Cvoice24.com

এগিয়ে গেলো পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১০, ১২ মে ২০২৪
এগিয়ে গেলো পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা

২০২৪ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। কোভিড মহামারিকাল পরবর্তী গতবারের মতো এবারও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে সব বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে কারণে গত চার বছরের তুলনায় পাসের হারে ‘সামান্য’ ব্যবধান থাকলেও তুলনামূলক এবার ভালো ফল হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড।

তবে গতবারের তুলনায় এবার পাসের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ ৫। 

বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত এবং ইংরেজি দ্বিতীয় বিষয়ে ‘কিছুটা’ পিছিয়ে থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এরমধ্যে সাধারণ গণিত বিষয়ে ফেলের হার প্রায় ৮ শতাংশ, উচ্চতর গণিত এবং ইংরেজি দ্বিতীয় বিষয়ে প্রায় ৬ শতাংশ। আর কোনো বিষয়ে এত পরীক্ষার্থী ফেল করেনি। 

অন্যদিকে, অন্যান্য বছর তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি জনপদের স্কুলগুলোর পরীক্ষার্থীরাও এবার ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। যার কারণে সার্বিক ফলাফলে পাসের হার বেড়েছে এই বোর্ডে। 

রবিবার (১২ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এম এম মুজিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন। এসময় তিনি জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থী কমে যাবার ব্যাখাও দেন।  

ঘোষিত ফল অনুসারে, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। গতবছর পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। এর আগে ২০২০ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯১ দশমিক ১২ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। 

তবে ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সাল— এ তিন বছর কোভিড মহামারির জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হয়। সে ধারাবাহিকতায় এবারও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে। যার হিসেবে গতবারের তুলনায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবারের ফল সার্বিকভাবে ভালো হয়েছে বলে মনে করেন বোর্ড কর্মকর্তারা। 

এদিকে, জিপিএ-৫ অর্জনেও ২০২০ সালের পর এবারই সংখ্যায় ‘কম’ জিপিএ ৫ পেয়েছে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৮২৩ জন। যেখানে গতবার এই সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৪৫০ জনে। গতবারের চেয়ে এবার জিপিএ ৫ কমেছে ৬২৭ জনের। এর আগে ২০২০ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮ জন, ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৯১ জন, ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি, সংখ্যায় যা ১৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। 

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্যান্য বছর পাহাড়ের জনগোষ্ঠীদের পিছিয়ে থাকা ছাড়াও ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং গণিতে তুলনামূলক খারাপ ফল করতো পরীক্ষার্থীরা। এবারও গণিত ও ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে তুলনামূলক পিছিয়ে আছে শিক্ষার্থীরা। তবে সবচেয়ে বেশি আছে পিছিয়ে গণিত বিষয়ে। যে কারণে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। এবার গণিতে পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৭ শতাংশ আর উচ্চতর গণিত বিষয়ে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ইংরেজি দ্বিতীয় বিষয়ে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সব বিষয় মিলিয়ে পাসের হার ৯৯ শতাংশ।

এ বিষয়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এম এম মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সার্বিকভাবে পাসের ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে এবার আমাদের পরীক্ষার্থীরা ভালো করেছে। জিপিএ ৫ কিছুটা কমেছে। ২০২৩ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি। এ কমার পেছনে কারণ গণিত ও উচ্চতর গণিতে আমাদের পরীক্ষার্থীরা তুলনামূলক খারাপ করেছে বলে আমি মনে করি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, করোনাকালের যে ধকল সেটি তারা অতিক্রম করে নিজেদের ট্রেকে ফিরে এসেছে, তারা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সে কারণে তাদের প্রস্তুতিতেও যদি কোনোরকম ঘাটতি থেকে থাকে সেটাও একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করি।’ 

এবারের ফলাফলেও ছাত্রীরা তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো করেছেন। এবার মোট ৮১ হাজার ৪৪৩ জন ছাত্রী ও ৬৩ হাজার ৫৮১ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। ছাত্রীদের মধ্যে পাসের হার ৮৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ছাত্রদের মধ্যে পাসের হার ৮২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এমনকি জিপিএ ৫ পাওয়ার দিক থেকেও এগিয়ে ছাত্রীরা। এবার জিপিএ ৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮২৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৭৩ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৭৫০ জন। 

এছাড়াও পাসের দিক থেকে এবারও এগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা। বিজ্ঞানে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮৪ দশমিক ১১ শতাংশ ও মানবিক বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। 

এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরীর বিদ্যালয়গুলোতে পাসের হার ৮৭ দশমিক ০৬ শতাংশ। মহানগর বাদে জেলায় পাশের হার ৮৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ। খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার ৭২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং বান্দরবান জেলায় ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ। 

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এম এম মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পাসের হারে পিছিয়ে থাকার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি কারণ থাকে পাহাড়ের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া। এবার পাহাড়ি জনপদের স্কুলগুলোর পরীক্ষার্থীরাও ভালো ফল করেছেন। যার কারণে সার্বিক ফলাফলে পাসের হার বেড়েছে এই বোর্ডে।’

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অংশ নেওয়া এক হাজার ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাসের হার শূন্য এমন কোনো বিদ্যালয় নেই। শতভাগ পাস করা স্কুলের সংখ্যা গতবারের চেয়ে একটি বেড়ে ৪৬টি হয়েছে। কিন্তু শতভাগের এই তালিকায় এবারই প্রথম নগরের ১০টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটিও স্থান পায়নি।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়