Cvoice24.com

নিলামে ক্রেতা মিলছে না বিলাসবহুল ৬৬ গাড়ির

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:১৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
নিলামে ক্রেতা মিলছে না বিলাসবহুল ৬৬ গাড়ির

গত ১০ বছরে গাড়িগুলো বিক্রির জন্য ৫ বারের বেশি নিলাম ডাকা হয়েছে।

১০ বছর ধরে নিলামে তুলেও ৭৯টি বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রি করতে পারছে না চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। কোটি টাকার গাড়ির দাম কখনো লাখ টাকা আবার কখনো ‘চোখেই’ লাগে না ক্রেতাদের। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কার্নেট দি প্যাসেজ সুবিধায় আনা নামি-দামি গাড়িগুলো এভাবে বছরের পর বছর পড়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দরে। সম্প্রতি এরকম ৭৯টি গাড়ি নিলামে তুললেও  কোন ‘ডাক’ পড়েনি ৬৬টি বিলাসবহুল গাড়ির।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকেই সোয়া ১ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকার বেশি দামের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি পড়ে আছে বন্দরে। গত জুলাই মাসে ১০৮টি গাড়ি নিলামে তুলে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ। সেবার সবগুলো গাড়ির জন্য দরপত্র জমা পড়ে ১২৬টি। শেষ পর্যন্ত ২৯টি গাড়ি বিক্রিও হয়। এরপর বাকি গাড়িগুলো বিক্রির জন্য গত ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করে কাস্টমস হাউস। 

এবার বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জ, ল্যান্ড ক্রুইজার, ল্যান্ড রোভার, জাগুয়ার, লেক্সাস ও মিতসুবিশি ব্র‍্যান্ডের গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি হবে। এজন্য গত ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর গাড়িগুলো দেখার সুযোগও দেয় কাস্টমস। এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর বেলা ২টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এদিন দরপত্র খুলে দেখা গেছে ৭৯টি গাড়ির বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছে মাত্র ১২টি।

কাস্টমস হাউস সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, মার্সিডিজ বেঞ্জের ১৯টি, বিএমডব্লিউ ১৫টি, লেক্সাস ৭টি, মিতসুবিশি ২২টি, ল্যান্ড রোভার ৪টি, জাগুয়ার ২টি, ল্যান্ড ক্রুইজার ২টি, পাজেরো ২টি, টয়েটা ২টি, ডিয়াও ১টি, ভলকস ওয়াগন ১টি, ফোর্ড ১টি, হোন্ডা ব্যান্ডের ২টিসহ মোট ৭৯টি গাড়ি নিলাম ডাকা হয়েছে। এরমধ্যে মার্সিডিজ বেঞ্জের তিনটি গাড়ি কিনতে দরপত্র জমা দিলেও কোন দরপত্র পড়েনি ১৬টি গাড়ির। এছাড়া প্রায় চার কোটি টাকার বিএমডব্লিউ গাড়ির দাম দেড় কোটি টাকা ধরেও কোন ক্রেতা টানা যায়নি। ১৫টি বিএমডব্লিউ গাড়ির বিপরীতে দরপত্র পড়েছে ১১টিতে। মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের ২২টি জীপ, মাইক্রো গাড়ির মধ্যে ক্রেতা এসেছে মাত্র দুটি গাড়ির জন্য। এছাড়া হোন্ডা ব্র্যান্ডের দুটি গাড়ির বিপরীতে দরপত্র পড়েছে একটিতে। অন্যদিকে ল্যান্ড রোভার, জাগুয়ার, ল্যান্ড ক্রুইজার পাজেরো, টয়েটা, ডিয়াও, ভলকস ওয়াগন, ফোর্ড ব্র্যান্ডের ১৪টি গাড়ির জন্য কোন ক্রেতাই পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিন কনটেইনারের ভেতর এবং বাইরে পড়ে থাকার কারণে গাড়িগুলোর কিছু যন্ত্রপাতিও নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পুরনো মডেল হওয়ায় গাড়িগুলোর প্রতি কোন ক্রেতাদের আগ্রহ নেই বলে জানা গেছে। 

এরআগেও নিলামে তুলে পৌনে চার কোটি টাকার বিএমডব্লিউর দাম উঠেছিল ১২ লাখ টাকা। সোয়া এক কোটি টাকার মার্সিডিজ বেঞ্জ ৩ লাখ  একইভাবে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা মূল্যের মার্সিডিজ বেঞ্জের দাম মাত্র ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।  

এ বিষয়ে জানতে কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার ও নিলাম কমিটির সুপারভাইজার সন্তোষ সরেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য যোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্নেট সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। তবে নির্দিষ্ট সময় পর আবার সেগুলো ফিরিয়ে নিতে হয়। বাংলাদেশে যারা শুল্কমুক্ত এই সুবিধা ব্যবহার করে এসব গাড়ি এনেছেন তাদের বেশির ভাগই প্রবাসী বাংলাদেশি, যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের অনেকেই এসব গাড়ি কার্নেট সুবিধায় এনে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই এসব গাড়ি আমদানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হলে একসময় আমদানিকারকরা গাড়িগুলো খালাস করে নেননি।

সিভয়েস/টিএম/এএস

Nagad

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়