Cvoice24.com

হঠাৎ ছাঁটাই হলো চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের ১১৯ ডাক্তার-নার্স

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৪৬, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
হঠাৎ ছাঁটাই হলো চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের ১১৯ ডাক্তার-নার্স

বন্দর কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগীরা

করোনা রোগীদের সেবার উদ্দেশ্যে ২০২০ সালের ২৩ জুন বন্দর হাসপাতালে ১১৯ জন ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ীভাবে লোক নিয়োগ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চলতি মাস শেষ হবার পাঁচদিন আগেই হঠাৎ চাকরি থেকে তাদের অব্যাহতির ঘোষণা দেয় বন্দর। পূর্ব কোন ঘোষণা ছাড়াই বন্দর কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে দিশেহারা এসব করোনাযোদ্ধারা। 

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বন্দর কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার কারণ জানতে চেয়ে মানববন্ধনও করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া ওয়ার্ডবয় হেলাল উদ্দিন সিভয়েসকে বলেন, সরকার বলেছে করোনা ওয়ার্ড বন্ধ করে দিতে বলেছে—আমাদের এমনটাই জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অথচ সরকার এ ধরনের কোন সিদ্ধান্তই নেয়নি। তারপরও বিনা নোটিশে আমাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন আমাদের সংসার কিভাবে চলবে। আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমরাই। বন্দরে এখনো অনেক শূণ্য পদ রয়েছে। শূণ্য পদে আমাদের বহাল রাখা হোক— এটাই আমাদের দাবি। 

বন্দর কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগীরা

সাইফুল ইসলাম নামে আরেক কর্মচারি বলেন, আমরা প্রথমে বন্দর হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে। তাই আমরা প্রেসক্লাবের সামনে চলে আসি। এখানে আমাদের শ’ খানেক লোক এসেছে। বাকিদের বন্দর হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে। বন্দরের কোভিড ইউনিট এখন বন্ধ। তাই আমাদের অনেক আয়াকে দিয়ে বন্দর কর্মকর্তারা তাদের বাসার কাজ করিয়েছেন। আমাদের বেতনও যথাসময়ে দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় দু’মাসের বেতন একসাথে দিয়েছে। আমরা অনেক কষ্টে সংসার সামলেছি। এখনও চলতি মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা সাংসদ এম এ লতিফ ও বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছি। আমাদের দাবি না মানলে আমরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাব। 

জানা গেছে, করোনা রোগীদের সেবার উদ্দেশ্যে ২০২০ সালের ২৩ জুন ১১৯ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার ৭ জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৩ জন, ২০ জন স্প্রে ম্যান, কুক ১ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (প্যাথলজি), ওয়ার্ড বয় ২৭ জন, আয়া ১৪ জন, নমুনা সংগ্রহকারী ২ জন, সহকারী কুক ১ জন, মেডিকেল এসিট্যান্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ১ জন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ২৩ জন রয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. মমিনুর রশিদকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Nagad

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়