Cvoice24.com

শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের কমান্ডার গিট্টু মানিক গ্রেপ্তার

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ১৭ আগস্ট ২০২২
শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের কমান্ডার গিট্টু মানিক গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার মানিক প্রকাশ গিট্টু মানিক।

শিবির সাজ্জাদের অন্যতম সহকারী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মানিক (৪০)। সাজ্জাদের হয়েই প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদাবাজি, ডাকাতি খুনসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ করে আসছিল লুকিয়ে। ভারত থেকে সাজ্জাদই নেতৃত্ব দিচ্ছিলো এসব অপকর্মের। 

তবে সম্প্রতি বায়োজিদের একটি ফোম ফ্যাক্টরিতে চাঁদা চেয়ে না পাওয়ায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে সেই অপরাধ সাম্রাজ্যে চরম আঘাত হেনেছে পুলিশ। দেশে সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়া সেই মানিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১৭ আগস্ট) তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস জাহান। এর আগে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট‌) দিবাগত রাতে খবর পেয়ে হাটহাজারী থানার চৌধুরীরহাট ছড়ারকুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তার মানিক প্রকাশ গিট্টু মানিক নগরের বায়েজিদ এলাকার হামিদপুর এবাদুল্লাহর হাজীর বাড়ির নুর মোহাম্মদ ছেলে।  

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস জাহান বলেন, ‘ভারতে পলাতক শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো। এর আগেও ২০১১ সালের ১১ জুলাই নগরের বায়েজিদ এলাকা থেকে একে-৪৭ রাইফেল ও দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল গিট্টু মানিক।’ 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ দেশে থাকা তার ‘বিশেষ বাহিনীর’সদস্য গিট্টু মানিকসহ অন্যান্য সদস্যদের পুনরায় সংগঠিত করে চাঁদাবাজি করে আসছিলো।’ 

প্রসঙ্গত গত ২০ জুলাই বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতা তলিতে কমফোর্ট হোমটেক্স মেট্রেস এণ্ড পিলো ফ্যাক্টরীতে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়। এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুকিশ জড়িত মোবারক হোসেন ও জিসান নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে প্রাথমিক পর্যায়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় সাজ্জাতের হয়ে কাজ করে তারা। এর ধারাবাহিকতায় এই দলের পালের গোদা মানিককেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গিট্টু মানিকের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় অস্ত্র, হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজির পাঁচটি মামলার মধ্যে ২টির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও গত দশ বছর সে আত্নগোপনে ছিলো। 

জানা যায়, ২০১১ সালের ৪ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিশ্বরোড চৌরাস্তার মোড় থেকে চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও শিবির ক্যাডার সরওয়ার এবং ম্যাক্সনকে গ্রেপ্তার করে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার তৎকালীন ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। 

পরে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ সেই বছরের ৬ জুলাই ভোর ৪টায় বায়েজিদ থানার ওয়াজেদিয়া হামিদপুর এলাকায় তাঁদের সহযোগী শিবির ক্যাডার মানিকের বাড়ির পেছনে পুকুরপাড় থেকে এক বস্তা অস্ত্র উদ্ধার করে। 

অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল একটি একে-৪৭ রাইফেল ও ২৭ রাউন্ড গুলি, একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি, দেশে তৈরি একটি বন্দুক, একটি দেশি ওয়ান শুটার গান এবং একটি এলজি।
 

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়