Cvoice24.com
corona-awareness

২০১৬ থেকে ২০২১— গ্রামবাসীর পর এবার ঝরলো শ্রমিকের রক্ত

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ১৭ এপ্রিল ২০২১
২০১৬ থেকে ২০২১— গ্রামবাসীর পর এবার ঝরলো শ্রমিকের রক্ত

২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল। মাস একই হলেও সময়ের ব্যবধান মাত্র পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছর পর আবার রক্ত ঝরলো বাঁশখালীর গণ্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। সেসময় কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধী গ্রামবাসীর সাথে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নিহত হলেও এবারও পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক মারা গেল। 

সোমবার সকালে শ্রমিকরা দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে গেলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে বাধে। এতে পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় আরও ১৭ জন। 

অন্যদিকে ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিল চারজন। নিহতরা হলেন- মর্তুজা আলী (৫০), আনোয়ার হোসেন ওরফে আংকুর আলী (৪৫) ও জাকির আহমেদ (৩৫)।

মূলত সেই সময়ে কয়লাভিত্তিক বেসরকারি ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জমি নেওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ ছিল। তবে একটি অংশ ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে অবস্থান নিলে দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতাকারীরা সোমবার ‘বসতভিটা রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিলে অন্য পক্ষও পাল্টা সমাবেশ ডাকে। উত্তেজনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। 

এলাকাবাসী ১৪৪ ধারা ভেঙে সমাবেশ করতে গেলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। এনিয়ে দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরিবেশবাদীরা স্বোচ্চার হয়ে উঠে। পরে এস আলমের মালিকানাধীন এ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ এগিয়ে চললেও পাঁচ বছর পর আবারও রক্ত ঝরলো। এবার সেখানে দাবি আদায়ে নিহত হলো পাঁচ শ্রমিক।

জানা যায়, বকেয়া বেতন পরিশোধ, বেতন বৃদ্ধির দাবি, শুক্রবার এক বেলা কাজ করা ও ইফতারের জন্য সময় বরাদ্দসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হলে এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিক নিহত হয়। তারা হলেন— আহমদ রেজা (১৮), রনি হোসেন (২২), শুভ (২৪) ও মো. রাহাত (২৪)। চট্টগ্রাম মেডিকেলে আনার পর মো. রায়হান (২৫) নামে একজন শ্রমিক নিহত হন। শ্রমিক নিহতের খবরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে দেয়। 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরও ১৭ শ্রমিক চমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়াও গণ্ডামারা পুলিশ ফাঁড়ির তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন— ইয়াসির (২৪), আব্দুল কবির ও (২৬), আসাদুজ্জামান (২৩)। তবে এস আলম গ্রুপের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বেসরকারি খাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান।  এই প্রকল্পের ৭০ শতাংশের মালিকানায় আছে এস আলম গ্রুপের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশের মধ্যে চীনের সেপকো থ্রি ২০ শতাংশ এবং চীনের অপর প্রতিষ্ঠান এইচটিজি ১০ শতাংশ। চুক্তিতে ৪৫ মাসের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর কেন্দ্রটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পিডিবি ২৫ বছর ধরে এই কেন্দ্রে উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ কিনবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ৬ টাকা ৬০ পয়সার মতো। 

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়