Cvoice24.com

৮১ দিন পর ক্লাসে ফিরলো চারুকলার শিক্ষার্থীরা

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
৮১ দিন পর ক্লাসে ফিরলো চারুকলার শিক্ষার্থীরা

আবাসিক হল ও পাঠাগার সংস্কারসহ ২২ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ডাক দিয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পরবর্তীতে সেই ২২ দফা দাবি থেকে শুধুমাত্র ‘ক্যাম্পাসে চারুকলার প্রত্যাবর্তন’ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায়। আন্দোলনের ৮১ দিন পার হলেও পূরণ হয়নি সেই দাবিও। অন্যদিকে কতৃপক্ষের কথা- ‘ক্যাম্পাস স্থানান্তর একটি দীর্ঘমেয়াদী পক্রিয়া’। তাই একরকম বাধ্য হয়েই ভগ্নহৃদয় নিয়ে আবারও সেই পুরনো ক্যাম্পাসেই ফিরতে হলো শিক্ষার্থীদের। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাসরুম বর্জন করে খোলা আকাশের নিচে হাতে রঙ তুলি নিয়ে আঁকতে বসেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নগরের বাদশামিয়া রোডস্থ চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণে ক্লাস করছে হাতে গোনা  ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীরা। এদিকে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করায় অনেক শিক্ষকই ক্লাস নিতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে ৪ জন শিক্ষক ক্লাস নিতে রাজি হন।

শিক্ষকদের রুমের বাইরে ক্লাস নিতে রাজি না হওয়ার বিষয়ে চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সুফিয়া বেগম সিভয়েসকে বলেন, শিক্ষকদের নিজস্ব আত্মমর্যাদা আছে। শিক্ষক রুমের বাইরে কেন ক্লাস নিবে। এরপরেও আমাদের কিছু শিক্ষক তাদের আবদার রেখে ক্লাস নিয়েছে।   

চারুকলার মাস্টার্সের সুষময় নামে এক শিক্ষার্থী সিভয়েসকে বলেন, আন্দোলনের পর আজকে প্রথম দিনের ক্লাসে তেমন কোন শিক্ষার্থী উপস্থিতি দেখা যায়নি। ক্লাসরুমগুলো ঝুঁকিপূর্ণ  হওয়ায় আমরা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করি। কিন্তু এভাবে শিক্ষকরা ক্লাস নিতে রাজি হননি। পরে আমাদের অনেক অনুরোধের পর চারজন শিক্ষক ক্লাস করাতে ইনস্টিটিউটে আসেন। 

এদিকে, শিক্ষার্থীদের দেয়া শর্ত অনুযায়ী ৭ দিনের জন্য আন্দোলন শিথিল করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ২ জন প্রতিনিধি চারুকলা ইন্সটিটিউটে আসেন। ক্ষতিয়ে দেখেন ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন দিকগুলো। এই সময় অনুযায়ী আগামী ২৯ জানুয়ারি রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা প্রতিনিধিদের।

কিন্তু কতৃপক্ষ বলছে এই প্রতিবেদন জমা দিতে সাতদিনের বেশিও সময় লাগতে পারে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সুফিয়া বেগম সিভয়েসকে বলেন, আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন সহকারী প্রকৌশলী ও তার একজন সহযোগী এসেছেন। ইনস্টিটিউটের কোন কোন অংশগুলো ঠিক করতে হবে তার একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তাছাড়া আগামীকাল পরবর্তী পদক্ষেপ কি কি হবে তা নিয়ে চারুকলার শিক্ষকরা মিটিং-এ বসবেন। সেখানে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হবে। তবে এই পক্রিয়া শেষ হতে ৭ দিনের বেশিও লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, গতবছর ২ নভেম্বর থেকে ২২ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ও ক্লাসবর্জন শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। পরে ২২ দফা দাবি পরিবর্তিত হয়ে মূল ক্যাম্পাসে ফেরার এক দফা দাবিতে পরিণত হয়। পরে টানা আন্দলনের ৭৯ দিনে সার্কিট হাউজে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাতে আশ্বস্ত হলেও দৃশ্যত কোন উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার কথা জানান। পরে ৮০ তম দিনে চারুকলা প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মুহাম্মদ ফখরুজ্জামান ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর পুনরায় আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা ৭ দিনের জন্য আন্দোলন শিথিলের সিদ্ধান্ত নেন।

-সিভয়েস/ ডিসি

Nagad

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়