Cvoice24.com

হরতালে ভাঙচুর করলে ব্যবস্থা— চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:০৩, ৫ আগস্ট ২০২২
হরতালে ভাঙচুর করলে ব্যবস্থা— চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শুক্রবার বিকেলে আন্দরকিল্লা সিটি করপোরেশন চত্বরে এক অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি।

হরতাল-ধর্মঘটের নামে ভাঙচুর করলে আইন-শৃংখলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি। 

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা সিটি করপোরেশন চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। 

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি হরতাল ডাকতে পারে, ধর্মঘট ডাকতে পারে, আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু অহেতুক যদি যানবাহন বন্ধ করে, আমাদের জনসাধারণের কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করে, জানমালের সমস্যা করে কিংবা কোনো রক্তারক্তি, ভাঙচুর করে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কাজটি সঠিকভাবে করবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অনেককেই এর মধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যারা বাইরে আছেন তাদের মধ্যে দুয়েকজনকে শিগগিরই দেশে আনা হবে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সবাইকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিলো, কারণ তারা ভালো করেই জানতো, বঙ্গবন্ধুর রক্ত যাদের ধমনীতে প্রবাহিত, তাদের কেউ বেঁচে থাকলে খুনিদের বিচার একদিন হবে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেত। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তা হতে দেয়নি। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আবার বঙ্গবন্ধু কন্যার ডাকে আজকে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবধরনের সহযোগিতা করছি। এই দেশ হলো হিন্দু, মুসলামন, বৌদ্ধ খ্রিষ্টানের দেশ। এই দেশে সবাই স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সবকিছুতে সমান অধিকার পাবে। অনেকেই ইতিহাস বিকৃত করে অনেক কথা বলছেন। বঙ্গবন্ধুর নামটাও মুছে ফেলার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন৷ আমরা অনেক দৃশ্য দেখেছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দৃশ্য কোনো দিন ভুলতে পারবো না। ১৫ আগস্টের কথা কোনো দিন ভুলবো না। কী অপরাধ করেছিলো বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরা। এসব কিছুর আজকে হিসাব নিকাশের সময় এসেছে। কারা এর সুবিধাভোগী? বঙ্গবন্ধুকে খুন করে খুনি, কুলাঙ্গাররা বাংলাদেশকে অন্ধকারের জগতে ডুবিয়ে দিয়েছিল।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম নগরের কমান্ডার মোজাফ্ফর আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ছয় দিনব্যাপী এ শোকাঞ্জলি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। কাদের মদদে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছিল, সেই সব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীর মুখোশ উন্মোচন করা হোক। ইতিহাসের জন্য এটা দরকার।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় নেতা সরোয়ার আলমের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিরীণ আখতার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক রাসেল, নগর পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ও পুলিশ সুপার এস এম রাশিদুল হক।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়