Cvoice24.com

চট্টগ্রামের চালের বাজার পুড়ছে ডিজেলের ‘আগুনে’

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৪১, ৮ আগস্ট ২০২২
চট্টগ্রামের চালের বাজার পুড়ছে ডিজেলের ‘আগুনে’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে স্বস্তি মিলছে না চালের বাজারে। তার উপর তিনদিন আগে বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। আর এই এক ছুতোতেই আকাশচুম্বী চালের বাজার। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া চালে। ৯শ’ টাকা বেড়ে দাম গড়িয়েছে ৫ হাজার ৯শ টাকায়। অন্যান্য চালের দামও বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত।

চট্টগ্রামের বৃহত্তর পাইকারি চালের বাজার পাহাড়তলীতে দেখা গেছে, মিনিকেট (চিকন চাল) ৫০ কেজির বস্তায় ৪শ’ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৫শ টাকা, নাজিরশাইল ৩ হাজার ৯শ ও পাইজাম ২৭শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বস্তাপ্রতি ৩শ’ টাকা বেড়ে জিরাশাইল সাড়ে তিন হাজার টাকা, চিকন মিনিকেট ২ হাজার ৭শ’ টাকা, চিকন আতপ ৩ হাজার ৮শ’ টাকা ও বিআর-২৮ জাতের চাল ২ হাজার ৭শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া চালে। বস্তায় ৯শ’ টাকা বেড়ে চালটির দাম এখন ঠেকেছে ৫ হাজার ৯শ’ টাকায়। তাছাড়া মোটা আতপ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মিলারদের হাতে জিম্মি ছিল চালের বাজার। এরপর গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চালের বাজার দখলে তোড়জোড় চালাচ্ছিল বড় বড় শিল্প গ্রুপগুলো। চাল মজুদ করে অনেকাংশে সফলও হয়েছিল তারা। এ কারণে এতদিন এমনিতেই অস্থিরতা বিরাজ করছিল চালে। তার উপর নতুন করে ডিজেলের দাম বাড়ানোর কারণে প্রতি ট্রাকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ বেড়েছে। আর এ কারণে চালের দামও বেড়ে গেছে।  চালের বাজার দর স্বাভাবিক হবে— এমন কোন স্বস্তির খবরও নেই আড়তদাররদের হাতে। 

পাহাড়তলীর পাইকারি চালের দোকান মেসার্স ন্যাশনাল স্টোরের স্বত্তাধিকারী মোহাম্মদ ইউসুফ সিভয়েসকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পণ্য পরিবহন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। কুষ্টিয়া থেকে ২৫০ বস্তার এক গাড়ি চাল আনতে আগে ১৬ হাজার টাকা খরচ লাগতো। সেখানে এখন আমাদের গুণতে হচ্ছে ২১ হাজার টাকা। এ কারণে চালের দামটাও অনেকাংশে বেড়ে গেছে। 

আরেক ব্যবসায়ী সিফাত স্টোরের মালিক এনাম তালুকদার সিভয়েসকে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাড়তির দিকে আছে কনটেইনার ও জাহাজ ভাড়া। তার উপর ডলারের দাম বাড়ার কারণে এমনিতেই আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। তাই আমদানিকারকরাও এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) কম খুলছেন। কারণ চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রিতেও ভাটা পড়েছে। চাল বিক্রি না হলে লোকসান গুণতে হবে। সে আতঙ্কে চাল আমদানি করতে গিয়েও ভাবনায় আছেন আমদানিকারকরা।

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন সিভয়েসকে বলেন, চালের বাজারের পরিস্থিতি খারাপের দিকেই আছে। দিন দিন দাম বাড়ছে এবং তা ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এখানে আমাদেরও কিছু করার নেই। বরং চালের দাম বাড়ার কারণে আমাদের বেচাবিক্রিও কমে গেছে। সরকার ভারত থেকে যে চাল আমদানি করেছে সেখান থেকে আমরা যে পরিমাণে স্বর্ণা চাল পেয়েছি তা আমাদের স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। তার উপর বেচাবিক্রি কমে যাওয়ায় আমদানিকারকরাও এলসি কম খুলছে। 

চালের বাজারের অস্থিরতা সহজে কমবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বড় বড় শিল্প গ্রুপগুলো এখন চালের বাজারে প্রবেশ করেছে। তারা মিলারদের কাছ থেকে চাল কিনে প্রচুর পরিমাণে চাল মজুদ করছে। জাহাজ, কনটেইনার ভাড়ার পাশাপাশি ডলারের দাম বেড়েছে। তাই আমদানি খরচও বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে আমাদেরকে এখন প্রতি ট্রাকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। কাজেই চালের বাজারে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে তা এত সহজে কাটবে না।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন সিভয়েসকে বলেন, করোনাকালীন সময় থেকে চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখন অনেক বেড়ে গেছে। মাছ-মাংস, তেল, সবজি কোন কিছুতেই শান্তি নেই। সাধারণ মানুষ দুবেলা দুমুঠো খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে চায়। সেখানেও হোঁচট খাচ্ছেন তারা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে চালের বাজার দর বেড়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হলে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। না হয় সাধারণ মানুষ তাদের কাছে বলির পাঠা হয়েই থাকবে।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়