Cvoice24.com

হরেকরকম ভূতেরা বন্দি সিএমপি কমিশনারের ‘ভূতিনিয়ামে’

শারমিন রিমা

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ৭ মার্চ ২০২২
হরেকরকম ভূতেরা বন্দি সিএমপি কমিশনারের ‘ভূতিনিয়ামে’

ভূত কি কখনো ভীতু হয়? হয়তো মজার নয়তো ছিঁচকাঁদুনে! এর উত্তরে হয়তো সবাই বলবে ‘না’। তবে ভূতিনিয়ামের ভূতেরা কিন্তু এমনই। তাদের কেউ ভীতু, কেউ আবার খুব কনফিউজড, কেউ বিষন্ন আবার কেউ ছিঁচকাঁদুনে। সত্যিটা হলো ভূতিনিয়ামের ভূতেরা খুব মজার। এতো সব ভূতেরা কিন্তু একসঙ্গেই থাকে। যাদের সবাইকে ভূতিনিয়ামের পাতায় বন্দি করেছেন লেখক সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর।

যিনি নেশায় লেখক, পেশায় একজন চৌকষ কর্মকর্তা। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার। ‘ভূতিনিয়াম’ তাঁর রচিত শিশুতোষ গল্পের বই। সব্যসাচী মিস্ত্রীর প্রচ্ছদ ও আব্দুল্লাহ আল মারূফ অলংকরণে অক্ষরবৃত্তের প্রকাশনায় এবারের বইমেলায় বইটি প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর (লেখকের) প্রথম বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ। প্রথম সংস্করণটি ‘ভূতের ছানা’ নামে প্রকাশিত হয়েছিল ২০০২ সালে। রাষ্ট্রীয় সেবামূলক পেশায় জড়িত হওয়ায় নতুন কোনো বই প্রকাশ করেননি সৃষ্টিশীল এ লেখক। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবার শিশু-কিশোরদের জন্য গল্পের ঝাঁপি খুলেছেন লেখক সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর।

পেশাগত ব্যস্ততার কারণে বই প্রকাশ না করলেও তিনি বিচ্ছিন্নভাবে লেখালেখি চালিয়ে যান। সেই লেখাগুলোর সম্মিলিত প্রয়াসই এ ভূতিনিয়াম বই। আর সমাজ গঠনে শিশুদের মূখ্য ভূমিকা রয়েছে। তাই শিশুদের মনোজাগতিক বিকাশের জন্য লেখক শিশু সাহিত্যকেই বেছে নিয়েছেন। বইমেলায় ৬ মার্চ বইটি প্রকাশের পরপরই পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

শিশু কিশোরদের জন্য অনেক লেখক বই লিখেছেন। তবে ভূতকে উপজীব্য করে শিশুদের জন্য কম বই লিখেছেন লেখকেরা। ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের ‘ভূতের নামে বানোয়াট গালগল্প’ নামের ছড়ার একটা চরণে আছে ‘এত্তো এত্তো ভালো ভূতের গল্প কেনো লিখিস না?’ আর এই চরণের মতন করে সেইসব ভালো ভূতেদের নিয়ে গল্প লিখেছেন পুলিশ কর্মকর্তা সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর।

শিশু কিশোরদের জন্য তাঁর লেখা ‘ভূতিনিয়াম’ বইটিতে মোট ৮টি গল্প রয়েছে। যেখানে ভূতিনিয়াম একটা ভূতের নাম। যে ভূতটা বিষন্ন ও খুব কনফিউজড প্রকৃতির। তাকে নিয়েই মূলত ছোট একটা গল্প আছে বইটিতে। শিশুদের মনে নতুন কিছু জানার আগ্রহ ও কৌতুহল নিয়ে ভূতদের যত কাণ্ডকারখানা আছে সব যেন এ ভূতিনিয়ামেই আছে। 

বইয়ের নয় নম্বর পৃষ্ঠায় আছে ‘ভূতের ছানা কিড়মিড়’। ২২ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘আনন্দ পাঠশালা’। ৩০ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘রোকনের বন্ধু টোকন’। ৪৫ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘নানা ভাইয়ের ব্যাট’। ৫৪ নম্বর পৃষ্ঠায় আছে ‘ভূতিনিয়াম’। ৬২ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘আলাউদ্দিন সাহেবের লাইটার’। ৬৮ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘সত্যি ভূতের গল্প’। ৭৭ নম্বর পৃষ্ঠায় শেষ গল্প ‘সর্দারের পেটপূর্তি’।

ভূতিনিয়াম নিয়ে কথা হয় লেখক ও সিএমপি কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীরের সঙ্গে। মুঠোফোনে পাঠকদের জন্য সিভয়েসকে তিনি শুনালেন ভূতিনিয়াম লেখার পেছনের গল্প। তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলায় অনেক বই পড়েছি। আমার শৈশবটা আমি বলবো অসাধারণ ছিল। আসলে এ লেখাগুলো ছাত্রাবস্থায় যখন ছিলাম তখনকার লেখা। আমার মনে হয়েছে আমি ছোটবেলায় বই পড়ে যেমন আনন্দ পেয়েছি ঠিক তেমনি আমি চাই বর্তমান সময়ের বাচ্চারা বই পড়ে আনন্দ পাক। তাই বিষয়টি শেয়ার করেছি। তাছাড়া ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত লেখা হয় না। তবে এবারের বইমেলায় গিয়ে মনে হলো বাচ্চাদের মনোজাগতিক বিকাশের জন্য কিছু করা যায় কিনা। সে ভাবনাতেই গল্পগুলোকে একত্রে করে ভূতিনিয়াম এসেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা আছে বাচ্চাদের জন্য আরও কিছু বই লেখার। দেখা যাক আগামীতে কি করা যায়।’

এদিকে, ভূতিনিয়াম প্রসঙ্গে অক্ষরবৃত্তের প্রকাশক আনিস সুজন বলেন, ‘বইমেলা শুরুর ১৪তম দিনে বইটি প্রকাশিত হয়। ৬ তারিখ মেলায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক সাড়া জাগায়। মূলত বইটি শিশুকিশোর উপযোগী বই এবং বইয়ের গল্পগুলো আকর্ষণীয়। আর বইটিতে গল্প বলার ঢং অসাধারণ। শিশু কিশোরদের এক নিমিষে নিয়ে যাবে অন্য জগতে। বিষয় বৈচিত্র্যের কারণে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বইটি এবারের বইমেলায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।’

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়