Cvoice24.com

চট্টগ্রামে যে কারণে শনাক্ত করা যাচ্ছে না ওমিক্রন

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৫, ১৪ জানুয়ারি ২০২২
চট্টগ্রামে যে কারণে শনাক্ত করা যাচ্ছে না ওমিক্রন

ওমিক্রন।

হঠাৎ পুরোনো রুপে ফিরে যাচ্ছে করোনা সংক্রমণ। মৃত্যু সংখ্যা কম হলেও গত কয়েকদিনে শনাক্তে রয়েছে বাঁধভাঙা প্রভাব। প্রতিদিনই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে আগের দিনের শনাক্তের সংখ্যা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। এখনও পর্যন্ত দেশে নতুন এ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ জন। ৩৩ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের কেউ না থাকলেও করোনার নতুন এ ধরণ শনাক্তে চট্টগ্রামে নেই কোন মেশিন। ফলে চট্টগ্রাম থেকে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে ঢাকার আইএসডিআরে।

অন্যদিকে ওমিক্রন শনাক্তের জন্য কিট এনেও সিকোয়েন্সিং মেশিন না থাকায় সরাসরি জানা যাচ্ছে না চট্টগ্রামের কেউ এ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কিনা। 

এদিকে নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট কোভিড ১৯ এর চেয়েও দ্রুত ছড়ায় বলে আপাতত আগের মেশিন দিয়েই ওমিক্রন শনাক্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় তাও ঝুলে আছে ওমিক্রন শনাক্তকরণ পরীক্ষা। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই ওমিক্রন শনাক্তের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড জীবাণুর সবচেয়ে বেশি মিউটেট হওয়া সংস্করণ ওমিক্রন। আবার ওমিক্রণের লক্ষণ খুব মৃদু হওয়ায় একবার ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকারকে আরও বেশি কঠোর হতে হবে বলে মত তাদের।

যে কারণে আটকে আছে ওমিক্রন শনাক্ত

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সিভাসুর নিজস্ব উদ্যোগে গত ৫ ডিসেম্বর ওমিক্রন শনাক্তে কিটগুলো আনা হয়েছে। এতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই কিট দিয়ে পরীক্ষা করলে ওমিক্রনের ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যেতে পারে কিন্তু তাও শতভাগ নয় বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

এতদিন নমুনা কম থাকায় আটকে ছিল ওমিক্রন শনাক্ত। কিন্ত বর্তমানে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ অসুস্থতাজনিত কারণে দেশের বাইরে থাকায় এবং সিভাসুর প্যাথলজি এন্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও ল্যাবপ্রধান এবং গবেষক ড. জুনায়েদ সিদ্দিকী নিজেও করোনা পজিটিভ হওয়ায় আটকে আছে এ শনাক্তকরণ পরীক্ষা। সিভাসুর উপাচার্য দেশে ফিরে এলেই সিভাসুতে জিনোম সিকোয়েন্সের কাজ শুরু হতে পারে। সেইসঙ্গে কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ওমিক্রন শনাক্তের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির।

তিনি সিভয়েসকে বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে ওমিক্রন স্পেশাল কিছু না। করোনার চেয়ে ওমিক্রনের চিকিৎসা কম। অতো বেশি প্রাণঘাতী না তবে এর (ওমিক্রন) সংক্রমণ বেশি হবে। তাই করোনা পজিটিভ এটাই যথেষ্ট। এর জন্য যে আলাদা করে ওমিক্রন শনাক্ত করতে হবে তা কিন্তু না। তবে বিআইটিআইডিতে আমরা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করবো। কিট আনার জন্য বলেছি। তাছাড়া সিভাসুতে কিছু কিট আছে সেখানেও পরীক্ষা করা যায় সেখানেও করার চেষ্টা করছি আমরা। সিভাসুর ভিসি সাহেব অসুস্থ। উনি এলেই সিভাসুতে আমরা পরীক্ষা শুরু করতে পারবো।’

এদিকে, ওমিক্রনের সংক্রমণ কোন পর্যায়ে আছে তা জানতে হলে জিনোম সিকোয়েন্স করা প্রয়োজন। করোনা পজিটিভ কোনো রোগীর শরীরে ওমিক্রনের সংক্রমণ আছে কি-না জানতে হলেও সিকোয়েন্সিংয়ের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সিভাসুর প্যাথলজি এন্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও ল্যাবপ্রধান এবং গবেষক ড. জুনায়েদ সিদ্দিকী। 

তিনি সিভয়েসকে বলেন, ‘ভাইরাসের প্রকৃতি বা ন্যাচার গবেষণার বিষয়। হঠাৎ করে বলা কঠিন। এখন যে ওমিক্রন এলো তার স্বভাব অল্পতে দ্রুত ছড়ায়। পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে তাদের ট্রান্সমিশন সাইকেল চেন্জ করে একেকটা ভাইরাসের স্বভাব পরিবর্তন হয়ে যায়। এটার সাথে আরও অনেক ফ্যাক্টর আছে যার জন্য জিনোম সিকোয়েন্স করা প্রয়োজন। তাহলে ওমিক্রনের ন্যাচার মিউটেশনসহ বিভিন্ন দিক জানতে পারলে চিকিৎসা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব হতো। যদিও বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন করোনার লাস্ট স্টেজ এ ওমিক্রন।’

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়