Cvoice24.com
corona-awareness

বাবুল আক্তারের দুই সন্তানকে পিবিআই অফিসে হাজির করার সময় ১৫ দিন

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১৭, ১৩ জুন ২০২১
বাবুল আক্তারের দুই সন্তানকে পিবিআই অফিসে হাজির করার সময় ১৫ দিন

২০১৬ সালের ৫ জুন নগরের জিইসি মোড়ে পুত্র মাহিরকে স্কুলে বাসে তুলে দেওয়ার সময় গুলিতে ও ছুরিকাঘাতে খুন হন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। পাঁচ বছরের মাথায় এসে স্বয়ং বাবুল আক্তারই স্ত্রী হত্যার মূল হোতা হিসেবে এখন জেলে। সেই মামলার তদন্তে পিবিআইয়ের কাছে একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে মাহির খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। সেই মাহির ও তার বোন টাপুরের সঙ্গে কথা বলতে চায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমা। অনেকবার নিজেরা চেষ্টা করে নিরুপায় হয়ে দ্বারস্ত হন আদালতের। আদালতও বাবুলের পিতা ও ভাইকে ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন বাবুল-মিতুর দুই সন্তানকে পিবিআই কার্যালয়ে হাজির করতে। 

রোববার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমান পিবিআইয়ের আবেদেনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 

পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা সিভয়েসকে বলেন, ‘বাবুল আক্তারের ছেলে ও মেয়ে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তাদের সাথে কথা বলার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। তাই আদালতের সরণাপন্ন হয়েছি। এখন আদালত বাবুল আক্তারের বাবা ও ভাইকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দুই সন্তানকে পিবিআই কার্যালয়ে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’ 
 
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের প্রকাশ্য সড়কে গুলিতে ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা আক্তার মিতু। ওই দিন রাতে তার স্বামী তৎকালীন পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত এসপি বাবুল আক্তার বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। অনেকবার আলোচিত এ মামলার চার্জশিট দেওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও কোন অগ্রগতি ছিল না। বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ অব্যাহতভাবে হত্যাকাণ্ডের জন্য বাবুল আক্তারকে দায়ী করতে থাকেন। তবে পুলিশের তরফ থেকে কখনোই এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি ওই সময়ে। গোয়েন্দা পুলিশ এরআগেও বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। শুরু থেকে চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়। 

গত ১১ মে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততা মেলায় বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে আইনিভাবে বাদিকে গ্রেপ্তারের সুযোগ না থাকায় আদালতে তাকে হাজির করার পর ১২ মে মিতুর পিতার মোশাররফ হোসেনের করা নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। একই সাথে বাবুলের করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়। 

গত ১২ মে মিতুর বাবার করা মামলায় বাবুল আক্তার ছাড়াও মামলার অপর আসামিরা হলেন— কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, এহতেসামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, খায়রুল ইসলাম, সাইফুল ইসলম সিকদার, শাহজাহান মিয়া। এদের মধ্যে ওয়াসিম ও আনোয়ার আগে থেকেই জেলে। সাকুকে ওই দিন রাতে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে এবং বাবুল আগে থেকেই পিবিআইয়ের হেফাজতে ছিল। এদের মধ্যে মুছাকে ২০১৬ সালের ২২ জুন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ থাকলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে বারবার। অন্যদিকে শুরু থেকে কালু অধরা। এছাড়া ভোলা ও শাহাজাহান জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছেন। গত ২৯ মে বাবুল আক্তারকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফেনী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়