Cvoice24.com

বহিরাগতদের উপদ্রব ঠেকাতে কাস্টমসের দরজায় বসছে ‘এক্সেস কন্ট্রোল মেশিন’

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৪২, ৯ জুন ২০২৩
বহিরাগতদের উপদ্রব ঠেকাতে কাস্টমসের দরজায় বসছে ‘এক্সেস কন্ট্রোল মেশিন’

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে বহিরাগতদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ বেশ পুরনো। কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আস্কারায় পুরো ভবন দাপিয়ে বেড়াত তারা। দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা জিইয়ে থাকলেও সমাধানের তেমন কোন উদ্যোগ নেয়নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিংবা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তাই বহিরাগতদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা এবার নিজ উদ্যোগেই বসাচ্ছেন ‘এক্সেস কন্ট্রোল মেশিন’। ফলে শুধুমাত্র কাস্টমসের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই প্রবেশের সুযোগ পাবে।

জানা গেছে, বহিরাগতদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে কাস্টমস হাউসের দরজায় ‘এক্সেস কন্ট্রোল মেশিন‘ বসানোর প্রস্তাব দেয় সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবে সায় দিয়ে তাদের সঙ্গে দফায় দফায় দফায় বৈঠকে বসে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা। বৈঠকে কোন মডেলের মেশিন বসানো হবে, কিভাবে পরিচালিত হবে, রক্ষণাবেক্ষণ ও খরচ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। পরে সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে একমত হয়ে সমঝোতা চুক্তির সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এরই মধ্যে সংগঠনটি মেশিন বসাতে প্রাথমিকভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা সেরেছে।
নানাবিধ সুবিধা বিবেচনা করে তাদের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেবেন তারা। এ কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে।

কাস্টমসের সাথে জড়িত সিএন্ডএফ এজেন্টরা বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দিনে প্রায় ২শ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও প্রতিষ্ঠানটির প্রতি কোন সুনজর নেই এনবিআরের। এর ফলে বহিরাগতরা নিজেদের কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শাখায় দেদারসে ঘুরে বেড়ায়। এরা মূলত বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগী হিসেবে কাজ করে, ঘুস লেনদেনে সহায়তা করে। কাস্টমসের যাবতীয় অনিয়ম, দুর্নীতি এসব বহিরাগতদের মাধ্যমেই হয়। অথচ কাস্টমসে এদের কোন কাজ নেই। কিন্তু এদের কারণে ভিড় জমে। অনেক সময় স্থানীয় ছেলেরা কোন কারণ ছাড়াই কাস্টমসের ভেতরে হলরুমে ভিড় জমিয়ে রাখে। এদের দেখে সিএন্ডএফ কর্মী মনে হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু সিভয়েসকে বলেন, আমরা কাস্টমসের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা আমাদের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠান আমাদের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের সাথেও কথা বলব। এরপর নানাদিক বিবেচনা করে একটা প্রতিষ্ঠানের সাথে আমরা চুক্তি করব। পাশাপাশি মেশিন স্থাপনের আগে কাস্টমসের সাথে আমরা একটা সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) করব। কারণ এটা কিভাবে পরিচালিত হবে এবং এটার একটা রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আছে। এসব বিষয়ে আমরা আবারো বসবো কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। শুধুমাত্র কার্ডধারীরা মেশিনটি ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে কাস্টমস হাউসে ‘এক্সেস কন্ট্রোল মেশিন‘ বসানোর জন্য এনবিআর থেকে অর্থ বরাদ্দও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা কোন উদ্যোগ না নেয়ায় টাকাটা ফেরত চলে যায়। পাশাপাশি কাস্টমসে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও সার্ভার রয়েছে যা বাংলাদেশের রাজস্বকে রক্ষা (প্রোটেক্ট) করে। এদিকগুলো বিবেচনা করেই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি যাতে করে কাস্টমসের কর্মপরিবেশটা ভালো থাকে। পাশাপাশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষও আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।

এদিকে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, কাস্টমস হাউসের দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সব ধরনের বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ বন্ধে এনবিআরের দেয়া আদেশ এখনও জারি রয়েছে। অথচ এ আদেশ উপেক্ষা করে কাস্টমস হাউসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বাড়ছেই। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস বহিরাগতদের বিষয়ে একটি নোটিশ দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, কাস্টমস হাউসে বহিরাগত কাউকে দেখা গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এরপরও তারা কাজ করে যাচ্ছিল। 

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হল রুম, শুল্কায়ন সেকশন-৩, হিসাব শাখা, শুল্কায়ন সেকশন (বি)-৫ ও অতিরিক্ত প্রশাসন শাখাসহ বিভিন্ন শাখায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেশি থাকে। এসব জায়গায় দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে বহিরাগতদের আটক করা স্বত্ত্বেও মেলেনি মুক্তি। গত ২৫ মে কাস্টমসে প্রসেনজিৎ নামে এক বহিরাগতকে আটক করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের প্রশাসন শাখা। তিনি লিটন দাশ নামে এক অফিস সহায়ককে দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করতেন। এ অপরাধে লিটনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাস্টমসের স্পর্শকাতর সফটওয়্যার কক্ষ থেকে দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করেছিল আনসার সদস্যরা। সেই মামলা এখনো চলমান। এর আগে ২০১৬ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমসে আবদুল কাদের, মোহাম্মদ মিজান, মহিন উদ্দিন ও মোহাম্মদ হোসেন নামে চারজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি মো. আজগর আলী এবং মো. ওবায়দুন্নবী নামে দুই বহিরাগতকে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা।

সিএন্ডএফের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সী সিভয়েসকে বলেন, সিএন্ডএফ এজেন্ট যে উদ্যোগটা হাতে নিয়েছে সেটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছি। পাশাপাশি কাস্টমসের প্রবেশমুখে মেশিনটি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধুমাত্র কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারি ও সিএন্ডএফ এজেন্ট সদস্যরা এর আওতায় থাকবেন। এর ফলে কাস্টমসে বহিরাগতদের আনাগোনা একেবারেই চলে যাবে।

সিভয়েস/টিএম

সর্বশেষ