Cvoice24.com

করোনায় শ্বাসকষ্ট হলে যে দোয়ায় মুক্তি মিলবে

সিভয়েস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:২৫, ২৭ এপ্রিল ২০২১
করোনায় শ্বাসকষ্ট হলে যে দোয়ায় মুক্তি মিলবে

করোনায় অক্সিজেন সংকট

করোনাকালে শ্বাসকষ্ট শুনলেই শিরদাঁড়া দিয়ে হিমশীতল স্রোত বয়ে যায়। ভাইরাসটি সংক্রমণের এক মারাত্মক উপসর্গ এই শ্বাসকষ্ট। কত মানুষ যে এই সমস্যা নিয়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন তার ঠিক নেই। অতিরিক্ত কাশি, কাশতে কাশতে দম বন্ধ হয়ে যাওয়া, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, কাশির সঙ্গে রক্ত বেরোন, শ্বাসকষ্ট হতে হতে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া— এসব উপসর্গের ডাক্তারি নাম রেসপিরেটরি এমার্জেন্সি। এ সময় জরুরি হয়ে পড়ে অক্সিজেন মাস্ক। 

বর্তমানে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে অক্সিজেন জোগান ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। ভারতে তো এরই মধ্যে অক্সিজেন না পেয়ে প্রতিদিনিই হাজারে হাজার মানুষ যোগ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলে। আমাদের দেশেও সেই তালিকাটা কম নয়। 

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এই অসহায় মানবজাতিকে মুক্তি দিতে পারেন কেবল আল্লাহই। আর সেই মুক্তির বার্তা হচ্ছে আল কোরআন, মানুষের কল্যাণেই যার নাজিল হয়েছে। কোরআনে এমন কিছু আয়াত আছে এবং মানবজাতির পথপ্রদর্শক হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেখে যাওয়া হাদিস আছে যেগুলো বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির জন্য শিফা স্বরূপ। 

সুরা বনি ইসরাঈলের ৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ উচ্চারণ : ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল ক্বুরআ’নি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতিুল লিলমু’মিনি-ন। অর্থ : আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।

তাই বিভিন্ন আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কাছে রোগ থেকে মুক্তি চাওয়া উচিত আমাদের। রোগ থেকে মুক্তি লাভে পূর্বশর্ত হচ্ছে আল্লাহর বিধানকে জানা এবং যথাযথ মানার পাশাপাশি পূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস রাখা। রোগ-ব্যাধি থেকে শিফা লাভে কয়েকটি আয়াত তুলে ধরা হলো, সঙ্গে রইলো হাদিসও-

বিসমিল্লাহসহ সুরা ফাতিহা তিলাওয়াত
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ -    الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ -    مَـالِكِ يَوْمِ الدِّينِ -    إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ -    اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ -    صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ – اَمِيْن -

সূরা তাওবার ১৪ নম্বর আয়াত : وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ (ওয়া ইয়াশফি ছুদু-রা ক্বাওমিম মু’মিনি-ন।) অর্থ : এবং মু’মিনদের (মুসলমানদের) অন্তরসমূহ শান্ত করে দেন।

সুরা ইউনুসের ৫৭ নম্বর আয়াত : وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (ওয়া শিফাউ’ল লিমা- ফিচ্ছুদু-রি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনি-ন।) অর্থ : এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য।

সুরা শুআরার ৮০ নম্বর আয়াত : وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ (ওয়া ইজা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফি-নি।) অর্থ : যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।

এদিকে হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) বললেন, আমাদের মধ্যে কেউ যখন অসুস্থ হতো তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ডান হাত রোগীর শরীরে বুলাতেন এবং বলতেন-
اَذْهَبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ - وَاشْفِ اَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ اِلَّا شِفَائُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقْمًا (আজহাবিল বা’সা রব্বান না-সি, ওয়াশফি আনতাশ শা-ফি-, লা শিফাআ’ ইল্লা- শিফা-উকা শিফা-আ’ লা ইউগাদিরু সাক্বমা।) অর্থাৎ হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর। (যেহেতু) তুমি রোগ আরোগ্যকারী। তোমারই আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্য দান। তুমি এমনভাবে রোগ নিরাময় কর, যেন তা রোগকে নির্মূল করে দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)

তবে দূরারোগ্য ব্যধি কিংবা মহামারী থেকে একমাত্র আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াটাই সর্বোত্তম পন্থা। এমন পরিস্থিতিতে সব সময় এ দোয়াটি পড়ার অভ্যাস করা সমীচীন, যা রাসুল (সা.) শিখিয়ে দিয়েছেন: اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ (আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়ামিন সায়্যিল আসক্বাম।) অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দূরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।’ (সূনানে আবু দাউদ, সূনানে তিরমিজি)

তিরমিজিতে এসেছে আরও একটি দোয়া পড়তে বলেছেন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ (আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।) অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগবালাই থেকে আশ্রয় চাই। (সূনানে তিরমিজি)

উপরোল্লিখিত আয়াত ও দোয়াগুলো নিয়মিত তিলাওয়াত করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জটিল ও কঠিন রোগ থেকে তার বান্দাদের হিফাজত করবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সেই আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়