Cvoice24.com

প্রেম-প্রণয়-সংসার কিছুই আটকাতে পারেনি অভিমানি আইনজীবীকে

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:২৭, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
প্রেম-প্রণয়-সংসার কিছুই আটকাতে পারেনি অভিমানি আইনজীবীকে

প্রতীকী ছবি

নগরের কোতোয়ালি থানার আলকরণ ২ নম্বর গলির বাসিন্দা রিংকু দাস দীর্ঘ দিনের সহপাঠির সঙ্গে প্রেম করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন গত চার বছর আগে। পেশায় কর আইনজীবী রিংকুর স্বামীও একজন কর আইনজীবী। দুজনের সংসারে রয়েছে ৩ বছরের শিশু কন্যা পরমা দাশ। কিন্তু প্রেম-প্রণয়-সংসার কিছুই আটকাতে পারেনি অভিমানি রিংকুকে। স্বামী-শ্বাশুড়ির সঙ্গে অভিমান করে সোমবার রাতের কোনও এক সময়ে নিজ রুমের সিলিংয়ের সাথে কাপড় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। যদিও এসময় স্বামী-শ্বাশুড়ি কেউ বাসায় ছিলেন না। 

মঙ্গলবার সকালে নগরের ডবলমুরিং থানার পাঠানটুলির নাজির পুল এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ওই আইনজীবীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রিংকুর গ্রামের বাড়ি কোতোয়ালি থানার আলকরণ হলেও স্বামী রাজন দাশের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়নে দুরদুরী গ্রামে। রিংকু দাস তার স্বামী-কন্যা ও শ্বাশুড়িকে নিয়ে থাকতেন নাজিরপুলে। 

ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন সিভয়েসকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ভাড়াবাসা থেকে কর আইনজীবী রিংকু দাসের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে স্বামীর সাথে অভিমান করে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে মেয়ে ও স্বামীর পরিবারের লোকজন জানিয়েছে। এরপরও হত্যা না আত্মহত্যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ 

স্বামী কর আইনজীবী রাজন দাশ সিভয়েসকে বলেন, ‘গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে আমি সাতকানিয়া গ্রামের বাড়ি যাই। রিংকু মেয়েকে নিয়ে বাসায় ছিল। ওই দিন রাতে কেন বাসায় আসিনি তা নিয়ে গতকাল (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঝগড়া হয়। পরে রাত ৮টা থেকে মোবাইলে কল দিয়ে গেলেও তার ফোন ব্যস্ত পাই। সকালে খবর পেলাম সে আত্মহত্যা করেছে।’

কেন আত্মহত্যা করতে পারে আইনজীবী রিংকু দাস। তার কারণ বলতে গিয়ে স্বামী কর আইনজীবী রাজন দাস বলেন, ‘সে আর আমি একই সাথে কমার্স কলেজে পড়ালেখা করেছি। একই সাথে সিএও করেছি। তার সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর গত চার বছর আগে বিয়ে করি। কিন্তু বাসায় আমার মা থাকতো বলে তার সাথে ঝগড়া বিবাদ হতো। এখন কেন কি কারণে আত্মহত্যার মত সিদ্ধান্ত নিল আমি বুঝচ্ছি না।’ 

বোনের আত্মহত্যার ঘটনাকে নিয়তিকে দায়ী করে নিহত রিংকু দাসের স্বামীর পক্ষে বললেন তার বড় ভাইও। এ আত্মহত্যা নিয়ে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ নেই বলেও জানান তারা।  এমনকি ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ সৎকার করতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু ডবলমুরিং থানা পুলিশ তা নাকচ করে ময়না তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করতে চান বলে জানিয়ে দেন।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়