Cvoice24.com

চট্টগ্রামে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ শতাংশই 

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ২১ মে ২০২২
চট্টগ্রামে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ শতাংশই 

চট্টগ্রামের মাটিতে আমনের ভালো ফলন হলেও সরকারি খাদ্য গুদামে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা থেকে ৬ হাজার ৬শ দশমিক ২৮ মেট্রিকটন ধান ক্রয় করা হয়েছে। যদিও এই পাঁচ জেলা থেকে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯ হাজার ৮০৩ মেট্রিকটন। যা লক্ষ্যমাত্রার ২২ শতাংশ মাত্র। 

ধান সংগ্রহে সরকারি নির্দেশনা (ধানের আদ্রতা বিবেচনা, চিটা ধান বাতিল), ধান বিক্রিতে কৃষকের অনীহার কারণেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, কৃষকরা ধানের চেয়ে চাল বিক্রি করে বেশি টাকা পাচ্ছেন। তাই ধান বিক্রিতে তাদের আগ্রহ কম।

চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকার ধান চাষী জহির মিয়া সিভয়েসকে বলেন, আন্ডা রইদে হুরি, ঝইত ভিজি ধান চাষ করি। দুই ছাইর টেয়া লাভের লাই আন্ডা এত কষ্ট করি। আন্ডা ধান বেইচতাম গেলে নানা অজুহাত দেখাই ধান ফেরত দি দেয়। ধান লই যাইবের খরচও আরগোরে দিতো অয়। আবার সরকারের কাছে আন্ডা এক কেজি ধান বেচি ২৭ টেয়া দি। কিন্তু চাইল বেইচতাম গেলে আন্ডা এক কেজি চাইল ৪০ টেয়া দি বেইচতাম হারি। হিল্লাই ধান বেচায় আরগো আগ্রহ নাই। (আমরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ধান চাষ করি। দু চার টাকা লাভের জন্য আমরা এত কষ্ট করি। আমরা ধান বিক্রি করতে গেলে নানা অজুহাতে আমাদের ধান ফেরত পাঠানো হয়। ধান নিয়ে যাওয়া-আসার খরচও আমাদের দিতে হয়। আবার সরকারের কাছে প্রতিকেজি ২৭ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে পারি। কিন্তু চাল বিক্রি করতে পারি ৪০ টাকায়। তাই আমরা ধান বিক্রিতে আমাদের আগ্রহ কম)। 

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে আমন মৌসুমে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলা— চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষীপুর থেকে সরকারের ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৮০৩ মেট্রিকটন। তবে এখন পর্যন্ত এই পাঁচ জেলার ৪০টি উপজেলার ৩৮ হাজার ৪৬৮ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের কাছ থেকে ৬ হাজার ৬শ দশমিক ২৮ মেট্রিকটন ধান ক্রয় সম্পন্ন করেছে সরকার। এ হিসাব মোতাবেক ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। 

চট্টগ্রামের ১৮টি উপজেলা থেকে ১ হাজার ১০৮ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। এরমধ্যে ১৫টি উপজেলার তালিকাভুক্ত ২৭ হাজার ২৫ জন কৃষকের কাছ থেকে ৫৪২ দশমিক ১৬ মেট্রিকটন ধান কেনে সরকার। কক্সবাজারের ৮ উপজেলার তালিকাভুক্ত ২ হাজার ৭১২ জন কৃষকের কাছ থেকে ২ হাজার ৯৩২ মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ জেলা থেকে ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৯৯ দশমিক ১৬ মেট্রিকটন। পাশাপাশি নোয়াখালীর ৯ উপজেলার তালিকাভুক্ত ৩ হাজার ২২১ জন কৃষকের কাছ থেকে ৮ হাজার ৬৫৩ মেট্রিকটন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রার জায়গায় কেনা হয়েছে মাত্র ৫২৯ মেট্রিকটন ধান।

অপরদিকে ফেনী জেলার ৬ উপজেলার ৩ হাজার ৮৫০ জন নিবন্ধিত কৃষক রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৬৭১ মেট্রিকটন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু কেনা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৭০৪ মেট্রিকটন ধান। তাছাড়া লক্ষীপুর জেলার ৫ উপজেলা থেকে সরকারের ৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিকটন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে ওই তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৬৬০ জন কৃষকের কাছ থেকে ৪ হাজার ৭৪৮ মেট্রিকটন ধান কেনে সরকার যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোফাজ্জল করিম সিভয়েসকে বলেন, ২০২১-২২ মৌসুম চট্টগ্রামে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। কাজেই লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ অর্জনের ক্ষেত্রে আরো ৭৮ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। এর কিছু বিশেষ কারণও রয়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার সময় সরকারের কিছু নির্দেশনা বিবেচনা করতে হয়। যেমন— ধানের আদ্রতার মাত্রা ঠিক আছে কিনা, ধান চিটা কিনা ইত্যাদি বিষয়। কাজেই এ নির্দেশনা মানতে গিয়ে অনেক ধান ফেরত দিতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ নভেম্বর আমনের মৌসুম শুরু হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হয়েছে। এসময় সরকার ও মিল মালিকরা ধান ও চাল সংগ্রহ করেন। এবছর সরকারের খাদ্য গুদামে প্রতিকেজি আমন ধানের দাম ধরা হয়েছিল  কেজিপ্রতি ২৭ টাকা।

সিভয়েস/টিএম

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়