারীদের ধরতে। ভেজালকারীদের হাতেনাতে ধরিয়ে দিতে পারলে পুরষ্কৃত করা হবে।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়