Cvoice24.com

সরকারের কাছে ৩১ কোটি টাকা পায় স্যান্ডর, আবারও বন্ধ হতে পারে ডায়ালাইসিস সেবা

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১৭, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩
সরকারের কাছে ৩১ কোটি টাকা পায় স্যান্ডর, আবারও বন্ধ হতে পারে ডায়ালাইসিস সেবা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই কিডনি নষ্টওয়ালা মায়ের ডায়ালাইসিসের খরচ কমানোর দাবিতে রাস্তায় নেমে পুলিশের মার খেয়ে জেল খেটে বেরিয়ে আসার ক্ষত এখনো শুকায় নি। এর মধ্যেই এবার সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে ডায়ালাইসিস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর। কাঁচামাল সংকটে দুই একদিনের ভেতর সেবা বন্ধ হতে পারে বলে নোটিশ ঝুলিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার এ নোটিশ দেয় তারা।

এর আগে গতবছরের শুরুতেও একইভাবে ঘোষণা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখে ডায়ালাইসিস সেবা। পরে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাসে পুনরায় সেবা চালু করে স্যান্ডর। 

গত তিন বছর ধরে সরকারের কাছে ডায়ালাইসিস ফি বাবদ ৩১ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় বাধ্য হয়ে সেবা বন্ধের ঘোষণা দিতে হতে পারে বলে জানিয়েছে স্যান্ডর কর্তৃপক্ষ। আর বারবার সেবা বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েন কিডনি রোগীরা। 

ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধের ওই নোটিশে স্যান্ডর জানায়, গত নভেম্বর থেকে অনেক কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আংশিক এবং কেউ কেউ পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ করে নগদ মালামাল ক্রয় করে ডায়ালাইসিস সেবা চালু রাখলেও বর্তমানে আমাদের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ না থাকার কারণে মালামাল ক্রয় কোনও প্রকারেই সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল স্বল্পতায় আগামী দু-একদিনের মধ্যে সেবা বিঘ্নিত হতে পারে। যেহেতু ডায়ালাইসিস সেবা অত্যন্ত স্পর্শকাতর জরুরি সেবা, সেহেতু সংশ্লিষ্ট সকল রোগীদের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অগ্রিম অনুরোধ করা হলো। 

এ বিষয়ে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্যান্ডরের ম্যানেজার (হিসাব) নাজমুল হাসান সিভয়েসকে বলেন, ‘সেবা বন্ধ নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। আমরা কোনোভাবেই সেবা বন্ধ করতে চাই না বা বন্ধ করছি না। কিন্তু একটা অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে। গত তিন বছর ধরে একই সংকট চলছে। আমাদের এখন বকেয়া ৩১ কোটি টাকা। আমরাও চাকরি করি। আমরা যাদের থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কাঁচামাল কিনে আনি তারা এখন আমাদেরকে আর বাকিতে সরবরাহ করতে চাইছে না। আর কাঁচামাল না পেলে ডায়ালাইসিস সেবা কন্টিনিউ রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ডায়ালাইসিস সেবা অনেক ব্যয়বহুল। আমরা চাই রোগীরা যেন কোনোভাবে কষ্ট না পান। তাই আগে থেকে আমরা রোগীদের জানিয়ে দিচ্ছি তারা যেন বিকল্প ব্যবস্থা করে নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন একশোর বেশি রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবা দিচ্ছি। প্রতিদিনই কিন্তু দেনা বাড়ছে। সেটা এখন ৩১ কোটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই দেনা বাড়ছে কিন্তু পরিশোধ হচ্ছে একেবারে আংশিক। যার কারণে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অমায়িক তারা সহযোগিতা করছেন। কিন্তু এখানে শুধু একপক্ষ না। সবাইকে সমানভাবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলে অন্তত কোনো একটা সমাধান পাওয়া যেত।’

অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে— স্যান্ডরের সেবা বন্ধের নোটিশের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। স্যান্ডর মেডিকেইডস ও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে রোগীদের। তবে আগামী তিনদিনের ভেতর চমেক হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে ডায়ালাইসিস মেশিন চালু করা হবে। 

এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান সিভয়েসকে বলেন, ‘স্যান্ডরের সঙ্গে আমরা সরাসরি সম্পর্কিত না। আমরা সরকারের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় অধিদপ্তর জানিয়েছে বিষয়টি তারা দেখছেন। আশা করি কোনো সমস্যা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মেশিনগুলো আগামী তিন দিনের ভেতর চালু করা সম্ভব হতে পারে। মেশিন বসানোর কাজ চলছে। স্যান্ডর ৩১টি মেশিন দিয়ে সেবা দিচ্ছে আর আমাদের চালু হবে ১৩টি। সেগুলো চালু হলে আমরা এক তৃতীয়াংশ রোগীকে সেবা দিতে পারবো। কিন্তু তাও আমাদের চাপ থাকবে অনেক। তারপরেও আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ে বলেছি।’

সিভয়েস/এসআর

Nagad

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়