Cvoice24.com

বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহারে নজরদারি বাড়াতে হবে

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ১৪ অক্টোবর ২০২১
বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহারে নজরদারি বাড়াতে হবে

সম্প্রতি বিএসটিআইয়ের নকল লোগো বসিয়ে পণ্য বাজারজাত করার চিত্র তুলে ধরে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেছেন, মুনাফার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। তবে শুধু ব্যবসা করলে চলবে না, পণ্যের যথাযথ মান বজায় রাখার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। গুটিকয়েক খারাপ ব্যবসায়ীর কারণে ভালো ব্যবসায়ীদেরও সুনাম ক্ষুন্ন হতে পারে। তাই ব্যবসায়ীদেরকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। অনুমতি না নিয়ে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল লোগো ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে বিএসটিআইকে নজরদারি বাড়াতে হবে। 

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নগরের সার্কিট হাউসে ৫২তম বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে বিএসটিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘আমরা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছি। কিন্তু দিন শেষে আমরা সবাই ভোক্তা। ব্যবসায়ীদেরকেও ভোক্তা হিসেবে বিভিন্ন পণ্যের জন্য একে অপরের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের মানসম্মত পণ্য তৈরি করতে হবে। ব্যবসায়ীদেরকেও আরো বেশি সচেতন হতে হবে, নিজেদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। অতিমুনাফার লোভে ভোক্তাদের মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। পাশাপাশি বিএসটিআইয়ের পরিধি ও আওতা আরো বাড়াতে হবে। ২১৯টি পণ্যের মান যাচাই করলে চলবে না। বিএসটিআইয়ের লোগো যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সাথে নীতি-নৈতিকতার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খন্দকার বলেন, ‘পণ্যের মানের ক্ষেত্রে যতটা গুরুত্ব দেয়া দরকার আমরা দেব। এখানে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসেছেন। আপনাদের সবাইকে ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য দিয়ে ভাল রাখার শপথ নিতে হবে। আমরা অভিযান চালাতে গিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ড দেখেছি। কতটা মানহীন পণ্য বানাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তাই এ দিবসে বলতে চাই ব্যবসায়ীরা আরো বেশি সচেতন হবে, ভাল পণ্য সরবরাহ করবে।’

সভায় চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘যার লাইসেন্স নাই তাকে শাস্তি দিতে হবে, সচেতন করতে হবে। অতি দ্রুত বিএসটিআইয়ের ল্যাব বাস্তবায়নের জন্য চেম্বার কাজ করবে। তবে ব্যবসায়ীদেরকে মান বজায় রেখে পণ্য বানাতে হবে। মান বজায় না রেখে বাজারে টিকে থাকা কষ্ট হয়ে যাবে। মার্কেট থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। ইচ্ছা হলেই পণ্যের দাম বাড়ালাম, এটা ঠিক নয়। মানুষকে ঠকানোর চিন্তা থেকে ব্যবসায়ীদের বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়া যাবে না। যেহেতু আমাদেরকে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলে যেতে হবে, তাই সঠিকভাবে পণ্যের গুণ ও মান বজায় রেখে ব্যবসা করতে হবে। কারখানাগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা মুনাফার আশায় ব্যবসা পরিচালনা করবেন, কিন্তু পণ্যের যথাযথ মান বজায় রেখে ব্যবসা করা প্রতিটা ব্যবসায়ীর নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখে ব্যবসা করছেন না। প্রতিনিয়ত ভেজাল পণ্য তৈরি করছেন তারা। মানুষকে খাবারের নামে বিষ খাওয়াচ্ছেন। তাই প্রশাসনের উচিত অভিযানের পরিমাণ বাড়ানো। অপরদিকে বিএসটিআইকে পণ্যের মান পরীক্ষায় আরো বেশি সাবলম্বী হতে হবে, অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরকেও আরো বেশি সচেতন হতে হবে। তাহলে সোনার বাংলা গড়তে বেশিদিন লাগবে না।’ 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক (মেট) ও অফিস প্রধান মো. শওকত ওসমান। এছাড়াও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

-সিভয়েস/টিএম

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়