Cvoice24.com

পথশিশু দিবস আজ 

সিভয়েস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০০, ২ অক্টোবর ২০২২
পথশিশু দিবস আজ 

ছবি-সংগৃহীত

আজ ২ অক্টোবর, জাতীয় পথশিশু দিবস। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। মায়ের কোল হলো তাদের নিরাপদ আশ্রয়। পথশিশু অর্থাৎ ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসন তথা তাদের জীবনমান উন্নত করার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষে দিবসটি পালিত হয়।

পথশিশু শব্দটি সেই সব শিশুদের প্রকাশ করে, যাদের কাছে রাস্তাই (বিস্তৃত অর্থে বস্তি, পতিত জমি ইত্যাদিও এর অন্তর্ভুক্ত) তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান অথবা জীবিকা নির্বাহের উৎস হয়ে উঠেছে এবং তারা দায়িত্বশীল কোনো প্রাপ্তবয়স্ক কর্তৃক সুরক্ষিত, পথ নির্দেশনা প্রাপ্ত ও পরিচালিত নয়।

পথশিশুরা স্কুলে যায় না। রাস্তাঘাটে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে বা অন্য কাজ করে তারা। এর কারণ তাদের বাবা-মা কাজ করতে অক্ষম বা তাদের উপার্জন অতি সামান্য, যা তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট নয়।

ধারণা করা হয় যে বাংলাদেশে ছয় লাখের বেশি পথশিশু বসবাস করছে এবং এদের ৭৫ ভাগই রাজধানী ঢাকায় বসবাস করে। মানব উন্নয়ন সূচকে ১৩৮তম স্থানে থাকা একটি দেশ, যেখানে জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সেখানে এই শিশুরা সামাজিক স্তরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে।

আশঙ্কাজনক হারে বাংলাদেশে বেড়ে চলেছে পথশিশুর সংখ্যা। এদের বেশির ভাগই অপুষ্টি, যৌনরোগ ও মাদকের নেশায় আক্রান্ত। মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পথশিশু।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবন করে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাবলেট ও আট শতাংশ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নেশা করে থাকে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মতে, ঢাকা বিভাগে মাদকাসক্ত শিশুর প্রায় ৩০ শতাংশ ছেলে এবং ১৭ শতাংশ মেয়ে। মাদকাসক্ত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও ইউনিসেফের ২০১৯ সালে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ পথশিশু রয়েছে। ঢাকায় আছে সাত লাখ। গবেষণা তথ্যে বলা হয়, ২০২৪ সাল নাগাদ দেশে মোট পথশিশুর সংখ্যা হবে ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৩০।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, প্রতিটি শিশুই স্কুলে যাবে। একটি শিশুও ঝরে পড়বে না, রাস্তায় ঘুরবে না, টোকাই হবে না। পথশিশুরাও স্কুলে যাবে, পড়াশোনা করবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমলাপুর ও কারওয়ান বাজারে পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এই দুই কেন্দ্রে ১৬০ জনের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পথশিশু সুরক্ষায় কিছু প্রকল্প চলমান। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা ও বরিশালে সাতটি পুনর্বাসনকেন্দ্র রয়েছে।   

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়