Cvoice24.com

তিনদিনে আলীনগর ছাড়ল ২৭ পরিবার, আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা ইয়াসিন বাহিনীর

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৪, ১১ আগস্ট ২০২২
তিনদিনে আলীনগর ছাড়ল ২৭ পরিবার, আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা ইয়াসিন বাহিনীর

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলীনগরে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে সময় বেঁধে দিয়েছিল প্রশাসন। এর ৩ দিনের মধ্যেই আলীনগর ছাড়তে শুরু করেছে এখানকার অবৈধ অধিবাসীরা। 

আজ বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) চারটি পরিবার ৫টি ট্রাকে করে তাদের ব্যবহৃত মালামাল নিয়ে আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুরের সীমানা ত্যাগ করে। 

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত তিনদিনে ২৭টি পরিবার তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে অন্য জায়গায় চলে গেছে। এছাড়া আরও ১৯টি পরিবার নিজেদের ব্যক্তি মালিকানার প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপজেলা ভূমি অফিসে দাখিল করেছে। তবে আলীনগর ছেড়ে যাওয়া বাসিন্দাদের আটকানোর প্রাণপন চেষ্টা করছে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা। সব ‘ম্যানেজ’ করা হচ্ছে বলে আলীনগরে বসবাসকারীদের কাছে তারা প্রচার করছেন। ইতোমধ্যে তাদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর নিয়ে ঢাকায় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হোসেন। তিনি সিভয়েসকে বলেন, বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আলীনগরের অবৈধ বাসিন্দারা জায়গা ছাড়তে শুরু করেছে। যারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত তারাই ধীরে ধীরে সন্ত্রাস বাহিনীর বলয় থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেষ্টা করছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আলীনগরে বসবাসকারী বৈধ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিবেশ ও প্রতিবেশকে অক্ষুন্ন রেখে সরকারের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসনও করা হবে। তবে ভূমিদস্যুদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’ ভূমিদস্যুদের প্ররোচনায় সাধারণ মানুষকে ভুল পথে না যেতে অনুরোধ করেন তিনি।

এর আগে, গত ৭ আগস্ট সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরের পাহাড়, টিলা, বনভূমি এবং এখানকার পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষাকল্পে মহামান্য হাইকোর্ট এক নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে সেখানে পাহাড়-টিলা দখল করে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বৈধ জমির মালিকদের মালিকানা নিশ্চিত করতে বলা হয়। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সেখানে খাসজমি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং বৈধ ভূমির মালিকদের ২০ আগস্টের মধ্যে সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যারা অবৈধ উপায়ে সেখানে পাহাড়-টিলা দখল করে কেটে বসত ঘর বা স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছেন তাদেরকে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অবশ্যই এলাকা ছেড়ে যেতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৭৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। সেদিনও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় স্থানীয়রা বাধা দেয়। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখে।

এর আগে গত ১ জুলাই জঙ্গল সলিমপুরে পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে থাকা খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, ইকো পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনার কথা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

সেদিন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, জঙ্গল সলিমপুরে বসতি স্থাপনকারী ১৫ হাজার পরিবারকে সেখানেই পুনর্বাসন করে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

ওই এলাকায় মোট ৩ হাজার ১শ’ একর জমির মধ্যে ৮৮ একর অবৈধ দখলদারদের হাতে থাকার কথা সেদিন জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এরও আগে, ১৫ জুলাই বিকেলে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক সমীক্ষার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বদিউল আলমের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিদর্শনে যায়। তাদের গাড়ি বহরের শেষের দিকে থাকা ইউপি সদস্য মো. আরিফকে আটকে মারধর করে স্থানীয়রা।

ওই ঘটনায় ইউপি সদস্য আরিফ বাদী হয়ে মামলা করলে ১৮ জুলাই মো. ইয়াসিনকে (৫০) গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ।

ইয়াসিন সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর আলী নগর এলাকায় একটি বাহিনী গড়ে তুলেছেন এবং সেখানে চাঁদাবাজি, পাহাড় দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের ভাষ্য।

-সিভয়েস/এআর

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়