Cvoice24.com

চট্টগ্রামে মেট্রোরেল : সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চায়না প্রতিষ্ঠানকে আবেদন করতে বলেছে মন্ত্রণালয়

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২২
চট্টগ্রামে মেট্রোরেল : সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চায়না প্রতিষ্ঠানকে আবেদন করতে বলেছে মন্ত্রণালয়

ঢাকায় দেশের প্রথম মেট্রোরেল। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পর চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর মেট্রোরেল নিয়ে আড়াই বছর আগের সমীক্ষা ফের আলোচনায় আসে। মাসখানেক আগে এ মেট্রোরেলের বিস্তারিত সম্ভ্যাবতা যাচাই করতে একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় চসিক।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে বসছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগ্রহ প্রকাশকারী ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে’ সরাসরি মন্ত্রণালয়ে তাদের সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিষয়ে আবেদন করতে বলেছেন মন্ত্রী। প্রতিষ্ঠানটির আবেদন যাচাই করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে চট্টগ্রামের মেট্রোরেলের বিষয়ে। 

চসিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে চায়নার এ প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের ১৯ মে সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই প্রতিষ্ঠানটি আজকের বৈঠকে প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব উপস্থাপনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব দেখার পরই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এ সিদ্ধান্ত দেন।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক সিভয়েসকে বলেন, ‘মেট্রোরেল বিষয়ে আমরা প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাই করে সেটা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত এসেছে চায়নার যে কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে তাদেরকে মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি (আবেদন) দিতে। এরপর যাচাই করে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিবে। 

এর আগে তারা (চাইনিজ প্রতিষ্ঠান) আমাদের এমওইউ (সমাঝোতা স্মারক) সই করার প্রস্তাব দেয়। আমরা এমওইউ না করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। তারপর আজকের এই সিদ্ধান্ত—যোগ করেন এই প্রকৌশলী।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রাক যোগ্যতা সমীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান বাসস্থান ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসালট্যান্টস লিমিটেড নগরীতে মেট্রোরেলের তিনটি র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইনের প্রস্তাব করে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে দুই লেভেলে (উপরে-নিচে) মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের জন্য আড়াই বছর আগে মেট্রোরেল নিয়ে ওই সমীক্ষায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারকে মেট্রোরেলের ‘প্রতিবন্ধকতা’হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনটি রুটে মোট সাড়ে ৫৪ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন ও ৪৭টি স্টেশন প্রস্তাব করা হয়। প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা ধরে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয় ৮৫ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ২৬ কিলোমিটার (২০টি স্টেশন), সিটি গেইট থেকে নিমতলা হয়ে শাহ আমানত সেতুর গোল চত্বর পর্যন্ত লাইন-২ এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার (১২টি স্টেশন) এবং অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গিবাজার ও পাঁচলাইশ থেকে একেখান পর্যন্ত লাইন-৩ এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার (স্টেশন ১৫টি)।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়