Cvoice24.com

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ট্রান্সক্রিপ্টে ভুলের মাশুল প্রায় ৫ লাখ টাকা

শারমিন রিমা

প্রকাশিত: ২১:২৮, ৮ মে ২০২২
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ট্রান্সক্রিপ্টে ভুলের মাশুল প্রায় ৫ লাখ টাকা

চলতি বছরের শুরু থেকেই বোর্ড কর্মকর্তাদের একের পর এক গাফিলতির ঘটনায় সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে অসঙ্গতি থেকে শুরু করে তদন্ত কমিটি নিয়ে অনাস্থা এবং ট্রান্সক্রিপ্টকাণ্ড নিয়েও হয়েছে জোর তোলপাড়। এমনকি ইফতার পার্টিতে চেয়ারে বসা নিয়ে টানাটানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসকল ঘটনায় প্রতিবারই তদন্ত কমিটি হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শাস্তির আদেশও আসে মন্ত্রণালয় থেকে কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন আর হয়না। তেমনি গেল মার্চে ট্রান্সক্রিপ্ট কাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডকে মাশুল গুণতে হচ্ছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তবে বরাবরের মতো এ ঘটনায়ও মন্ত্রণালয় থেকে শাস্তির আদেশ এসেছে। কিন্তু বিশাল অঙ্কের এই আর্থিক ক্ষতির পিছনে যারই ভুল হোক না কেন এর মাশুল গুণতে হচ্ছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডকেই। 

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ভুলভাবে মুদ্রিত হয় ৪৪ হাজার ৮৮টি। এতোসংখ্যক ভুল অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের পিছনে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ক্ষতি হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ টাকা ৯৬ পয়সা। সব মিলিয়ে ট্রান্সক্রিপ্ট ইস্যুতে বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ লাখের কাছাকাছি। তবে এর সঙ্গে আনুষাঙ্গিক আরও (অদৃশ্য খরচ) আর্থিক ক্ষতিও রয়েছে যা হিসাবে যুক্ত করা হয়নি। 

এদিকে, এই অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের কাগজ আনা হয় গাজীপুরের ‘দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন’ থেকে। প্রতিটি অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের আমদানি খরচ ৪ টাকা ৫০ পয়সা, প্রিন্টিং খরচ ৫ টাকা, কালি খরচ ১ টাকা ১০ পয়সা এবং আনায়ন খরচ ৩২ পয়সা। ভুলভাবে মুদ্রিত প্রতিটি ট্রান্সক্রিপ্ট বাবদ খরচ পড়েছে ১০ টাকা ৯২ পয়সা করে। যার পুরোটাই বোর্ডের ক্ষতি।

তাছাড়া ১৯৬১ সালের পরীক্ষাবিধি অনুযায়ী— পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় দায়-দায়িত্ব পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের উপর থাকে। তাই ফলাফলে অসঙ্গতি থেকে শুরু করে ভুলভাবে মুদ্রিত অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলির দায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের। 

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড কর্মকর্তা বলেন, ‘ভুল প্রিন্টের ব্যাপারে যখন শোকজ করেছে তখন তিনি (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক) উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) দিদার, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) ও সহকারী প্রোগ্রামার মালেকের উপর দায় চাপিয়েছেন। কিবরিয়া মাসুদ খানের বিরুদ্ধে শোকজের ১৬ দিন পর আবার (ফলাফলে অসঙ্গতি) একই ধরনের অপরাধে দুজনের মধ্যে যার দায় বেশি তাকে শোকজ দেওয়া হয়েছে। সামনে তো দুটো পাবলিক পরীক্ষা। আর এখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়বদ্ধতাই বেশি। আমার এখন জানতে ইচ্ছে করে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ থেকে শুরু করে যাবতীয় গোপনীয় কাজ এই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের হাতে কতটা নিরাপদ?’

একই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল আলীমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সিভয়েসকে বলেন, ‘ভুলভাবে মুদ্রিত অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন সংক্রান্ত কমিটি আমাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। বাকি সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের।’

অন্যদিকে, ভুল তারিখে অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ছাপার কারণে গত ২৯ মার্চ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথকে। এর আগে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে অসঙ্গতির কারণে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৫ মার্চ সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না বোর্ডের কর্মকর্তারা।

কিন্তু গত ৩১ মার্চ এ ঘটনায় (ফলাফলে অসঙ্গতি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব আলমগীর হুছাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ব্যাখ্যা তলব চাওয়া হয়। যদিও সেই ব্যাখ্যার বিষয়ে কোন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। 

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব আলমগীর হুছাইন সিভয়েসকে বলেন, ‘ঈদের ছুটির পর আজই (রোববার) প্রথম কর্মদিবস। ফাইলে তো দেখলাম না। তাই এটার বিষয়ে জানা নেই। আপনি বরং কাল অফিস টাইমে একবার ফোন করেন।’

একই প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব খালেদা আখতারকে মোবাইল করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) মু. ফজলুর রহমানকে মোবাইল করা হলে— ব্যস্ততার অজুহাতে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ২ ডিসেম্বর। আর ফলাফল প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি। অথচ অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ছাপানো হয় ২১ সালের ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখে। অর্থাৎ ভুল তারিখে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ছাপানো হয়। এর আগে ফলাফল প্রকাশের দিন ওয়েবসাইটে ফলাফলে অসঙ্গতি দেখায়। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটিও করে কর্তৃপক্ষ। তা নিয়েও ব্যাপক জলঘোলা কাণ্ড ঘটে শিক্ষাবোর্ডে। 

এ নিয়ে গত ২৮ মার্চ সর্ব প্রথম সিভয়েস২৪ডটকম— এ চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষার ৯ মাস আগেই ফল!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে নড়েচড়ে বসে শিক্ষা বোর্ড। পরে আরও অনেক গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। 

-সিভয়েস/এডি

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়