Cvoice24.com
corona-awareness

মাস্ক পরে চসিকের পাবলিক টয়লেটে ভাঙচুর, উপড়ে ফেলেছে নামফলক

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:২৪, ৯ জুন ২০২১
মাস্ক পরে চসিকের পাবলিক টয়লেটে ভাঙচুর, উপড়ে ফেলেছে নামফলক

অক্সিজেনের পাবলিক টয়লেটে দুর্বৃত্তদের হামলা

নগরের অক্সিজেন মোড়ে ওয়াটার এইডের অর্থায়নে দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) নির্মিত পাবলিক টয়লেটে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে পাবলিক টয়লেটের জানালা, নামফলক সহ উদ্বোধনী স্মারক ভেঙে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি অক্সিজেন মোড়ের পাবলিক টয়লেটটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাসির উদ্দীন।

বুধবার (৯ জুন) ঘটনাস্থলে সরেজমিন পরিদর্শনে পাবলিক টয়লেটের জানালা, নামফলক, উদ্বোধনী স্মারকস ইত্যাদি ভাঙা অবস্থায় আশেপাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। টয়লেটের সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য বড় ছোট ইট-পাথর। 

স্থানীয়রা জানিয়েছে, গতরাত সাড়ে ১১টায় ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত পাবলিক টয়লেটের নামফলক ও উদ্বোধনী স্মারক লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। ৫-৭ মিনিট এভাবে ইট-পাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি করে তারা পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের বেশিরভাগ কিশোর ও যুবক। তবে মুখে মাস্ক পরে থাকায় তাদের শনাক্ত করা করতে পারেনি তারা।

ঘটনার পর বুধবার ১২টার দিকে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবু ও দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (ডিএসকে) প্রজেক্ট ম্যানেজার আরিফাতুল জান্নাত।

এ বিষয়ে ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবু সিভয়েসকে বলেন, ‘আমি যতটুকু জানতে পেরেছি গতকাল ১১ টার পরে এই টয়লেটে অতর্কিত হামলা করা হয়। পরে ডিএসকে প্রজেক্ট ম্যানেজারসহ আজ আমি স্থানটি পরিদর্শনে গিয়েছি। তিনি প্রয়োজনে আইনের সহায়তা নিবেন বলেও আমাকে জানিয়েছেন। 

আর কারা এই হামলা করেছে সেটা সবাই বুঝে, আলাদা করে কিছু বলার নেই- যোগ করেন তিনি।

দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (ডিএসকে) প্রজেক্ট ম্যানেজার আরিফাতুল জান্নাত সিভয়েসকে বলেন, সকাল ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত এই পাবলিক টয়লেটটি খোলা থাকে। টয়লেটের সুপারভাইজার গতরাত সাড়ে ১০ টার দিকে টয়লেট বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর সাড়ে ১১ টার দিকে কে বা কারা টয়লেটের গ্লাস, নামফলক, লগোসহ বাইরের জিনিসপত্র ভেঙে ফেলে। 

তিনি আরো বলেন, ‘ভাঙচুরের এ ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় কাউন্সিলর সহ টয়লেটটি ভিজিট করেছি। ওই পয়েন্টের পুলিশ বক্সে জানিয়েছি। তারা আমাকে বলেছিল, থানায় তারা অবহিত করবে, থানা থেকে পুলিশ এসে আগে ঘটনাস্থল দেখবে। তারপর পুলিশ আমাদের জানাবে জিডি হবে নাকি মামলা হবে। এখন এই সিদ্ধান্তের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’

ডিএসকে প্রজেক্ট ম্যানেজার পুলিশের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার কথা জানালেও পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান সিভয়েসকে বলেন, ‘অক্সিজেনে পাবলিক টয়লেটটি একটি পেট্রোল পাম্পের পাশে যার চারিদিক থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় আমরা দেখেছি দূর থেকে কেউ একজন ঢিল মেরেছে যার ফলে টয়লেটের গ্লাস ভেঙে গেছে। এখন ঢিলটি কি উদ্দেশ্যে মারা হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই স্থানের আশেপাশে সবসময় পুলিশ থাকে। অতর্কিত হামলা বা অন্য কোনো কিছু এখানে আমরা ঘটতে দেখিনি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। কেউ যদি এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা পক্ষ-বিপক্ষ জনিত কোনো অভিযোগ করে তাহলে অবশ্যই আমরা তা তদন্ত করে দেখবো।’
 

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়