Cvoice24.com

প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সিভয়েস২৪ ডেস্ক
১৯:০৩, ১৩ জুন ২০২৬
প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।

শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজারের ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশের সকলের কাছে আহ্বান জানাব, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে—এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজ থেকেই প্রত্যেকে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।’

তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল হলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে,’ বলেন তিনি।

পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দেই—একটি পরিষ্কার, দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলি, যেখানে তারা সুস্থভাবে বসবাস করতে পারবে।’

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য প্রতি বছর অন্তত পাঁচ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে মোট ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে সরকার গঠন করতে পারলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা।’

সবার প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের বাতাসকে আরও বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর করে তোলা সম্ভব।

এ সময় জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজ নিজ জেলাকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব অঞ্চলে পরিণত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কাজের সূচনা করেন তিনি এবং পরে খালপাড়ে একটি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন।

পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—এই অঙ্গীকার নিয়ে সরকার উন্নয়ন, কৃষকের কল্যাণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। 

তিনি বলেন, ‘দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের ২০ কোটি মানুষ। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, পাতলী খালের পুনঃখনন কৃষি, সেচব্যবস্থা, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এটি সম্পন্ন হলে প্রায় সাড়ে আট হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য ও ব্যয়মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হার্টের রিং, কিডনি ডায়ালাইসিসসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা উপকরণের ওপর কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ কম খরচে চিকিৎসা নিতে পারে।

বাজেট নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি; বরং কিছু পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে এবং ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে।

পাতলী খালকে তিনি একটি ঐতিহাসিক প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এরও আগে সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান।

সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা এবং সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফর শেষে রাতে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।