Cvoice24.com
corona-awareness

প্রবর্তকে ইসকন মন্দিরের উদ্বোধন

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:০০, ১৫ মে ২০২১
প্রবর্তকে ইসকন মন্দিরের উদ্বোধন

রাজস্থানের মাকরানা মার্বেল পাথরে তৈরি ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৫ মে) সকালে ভার্চুয়ালী এ মন্দিরের উদ্বোধন করেন ইসকনের জিবিসি ও অন্যতম গুরু শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ।

এ উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল সুদর্শন চক্র হোম, সুদর্শন চক্র প্রতিষ্ঠা, জগন্নাথ দেব, বলদেব, সুভদ্রাকে রত্ন সিংহাসণে আরহন, রাজভোগ নিবেদন, দাতা ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণে বিশেষ আরতি। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসকন জিবিসি ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী মহারাজ, জিবিসি বাংলাদেশ প্রতিনিধি নাড় গোপাল দাস, ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ, ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, শ্রী শ্রী কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক জগতগুরু গৌরাঙ্গ দাস, চট্টগ্রাম ইসকনের বিভাগীয় সম্পাদক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, ইসকন প্রবর্তক শ্রীকুষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ দাস ব্রহ্মচারী, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ি মন্দিরের অধ্যক্ষ সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী, কক্সবাজার মন্দিরের অধ্যক্ষ রাধা গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী, নোয়াখালী মন্দিরের অধ্যক্ষ রসপ্রিয় দাস, ফেনী মন্দিরের অধ্যক্ষ নিতাই গৌরাঙ্গ দাস, বান্দরবান মন্দিরের অধ্যক্ষ উজ্জ্বলবর্ণ দাস, রাঙামাটি মন্দিরের অধ্যক্ষ নিতাই নুপুর দাস, ঢাকা স্বামীবাগ আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক মাধবমুরারী দাস ব্রহ্মচারী, সিলেট মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ভাগবত করুনা দাস, ইসকন প্রবর্তক মন্দিরের সাধারণ দারুব্রহ্ম দাস ব্রহ্মচারী, নন্দনকানন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তারণ নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী, দিব্য নিমাই দাস ব্রহ্মচারী, রুপেশ্বর গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী, স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী, রাধাকান্ত কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ।
 
বিশেষ আরতিতে অংশগ্রহণ করেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, বাগিশিক সভাপতি অ্যাডভোকেট তপন কান্তি দাশ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল দেসহ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।  

ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের মায়াপুর থেকে শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ বলেন, ইসকন প্রবর্তক মন্দিরটি স্থাপত্যশৈলিতে বাংলাদেশের সেরা মন্দির। অপূর্ব সৌন্দর্যমন্ডিত এ মন্দিরে ভক্তরা এসে তাদের ভক্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন। আধ্যাত্মিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি মন্দিরটি হবে পর্যটকদের জন্য এক অনন্য স্থান। মন্দির নির্মাণে যারা সহযোগিতা করেছেন এবং শ্রম দিয়েছেন তাদের প্রতি আর্শীবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসকনের অন্যতম গুরু শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ।    

অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তি ও করোনা থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। জগতের কল্যাণে ও মানবমুক্তির জন্য বিশেষ আরতি ও হোমযজ্ঞ করা হয়। করোনা মহামারিতে সীমিত আকারে মন্দির উদ্বোধন ও কোনো ভক্তকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দিতে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

রাজস্থানের মাকরানা মার্বেল দিয়ে নির্মিত হয়েছে পুরো মন্দির। দরজা-জানালার কাঠ সংগ্রহ করা হয়েছে আফ্রিকা ও মায়ানমার থেকে। ১৮ গন্ডা জায়গায় ৯টি গম্বুজবিশিষ্ট এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত। তিনতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এই মন্দিরের নকশা করেছেন ভারতীয় স্থাপত্যবিদ পুন্ডরিক বিদ্যাদাস ব্রহ্মচারী। ২০১০ সাল থেকে শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। ২০২০ সালের মার্চে মন্দিরটি উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় ৩০ জন ও বাংলাদেশি অর্ধশত শ্রমিক মিলে ১০ বছর ধরে একটানা কাজ করে গড়ে তুলেছেন পুরো মন্দিরের কাঠামো।

প্রবেশপথে মন্দির গাত্রে অর্জুন কর্তৃক শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ দর্শনের রেপ্লিকা, বসানো হয়েছে বৈকুণ্ঠের দ্বারপাল জয়-বিজয় মূর্তি। মন্দিরের বাইরে রয়েছে রামভক্ত হনুমান ও শ্রী বিষ্ণুর বাহন গড়র পাখির বিগ্রহ। ভেতরে প্রতিটি দেওয়ালজুড়ে আছে চোখ জুড়ানো নকশা, বসেছে ঝাড়বাতি। মায়ানমার থেকে আনা কাঠ দিয়ে তৈরি দরজা-জানালায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শৈল্পিক কারুকাজ।

মন্দিরে আফ্রিকা থেকে আনা কাঠ দিয়ে নির্মিত বিগ্রহের আসন সেজেছে রত্নালংকারে। মন্দির গর্ভে বিগ্রহের মুখোমুখি রত্ন সিংহাসনে স্থাপিত হয়েছে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের বিগ্রহ। দরজায় শ্রীরাম লীলা, নৃ-সিংহ লীলা, গৌড়লীলা, জগন্নাথ লীলা, শ্রীবিষ্ণুর বাহন গরুড় দেব, শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য, মহাপ্রভুর পার্ষদ নিত্যানন্দ, শ্রীঅদ্বৈত, গদাধর, শ্রীবাস এর ম্যুরাল খোদাই করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আছে দৈত্যরাজ বলির মস্তকে চরণ ছোঁয়ানো বিষ্ণুর প্রথম অবতার বামন দেবের প্রতিচিত্রও।

মন্দির ঘিরে গড়ে উঠবে বৃহৎ ভক্তিবেদান্ত গ্রন্থাগার, ম্যাচলেস গিফট শপ, ভক্তিবেদান্ত দাতব্য চিকিৎসালয়, বৃদ্ধাশ্রম, গো-শালা, ১০৮ সর্বতীর্থ পরিক্রমা মন্দির, বিশাল অতিথিশালা, নিরামিষ ভোজনালয়-গোবিন্দাস, মায়াপুর ইনস্টিটিউট অব হায়ার অ্যাডুকেশন, বৈদিক ফার্ম কমিউনিটি, বৈদিক গুরুকূল, অষন্ড হরিনাম সংকীর্তন মঞ্চ।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়