Cvoice24.com
corona-awareness

করোনা মুক্তির প্রার্থনা চট্টগ্রামের ঈদের নামাজে

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪৫, ২১ জুলাই ২০২১
করোনা মুক্তির প্রার্থনা চট্টগ্রামের ঈদের নামাজে

ছবি: সিভয়েস

করোনাকালে বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জমিয়তুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। একই সময়ে চট্টগ্রামের প্রতিটি মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টায় প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। 

এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা নুর মুহাম্মদ সিদ্দিকী।  নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয়। এরপর দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। 

মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানায় হাজারও হাত। খতিব ও ইমাম করোনাভাইরাস থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে আল্লাহর রহমত কামনা করেন। এ সময় ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় জমিয়তুল ফালাহ প্রাঙ্গণ।

মোনাজাতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তৌফিক দিতে আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় টিকাসহ যাবতীয় পদক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা কামনা ও মহামারির সম্মুখযোদ্ধা চিকিৎসকসহ সবার জন্য দোয়া করেন মুসল্লিরা। করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পেতে নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গলও কামনা করা হয়। এ সময় বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন লালদীঘি শাহী জামে মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। নগরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে সকাল সাড়ে ৭টায় সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (র.) চশমা মসজিদ ঈদগাহ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ ও চসিক মা আয়েশা সিদ্দিকা জামে মসজিদে (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন) ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নামাজ শেষে সামর্থবান মুসল্লীরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি পশু জবাই করেন। কোরবানি মানে শুধু পশু জবাই নয়। কবির ভাষায় ঈদুল আজহা মানে 'সত্যাগ্রহের শক্তির উদ্বোধনের দিন; মনের পশু হত্যা করার দিন'। ত্যাগের দিন হলেও তো ঈদ বলে কথা! তার ওপর কয়েক দিনের 'গরুখোঁজা'। তবু ক্লান্তি নেই। 

চার হাজার বছর আগে হজরত ইবরাহিম (আ.) মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যাত হন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। সেই থেকেই চালু হয় কোরবানিতে পশু জবাই করার নিয়ম।

ইবরাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমা স্মরণ করে মুসলমানরা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ কামনায় পশু কোরবানি করে। সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কোরবানি করা ফরজ। ঈদের পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার সুযোগ আছে।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়