Cvoice24.com

করোনাকালে চন্দনাইশে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

মো. নুরুল আলম, চন্দনাইশ

প্রকাশিত: ১৪:৫২, ২০ এপ্রিল ২০২১
করোনাকালে চন্দনাইশে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

হাসপাতালের বিছানায় জায়গা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।

চন্দনাইশে করোনা সংক্রমণের মাঝেই হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। উপজেলার দুটি সরকারি হাসপাতালের বিছানায় জায়গা না হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা চলছে বারান্দার মেঝেতে।

চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। তাদের বেশির ভাগই বাজারের খোলা ও অস্বাস্থ্যকর পঁচা-বাসি খাবার কিংবা প্রচণ্ড গরমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার দুটি সরকারি হাসপাতাল। একটি চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অন্যটি দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। এরমধ্যে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন। আর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ১শ থেকে ১২০ জন। আক্রান্ত এপর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ১০ জন।

হাসপাতালের বিছানায় জায়গা নেই, তাই চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝেতে বিছানা পেতে 

অন্যদিকে দোহাজারী ৩১শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে এপর্যন্ত মোট প্রায় ৭০জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৫৫ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ১৫ জন। প্রতিদিনই গড়ে ১৫ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। 

গেল শুক্রবার হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকার লায়লা বেগমের। প্রথমে তিনি বাড়িতে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার কোন পরিবর্তন না দেখে রাতেই আসেন হাসপাতালে। তবে কোন বিছানা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মেঝেতেই বিছানা পেতে চিকিৎসা শুরু করেন। 

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতালের বেড এমনকি মেঝেতেও জায়গা না পেয়ে বারান্দাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এরকম আরও অনেকে। তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালে কর্তব্যরতরা। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে স্যালাইনের কোন সংকট না থাকলেও রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকলে পরবর্তীতে সংকটের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার  ডা. আবু রাশেদ মোহাম্মদ নুরুদ্দিন ও দোহাজারী ৩১শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানিয়েছেন, আপাতত হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক ও কলেরা স্যালাইনের কোনো সংকট নেই।

অত্যাধিক পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানা ও বমি— এমন উপসর্গ দেখা দিলে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি ডাবের পানি খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন হাসপাতালের এ দুই আবাসিক মেডিকেল অফিসার। এতেও অবস্থার পরিবর্তন না হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এ দুই হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে চলছে। এতে সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। ডায়রিয়ার কারণ হিসেবে আমরা মনে করছি, মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সিজনাল ভাইরাস আর ভ্যাপসা গরম এর জন্য দায়ী। সবাই যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে এবং  প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, তাহলে আমরা খুব তাড়াতাড়ি এ থেকে মুক্তি পেতে পারি। 


 

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়