Cvoice24.com

৪২ দিনেই ৫ আসামি মুক্ত, কার গুলিতে নিহত এখনও অজানা 

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২২, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১
৪২ দিনেই ৫ আসামি মুক্ত, কার গুলিতে নিহত এখনও অজানা 

নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত আজগর আলী বাবুল।

নগরের মোগলটুলিতে নির্বাচনী সহিংসতায় আওয়ামী লীগ কর্মী আজগর আলী বাবুল কার গুলিতে নিহত হয়েছেন তা এখনও জানতে পারেনি মামলার তদন্ত সংস্থা নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এমনকি হত্যাকাণ্ডে কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং কার গুলিতে মারা গেছে বাবুল সেটিও অজানা ডিবির। কিন্তু এরই মধ্যে একে একে জামিনে বের হয়ে গেছেন প্রধান আসামি সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরসহ ৫ আসামি। এজহার নামীয় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করলেও খুনের ৪২ দিন পরও অধরা আরও ৬ আসামি। 

গত ১২ জানুয়ারি রাতে নগরের মোগলটুলি মগপুকুরপাড় এলাকায় ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল কাদেরের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন নিহত এবং অপর একজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সেজান মাহমুদ সেতু বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল কাদেরসহ ১৩ জনকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার রাতেই মোগলটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাদেরসহ অন্তত ২৫ জনকে আটক করে মনসুরাবাদ পুলিশ লাইনের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কাদেরসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের নাম আছে মামলার এজহারে। গত মাসের শেষের দিকে দেলোয়ার রশিদ (৪২) নামের এজাহারভুক্ত আরও এক আসামিকে চকবাজার থানার কাপাসগোলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। মামলাটি তদন্ত করছেন গোয়েন্দা পুলিশের (পশ্চিম) পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন। তবে এখনও এজহার নামীয় ৬ আসামি ধরা ছোঁয়ার বাইরে। 

ঘটনার পর আবদুল কাদেরসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন নিহত আজগর আলীর ছেলে সেজান মোহাম্মদ সেতু। কাদের ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— হেলাল উদ্দিন, ওবায়দুল কবির মিন্টু (৪০), আব্দুল ওয়াদুদ রিপন (৪২), আব্দুর রহিম রাজু ওরফে বিহারি রাজু (৪৫), আসাদ রায়হান (২৯), আলা্উদ্দিন আলো ওরফে পিচ্চি আলো (৩৫), ইমরান হোসেন ডলার (২৪), দিদার উল্লাহ দিদু (৪৮), সালাউদ্দিন সরকার (৪৫), দেলোয়ার রশিদ (৪২), মো. আলমগীর (৪৫) ও আব্দুল নবী (৪৭)।

এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ইতোমধ্যে জামিনে বের হয়ে গেছেন, আব্দুল ওয়াদুদ রিপন, আব্দুর রহিম রাজু ওরফে বিহারি রাজু, আলাউদ্দিন আলো ওরফে পিচ্চি আলো ও আব্দুল নবী। সর্বশেষ মঙ্গলবার জামিনে বের হন মামলার প্রধান আসামি সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদের ওরফে মাছ কাদের।  

জানতে চাইলে মামলার তদারক কর্মকর্তা ডিবির (পশ্চিম) উপ-কমিশনার মনজুর মোরশেদ সিভয়েসকে বলেন, ‘মামলার অগ্রগতি নিয়ে মন্তব্য করার মত তেমন কিছু নেই। যারা আদালত থেকে জামিনে বের হচ্ছেন সেটা আদালতের বিষয়। আমরা পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রাখছি। এছাড়া আমাদের তদন্ত অব্যাহত রাখছি।’ 

যদিও মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট অপর এক কর্মকর্তা বলছেন, গত ১২ জানুয়ারি রাতে মাছ কাদের ও কাউন্সিলর বাহাদুরের সমর্থকদের মধ্যে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলাগুলি হয়। রাতে এ ঘটনা হওয়ায় মূলত কার গুলিতেই বাবুল মারা যান তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি ডিবি। এছাড়া যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের কেউ রিমান্ডে স্বীকার করেনি যে তাদের কেউ গুলি করেছে। এমনকি কোন ধরনের অস্ত্রের গুলিতে বাবুল মারা যান সেটাও জানতে পারেনি ডিবি। হত্যাকাণ্ডের পর সংগ্রহ করা গুলির খোসা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চট্টগ্রাম ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নেওয়া হলেও ব্যালাস্টিক প্রতিবেদন এখনও পায়নি নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ৭ পয়েন্ট ৫৬ এমএম পিস্তলের গুলিতেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। 

২৮ নম্বর ওয়ার্ডের গতবারের কাউন্সিলর আব্দুল কাদের ওরফে মাছ কাদের নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এবার দল তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বাহাদুরকে মনোনয়ন দেয়। বাহাদুর শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। কাদেরের আগে ২০০০ সাল থেকে ২০১৪ সাল নাগাদ এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের পর কাদের জেলে গেলে অনেকটা ফাঁকা মাঠে গেল ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন বাহাদুর। 

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়