Cvoice24.com

পটিয়ায় ছাত্রলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’নিয়ে নেতাকর্মীদের ‘আপত্তি’

পটিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:৪১, ২ জুলাই ২০২২
পটিয়ায় ছাত্রলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’নিয়ে নেতাকর্মীদের ‘আপত্তি’

শহীদুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শহীদুল ইসলাম (২৬) নামে এক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ‘আত্মহত্যা’বললেও ওই ছাত্রলীগ নেতার সহকর্মীদের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।  

তাদের দাবি,পটিয়া হাসপাতাল থেকে শহীদুলের লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে রাত ১২টার দিকে তড়িঘড়ি করে দাফন করতে চেয়েছিলো পরিবারের লোকজন। কিন্তু সহকর্মীরা ওসি রেজাউল করিমকে জানালে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এছাড়া শহীদুল তার ভাইদের অত্যাচার ও সমস্যার কথা সহকর্মীদের জানাতেন। এখন তাকে হত্যা করে বড় ভাইয়ের শ্যালিকার সাথে প্রেমের বিষয়টিকে ইস্যু করে মূল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

শহীদুল ভাটিখাইন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল খালেক চেয়ারম্যানের বাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। 

এদিকে শহীদুল ইসলামের সহপাঠী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য শনিবার বিকেলে থানায় গেলে পুলিশ তাদের অভিযোগটি গ্রহণ না করে অপমৃত্যু মামলার অজুহাতে তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

শহীদের সহপাঠী ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, পরিকল্পিতভাবে মেধাবী ছাত্রনেতা শহীদকে হত্যা করা হয়েছে। শহীদ প্রায় সময় সহপাঠীদের কাছে তার ভাইদের অত্যাচার ও বিভিন্ন সমস্যার কথা বলতেন। বড় ভাইয়ের শ্যালিকার সাথে প্রেম থাকার ইস্যুতে মূল ঘটনাকে ধামাচাাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে তার পরিবার। শহীদের সাথে সহপাঠী কারো কোনদিন ঝগড়া হয়নি।

মৃত শহীদের বড় ভাই মো. শাহজাহানের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলাম না। তিনি পটিয়া সদরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। তার  ছোট ভাই লিটনের শ্যালিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল শহীদের। সে কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার জানান, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঘরের নিজ শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শহীদুলের মরদেহ ঝুলতে দেখে তার পরিবারের এক শিশু দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়। তারা এসে শহীদকে প্রথমে পটিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও পরে পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক শহীদকে মৃত ঘোষণা করেন।


 

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়