Cvoice24.com

আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন নেতারা, প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কর্মীরা

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৫২, ৪ ডিসেম্বর ২০২২
আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন নেতারা, প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কর্মীরা

সঞ্চালনা করছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল তিনটায় বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও বেলা ১২টা থেকেই স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য দেয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের স্থানীয় এমপি, কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। বক্তব্যে নেতারা চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া নানা প্রকল্পের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। আগামীতেও প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত নৌকার প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বানও জানান নেতারা। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুপুরের জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা পলোগ্রাউন্ডমুখী স্রোতে যুক্ত হয়েছেন। ভোরের আলো ফুটতেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রং বেরংয়ের টি শার্ট ও বাদ্য যন্ত্র নিয়ে জনসভাস্থলের আশাপাশে এসে অবস্থান নিতে থাকেন। এরপর সিআরবি, পুরোনো রেলস্টেশন, টাইগারপাস দিয়ে বানের স্রোতের মত নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। এসময় স্লোগানে-স্লোগানে মুখরিত হতে থাকে জনসভাস্থল ও চট্টগ্রামের রাজপথ।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর তিনটায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চট্টগ্রাম নগরে দীর্ঘ এক দশক পর আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড থেকে কমলা রংয়ের টি শার্ট পরে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে থাকেন। এছাড়া চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে সমাবেশ প্রাঙ্গণে এসেছেন। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা নির্ধারিত রঙের টুপি ও গেঞ্জি পরে সমাবেশে হাজির হয়েছেন।

রোববার সকাল ৯টার দিকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রবেশের মূল গেট খুলে দিলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রবেশ করতে থাকনে। রোদ উপক্ষো করে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। সবার মুখে স্লোগান, ঢাকঢোলে পুরো জনসভাস্থলে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ। হাজার হাজার নেতাকর্মীর জনসভাস্থলে প্রবেশ নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। জনসভাস্থলসহ পুরো চার কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। বসানো হয়েছে বড় পর্দার মনিটর। তিন শতাধিক মাইকে প্রচার হচ্ছে জনসভার কার্যক্রম। সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বিটিভিসহ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে। 

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন সিভয়েসকে বলেন, আমরা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি। পুরো পলোগ্রাউন্ড মাঠসহ আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে আছেন। কেউ নিয়ম ভাঙলে আমরা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করতে পারব। এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে। সুশৃঙ্খলভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা মিছিলসহকারে মাঠে প্রবেশ করছেন। জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নগরজুড়ে এখন সাজসাজ রব উঠেছে। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সিভয়েসকে বলেন, আজ ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে সাড়ে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। এরমধ্যে পলোগ্রাউন্ড মাঠসহ পুরো চট্টগ্রাম মহানগরে আমাদের ৬ হাজার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে। নিরাপত্তার বিষয়টি আরো জোরদার করতে বাইরে আরো দেড় হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। 

সবশেষ ২০১২ সালের ২৮ মার্চ পলোগ্রাউন্ড মাঠে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের মহাসমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ বছর ৯ মাস পর একই মাঠে আবার ভাষণ দেবেন তিনি। এ উপলক্ষে শুধু পলোগ্রাউন্ড মাঠ নয়, নগরের টাইগারপাস, লালখানবাজার, কাজীর দেউড়ি, নিউমার্কট এলাকা তোরণে ছেয়ে গেছে।
 

Nagad

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়