Cvoice24.com

এমপিওভুক্তির তালিকায় চট্টগ্রামের ১৮ উচ্চ বিদ্যালয়, সর্বোচ্চ ৬টি ফটিকছড়িতে 

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৪৯, ৬ জুলাই ২০২২
এমপিওভুক্তির তালিকায় চট্টগ্রামের ১৮ উচ্চ বিদ্যালয়, সর্বোচ্চ ৬টি ফটিকছড়িতে 

এ বছর নতুন করে ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামের ১৮টি উচ্চ বিদ্যালয়ও এমপিওভুক্তির সেই তালিকায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৬টি স্কুল এমপিওভুক্ত হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলার। 

বুধবার (৬ জুলাই) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ‘চুয়েট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুসারে চট্টগ্রামের এমপিওভুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ফটিকছড়িতে। এ উপজেলায় ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া রাউজান উপজেলার তিনটি, বোয়ালখালী ও সাতকানিয়া দুটি করে এবং মিরসরাই, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও নগরের ডবলমুরিংয়ে একটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকায় রয়েছে।  

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ফটিকছড়ির সুয়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ছৈয়দা সায়েদা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, সুয়াবিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালঘাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও নুর আহমেদ ইঞ্জিনিয়ার মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়। রাউজানের দক্ষিণ গহিরা খান সাহেব এ করিম উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও দক্ষিণ কদলপুর উচ্চ বিদ্যালয়। বোয়ালখালীর হাজী মোহাম্মদ জানে আলম উচ্চ বিদ্যালয় ও আকুবদণ্ডী ওয়ারেস-মোহছেনা উচ্চ বিদ্যালয়। সাতকানিয়র ইছামতি ইয়াকুব মরিয়ম উচ্চ বিদ্যালয় ও এওচিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। 

এছাড়া মিরসরাইয়ের সুফিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চন্দনাইশের বরকল আব্দুল হাই আনোয়ারা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় , বাঁশখালীর কামাল উদ্দীন চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আনোয়ারার জে.কে. এস উচ্চ বিদ্যালয় এবং নগরের ডবলমুরিংয়ের পোস্তারপাড় সিটি করপোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়। 

এই এমপিওভুক্তির ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ২০২২ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতায় নতুন ২ হাজার ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬৬৬টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১ হাজার ১২২টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৩৬টি, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ১০৯টি, ডিগ্রি কলেজ ১৮টি। একইভাবে কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাভুক্ত ৬৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছি। এরমধ্যে রয়েছে এসএসসি ভোকেশনাল অথবা দাখিল ভোকেশনাল ৯৭টি, এইচএসসি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি ২শ’টি, ডিপ্লোমা-ইন-এগ্রিকালচার দুটি, দাখিল মাদ্রাসা ২৬৪টি, আলিম মাদ্রাসা ৮৫টি, ফাজিল মাদ্রাসা ৬টি, ও কামিল মাদ্রাসা ১১টি।’

এমপিওভুক্তি কি

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ যে অর্থ সরকার দিয়ে থাকে তাকে ইংরেজিতে বলা হয় মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল অনুযায়ী এই সহায়তা দেয় সরকার।

সরকারি স্কেল অনুযায়ী বেতন পান এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা। তাতে প্রধান শিক্ষকের বেতন দাঁড়ায় ২৯ হাজার টাকা। একজন সাধারণ শিক্ষকের বেতন ১৬ হাজারের মতো। এর বাইরে রয়েছে বাড়িভাড়া হিসেবে এক হাজার টাকা, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা।

ঈদ উৎসব ভাতা শিক্ষকদের জন্য বেতনের ২৫ শতাংশ আর কর্মচারীদের জন্য বেতনের ৫০ শতাংশ। পয়লা বৈশাখেও একই পরিমাণে উৎসব ভাতা দেয়া হয়ে থাকে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকার প্রায় তিন হাজার নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। তবে আবেদন পড়েছিল নয় হাজারের বেশি।

সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে তাতে কোনো রকমে পাঠদান করলেই হবে না। এমপিও সুবিধা পেতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হার অনুযায়ী সেটি নির্ধারিত হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী এমপিওভুক্ত হতে হলে কলেজ পর্যায়ে অন্তত ৬০ জন পরীক্ষার্থী থাকতে হবে।

মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে তা ৪০ জন। কিন্তু যারা পরীক্ষা দিচ্ছেন তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ পাসের হার থাকতে হবে। মাদ্রাসার জন্য তা ৬০ শতাংশ।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়