Cvoice24.com

তিন সংস্থার দুই ঘণ্টা নিষ্ফল অভিযান!

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
তিন সংস্থার দুই ঘণ্টা নিষ্ফল অভিযান!

চলমান ডেঙ্গু প্রকোপে সংকট দেখিয়ে চড়া দামে ডিএনএস (ডেক্সট্রোজ নরমাল স্যালাইন) স্যালাইন বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্যালাইন সংকটকে পুঁজি করে ফায়দা নিচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফার্মেসিগুলো। বেশি দামে বিক্রির এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায় সরকারের তিনটি সংস্থা। 

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। কিন্তু তিন সংস্থার দুই ঘন্টাব্যাপী নিষ্ফল অভিযানে মেলেনি কোনো অনিয়মের প্রমাণ। 

তবে অভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে যাওয়ার খবর আগেই (গতরাতে) পৌঁছে গেছে ফার্মেসিগুলোতে। তাই অভিযানে কোনো অনিয়মের প্রমাণ খুঁজে পাননি সংশ্লিষ্টরা। এ যেন ঢাক ডোল পিটিয়ে চোরকে সর্তক করে অভিযানে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। যদিও অভিযানে গিয়ে ক্রেতাদের বিক্রয় রশিদ দিতে বিক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, অভিযান চলাকালে বেশ কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরে দেখেন তিন সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। এ সময় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ব্যবহৃত ডিএনএস (ডেক্সট্রোজ নরমাল স্যালাইন) স্যালাইনের দাম যাচাই করা হয়। সব দোকানে স্যালাইনের মজুদ পর্যাপ্ত থাকলেও চড়া দামের স্যালাইন বিক্রির প্রমাণ পাননি তারা। যদিও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে দাবি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. মহিউদ্দিনের।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে অভিযানের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলে গতকাল থেকে চট্টগ্রামে অভিযান শুরু হয়। আজ যে ডিসপেনসারিতে (ফার্মেসি) অভিযান চলবে তাও জানিয়ে দেওয়া হয়। এখন আমাদের মধ্যে কেউ না কেউ তাদের সতর্ক করেছে। যে কারণে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, যেখানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে কীভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলো না? অন্যান্য সময় অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে ফলাও করে প্রচার করা হয় না। সেখানে এবার যে তাদের ওখানে অভিযান চালাবে সে বিষয়টা গতরাতে সাংবাদিকসহ অনেককে জানানো হয়েছে।

তবে অভিযান শেষে দাবি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. মহিউদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযানে এসেছি। বেশ কয়েকটি দোকানে স্যালাইনের মজুদ ও দাম যাচাই করেছি। স্যালাইনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। নির্ধারিত মূল্যে স্যালাইন বিক্রি করা হচ্ছে। 

চড়া দামে স্যালাইন বিক্রি নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, স্যালাইন বিক্রিতে অনিয়ম নেই সেটা বলা যাবে না। বিক্রেতারা গ্রাহকদের বিক্রয় রশিদ দেন না। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত দামে স্যালাইন বিক্রি হচ্ছে তা জানা যাচ্ছে না। বিক্রাতাদের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। যদি তা করা না হয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাসরিন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অভিযান চালিয়েছি। এতে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। তবে ক্রেতাদের রশিদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এসএম সুলতানুল আরেফীনও উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়