Cvoice24.com

চট্টগ্রামে চিনির প্যাকেটে কালি দিয়ে প্রতারণা

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৪০, ২৪ নভেম্বর ২০২২
চট্টগ্রামে চিনির প্যাকেটে কালি দিয়ে প্রতারণা

ঊর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য চিনির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। তবে দাম নির্ধারণের এক মাস পেরিয়ে গেলেও মানা তো দূরে থাক বরং চিনিকান্ডে যোগ হচ্ছে নিত্য নতুন কারসাজি। 

কম দামে চিনি কিনে তা মাসের পর মাস কারখানায় ফেলে রেখেছিলেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা। যখনই চিনির দাম বাড়ার ঘোষণা এলো ঠিক তখনই সে চিনিতে ঠাসা হয়ে গেল গুদামঘর। শুধু যে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এ কারসাজিতে যুক্ত তা কিন্তু নয়। খুচরা ব্যবসায়ীরাও এ কারসাজিতে কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। বাড়তি লাভের আশায় প্যাকেট থেকে চিনি খুলে তা বিক্রি করেছেন খোলা দামে। বিভিন্ন কোম্পানি বাজারে প্যাকেট চিনি সরবরাহ করা মাত্রই মোড়কের গায়ে থাকা দাম কালো কালি দিয়ে মুছে তা নিজেদের মনমতো দামে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

গত ২২ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের বড়পুল এলাকায় সততা ট্রেডার্সের একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা প্রায় ৫শ’ বস্তা চিনি জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সবমিলিয়ে ওই গুদামে ২৯ টন চিনি ছিল। ৫০ কেজি ওজনের বস্তার গায়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দাম লেখা আছে। সে হিসেবে কেজিপ্রতি চিনির দাম পড়ে ৯০ টাকা। কিন্তু তাদের ভাউচারে দেখা গেছে তারা কেজিপ্রতি ১০৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। 

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর চট্টগ্রামের বৃহত্তর ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জের পাইকারি চিনির দোকানে অভিযান চালিয়েছিল ভোক্তা অধিকার। সেখানেও চলছিল চিনি নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। খাতুনগঞ্জে ওই সময় প্রতিবস্তা চিনি ৪ হাজার ২শ থেকে ৪ হাজার ৩শ টাকায় বিক্রি করলও লোকসান ছিল না পাইকারদের। অথচ তারা প্রতিবস্তা চিনি বিক্রি করেছিল ৪ হাজার ৮শ থেকে ৪ হাজার ৯শ টাকায়। চিনির দাম নিয়ে এই কারসাাজি ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাদের হাতে ধরাও পড়েছিল।

এতো গেলো পাইকারদের কারসাজির গল্প। এবার দেখা যাক খুচরা ব্যবসায়ীদের কারসাজি।  চিনির দাম যখন হু হু করে বাড়ছিল ঠিক তখনই একের পর এক কারসাজির পথে হাঁটছিল খুচরা ব্যবসায়ীরা। নগরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে প্রতিকেজি চিনি যখন ১১৫ থেকে ১২০ টাকা টাকা পর্যন্ত ঠেকেছিল ঠিক তখনই উধাও হয়েছিল প্যাকেট চিনি। কারণ খুচরা ব্যবসায়ীরা ৯৫ টাকার প্যাকেট চিনি প্যাকেট থেকে খুলে তা বিক্রি করেছিলেন ১২০ টাকায়। 

গত বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) চিনির দাম নতুন করে নির্ধারিত হয়। লোভের ফাঁদে পড়ে এখনো টাকার নেশায় মাতোয়ারা খুচরা ব্যবসায়ীরা। বের করেছেন নতুন কারসাজি। নামিদামি কোম্পানিগুলো এক সপ্তাহ আগে থেকে চিনি পরিশোধন ও প্যাকেট করে তা বাজারে ছেড়েছে। আর বাজারে আসার পর খুচরা ব্যবসায়ীরা মোড়কের গায়ে দেওয়া দাম মার্কার পেন বা কালি দিয়ে মুছে নিজেদের মর্জিমত দামে বিক্রি করছেন। 

নগরের খুলশী, নাসিরাবাদ, হালিশহর এলাকার বেশকিছু খুচরা দোকান ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চিনির দাম বেশি হবার কারণে প্রতিটি দোকানী বেশি পরিমাণে প্যাকেট চিনি কিনছেন না। যে প্যাকেট চিনিগুলো দোকানে আছে সেগুলো এক সপ্তাহ আগেই কারখানায় প্যাকেট ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীরা প্যাকেট চিনিতে অতি মুনাফার আশায় কালি দিয়ে প্যাকেটের গায়ে থাকা দাম মুছে দিচ্ছেন। তাদের দাবি, কোম্পানির দেয়া দামে চিনি বিক্রি করতে গেলে খুব একটা লাভ হবে না। 

হালিশহর এলাকার ভাই ভাই স্টোরের মালিক মো. শাহনেওয়াজ সিভয়েসকে বলেন, আমরা প্রতিকেজি প্যাকেট চিনি ১০৬ টাকায় কিনি। চিনির এখনো দাম বেশি তাই আমি ৭২ প্যাকেট চিনি দোকানে রেখেছি। কোম্পানি প্যাকেটের গায়ে ১০৮ টাকা দাম দিয়েছে। এ দামে বিক্রি করলে আমাদের ২ টাকা লাভ হবে। আমাদের দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারির মজুরিসহ আনুষঙ্গিক খরচ আছে। তাই আমরা কোম্পানির দেয়া রেটে বিক্রি করতে পারছি না। 

ওই দোকান থেকে প্যাকেট চিনি কিনেছেন মো. আলী। তিনি সিভয়সকে বলেন, আমি এক কেজি প্যাকেট চিনি হাতে নিয়ে দাম দেখতেই কালি দিয়ে ঢাকা দেখি। আমি পুরো অবাক। দোকানীকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করতেই স্রেফ জবাব, কিনলে কিনেন না কিনলে চলে যান। সরাসরি দাম কালি দিয়ে ঢেকে দেয়া মানেই প্রকাশ্য প্রতারণা। যথাযথ বাজার তদারকি না হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান সিভয়েসকে বলেন, আমরা যখন চিনির গোডাউন বা পাইকারি পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করি তখন আমরা আশেপাশের বাজারগুলোতে গিয়েও বাজার যাচাই করি। কোন প্রকার অসঙ্গতি পেলে আমরা সাথে সাথে জরিমানা করছি। তবে আমরা ভোক্তাদের সহযোগিতা চাই। ভোক্তারা প্রতারণার শিকার হলে ওই দোকানের নাম, ঠিকানা আমাদের জানিয়ে দিলে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেবো।

সিভয়েস/টিএম
 

Nagad

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়