Cvoice24.com

হালদার দুই পারে চলছে রেণু ফোটানোর ‘উৎসব’

রাউজান প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১০:৫০, ২০ জুন ২০২২
হালদার দুই পারে চলছে রেণু ফোটানোর ‘উৎসব’

হালদা থেকে সংগৃহীত ডিম থেকে রেনু ফোটানোর কাজে ব্যস্ত ডিম আহরণকারী।

উপমহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী হালদা নদীর দুই পারে চলছে রেণু ফোটানো ‘উৎসব’।

গত রোববার (১৯ জুন) থেকে হ্যাচারী ও মাটির কুয়ায় রেণু পরিচর্যাকাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ডিম আহরণকারীরা।

 এর আগে গত শুক্রবার পঞ্চম জোর শেষ দিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংগৃহীত ডিমগুলো হ্যাচারি ও মাটির কুয়ায় রেখে রেণু ফোটানোর কাজ শুরু করেন আহরণকারীরা। ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাত উপেক্ষা করে বহু বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রেণু ফোটানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, পঞ্চম জোতে বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার দিনে হালদা নদী থেকে প্রায় ৪ হাজার কেজি নিষিক্ত ডিম আহরণ করা হয়। এসব ডিম থেকে রেণু ফোটানো হচ্ছে দুই উপজেলার চারটি সরকারি হ্যাচারির পাকা কুয়া ও সনাতন পদ্ধতির ৬৪টি মাটির কুয়ায়। তবে দুই উপজেলায় সরকারি চারটি হ্যাচারিসহ ১১০টি মাটির কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ডিম আহরণকারীদের মতে, ডিম সংগ্রহের ৪-৫ দিনের মাথায় রেণুতে পরিণত হয়, ১৫ দিন পর পরিণত হয় পোনায়। 

তবে হালদায় ডিম ছাড়ার ৪-৫ দিন পর হ্যাচারি বা মাটির কুয়ায় রেণু ফোটলে এক সপ্তাহের মধ্যে রেণু বিক্রি উৎসব শুরু হয়। গড়ে ৪০ কেজি ডিম থেকে এক কেজি রেণু হয়। এক কেজি রেণু থেকে প্রায় আড়াই লাখ পোনা উৎপাদন হয়। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতিতে এর পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

ডিম আহরণকারী কামাল সওদাগর জানান, ‘অত্যাধুনিক সুবিধাসংবলিত আইডিএফের ১০টি হ্যাচারি সিস্টেম, ১০টি মাটির কুয়া ও ৫টি পাকা গোল কুয়া রয়েছে। সেখানেসহ আরও একটিতে তিনি রেণু ফুটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ডিম থেকে রেণু ফুটেছে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রেণু দৃশ্যমান হয়েছে। আগামী বুধবার থেকে রেণু বিক্রি শুরু হবে।’

রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পীযূষ প্রভাকর বলেন, ‘ভারী বর্ষণ হচ্ছে। যদি মাটির কুয়াগুলোতে অতিরিক্ত পানি ঢুকে যায় ক্ষতির সম্ভাবনা আছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মাটির কুয়ায় পানি ঢুকেনি। ডিম থেকে রেণু উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।’

হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘মাটির কুয়ায় রেণু ফোটানোর কাজ চলছে। ডিম থেকে রেণু ফুটছে, তবে এখনো পরিপূর্ণ নয়। আগামী ২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও একটি জো আছে। সেটি শেষ জো। পঞ্চম জোতে ছাড়া ডিম পূর্ণাঙ্গ ডিম হয়ে থাকলে সামনের জোতে ডিম ছাড়বে না মা মাছ।’ ভারী বর্ষণ; রেণুতে প্রভাব পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি বন্যা হয় বা কোনোভাবে মাটির কুয়ায় পানি ঢুকে, তাহলে ক্ষতি হতে পারে।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত জোয়ার-ভাটায় তিন শতাধিক নৌকা ও বাঁশের ভেলা নোঙর করে জাল ফেলে ডিম আহরণে হালদায় নামেন পাঁচ শতাধিক আহরণকারী। গত জোতে সংগৃহীত সাড়ে ৩ হাজার কেজি ডিম থেকে রেণু উৎপাদন হয় ৬০ কেজি। প্রতিকেজি রেণু বিক্রি হয় ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

Add

সর্বশেষ

    পাঠকপ্রিয়