Cvoice24.com

গুপ্তছড়া ঘাটে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অবস্থান, সন্দ্বীপে যেতে পারেননি বিএনপি নেতারা

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০৩, ২৬ আগস্ট ২০২২
গুপ্তছড়া ঘাটে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অবস্থান, সন্দ্বীপে যেতে পারেননি বিএনপি নেতারা

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ মিছিল সফল করতে সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্য ভোরে কুমিরা ঘাটে স্পীডবোটের  টিকেট কাটেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলার ৫ নেতা। কিন্তু সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে এর আগে থেকে ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের মুখে সকাল ১০টার দিকে সেই টিকিট ফেরত দিয়ে ঘাট ছাড়েন তারা।

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, আগামী ২৮ আগস্ট সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। সভা সফল করতে আজ সন্দ্বীপ যাওয়ার কথা ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তরিকুল আলম তেনজিং ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের। এজন্য আজ ভোর ৬ টার দিকে তারা কুমিরা ঘাটে যান। এসময় তাদের সাথে আরও ৩ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারা স্পীডবোটের ৫ টি টিকেট সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে একই সময়ে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী গুপ্তছড়া ঘাটে অবস্থান নেন। এই খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত কুমিরা ঘাটে অপেক্ষা করেন বিএনপি নেতারা। পরে সাড়ে ১০ টায় তারা টিকেট ফিরিয়ে দিয়ে শহরে ফিরে যান।

কুমিরা ঘাটে থাকা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত তালুকদার সিভয়েসকে বলেন, ‘ঘাটে যারা এসেছিলো তারা ক্ষুদ্ধ ছিলো। কিন্তু আমরা একটি রাজনৈতিক সমাবেশ করতে চাচ্ছি। কোন সংঘাত না। সংঘাত এড়াতেই আমরা কুমিরা ঘাট থেকে ফিরেছি। আমাদের নেতাকর্মীরাও ঘাট এলাকায় ছিলো। আমরা সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে একটা সংঘাত হতে পারতো। আমরা সেটা চাইনি। তাই ফিরে এসেছি।’ 

তবে নেতারা ফিরে এলেও ২৮ তারিখের মিছিল ও সমাবেশ বাস্তবায়ন হবে জানিয়ে শওকত তালুকদার বলেন, ‘আমাদের প্রোগ্রাম ২৮ তারিখ সেদিন প্রোগ্রাম হবেই। উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের কমিটি আছে তারাই কর্মসূচি সফল করবে। তবে আমরা স্পষ্ট করেছি আমরা সংঘাত এড়াতে চাই।’ 

এই বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমন সিভয়েসকে বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্ত সন্দ্বীপকে অশান্ত করতে চায়। এর আগেও তারা আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। তাই আমরা তাদের কর্মসূচি প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর। কারণ বিএনপি মুখে যাই বলুক তাদের রাজনীতির ধরন কী সেটা সকলেই জানে ’ 

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সামি উদ দৌলা সীমান্ত বলেন, ‘বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আছে। এখানে তাদের দুইটি গ্রুপ। এক গ্রুপের দখলে উপজেলার সব কমিটি। অন্য গ্রুপকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে কর্মসূচি সফল করতে। এই দ্বন্দ্বের কারণেই তারা আসেনি। তাদের রিসিভ করতে বিএনপির স্থানীয় কোন নেতাকর্মী ঘাটের আশপাশেও আসেনি।’ 

তবে এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন শাহীন বলেন, ‘বিএনপিতে কোন দ্বন্দ্ব নাই। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মসূচি সফল করার বিষয়ে কাজ করছি।’

সর্বশেষ