image

আজ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ ,


সেপসিস সিটিউশন মানেই করোনায় মৃত্যুর পরোয়ানা

সেপসিস সিটিউশন মানেই করোনায় মৃত্যুর পরোয়ানা

করোনায় সেপসিস ‌সিটিউশন মানেই মৃত্যুর দুয়ারে করাঘাত করার সামিল। কারণ বিশ্বে এযাবতকালে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের বেশিরভাগ রোগীর মৃত্যুর জন্য দায়ী এই সেপসিস পরিস্থিতি।
 
‘সেপসিস' এমন একটি অবস্থা যখন প্রাণঘাতী কোনো জীবাণু একজন মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। যার ফলে শরীরের সেল টিস্যুর ক্ষতি, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়া এবং সবশেষে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্ব বিখ্যাত স্বাস্থ্য সাময়িকী ল্যানসেট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে এক চতুর্থাংশ মৃত্যুর কারণ ‘সেপসিস' সিটিউশন। তাদের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০১৭ image সালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে মারা গেছেন ৪ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ। এছাড়া ২০১৫ সালে শুধু জার্মানিতে এমন পরিস্থিতিতে ৭৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ ছিল। সম্মিলিতভাবে কোলন, স্তন, ফুসফুস, প্রোস্টেট ক্যান্সারে মৃত্যুর চেয়েও এই সংখ্যাটি দ্বিগুণ।
 
‘সেপসিস' এর উচ্চ ঝুঁকি সত্ত্বেও এই বিষয়ে জার্মানির দক্ষতা এবং অগ্রিম ধরা পড়ার হার অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর চেয়ে কম। এ কারণে জার্মান সেপসিস ফাউন্ডেশন সেপসিস ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার সমস্ত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাধ্যতামুলকভাবে৷

সেপসিসের ঝুঁকিতে কারা?
ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, এইডসের মতো রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। এদের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসের মৃত্যুর বড় কারণও এই সেপসিস পরিস্থিতি। আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা এই ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকছেন। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীনে করোনা ভাইরাসে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে তেরো দশমিক দুই ভাগই হৃদরোগে ভুগছিলেন৷ নয় দশমিক দুই ভাগের ডায়বেটিস ছিল। ৪ দশমিক ৪ ভাগের ছিল উচ্চ রক্তচাপ। আট ভাগের ছিল দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট আর ৭ দশমিক ৬ ভাগের ছিল ক্যান্সারের মতো রোগ।

সেপসিসে আক্রান্ত কিনা কিভাবে বুঝবেন?
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ছত্রাকজাতীয় বিভিন্ন অণুজীব সেপসিস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে অনায়াসে এর পেছনে যে রোগগুলো ভূমিকা রাখে তার মধ্যে অন্যতম রয়েছে নিউমোনিয়া, গলার ক্ষত সংক্রমণ, মূত্রণালীর সংক্রমণ ইত্যাদি ৷ পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ অন্যান্য মৌসুমি ভাইরাস- যেমন করোনা ভাইরাস, ইবোলা, ইয়েলো ফিভার, ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু অথবা বার্ড ফ্লু ভাইরাসও রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে।

শরীরের কিছু দ্রুত পরিবর্তনও এসময় দেখা দেয় যেমন রক্ত চাপ কমে যাওয়া ও সেই সঙ্গে হৃদ স্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া, উচ্চ জ্বর, ঘন ঘন শ্বাস প্রশ্বাস নেয়া, হঠাৎ প্রচণ্ড অসুস্থবোধ হওয়া, বলক্ষয়কারী দুর্বলতা এমন সব পরিস্থিতিও সেপসিসের প্রাথমিক আলামত হিসাবে বিবেচ্য।

আসুন জেনে নিই সেপসিসের চিকিৎসা কী এবং কিভাবে?
অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর এমন সব পরিস্থিতি ধরা পড়ে দেরিতে। এক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, শরীরে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা ও ‘ভেন্টিলেশন' নিশ্চিত করতে হয়। রোগীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সচল রাখতে দিতে হয় বিভিন্ন ধরনের থেরাপি। কিন্তু এই ধরনের চিকিৎসা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই হাসপাতালগুলোতে বছরে ২৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয় এই রোগীদের পিছনে। তার চেয়েও বড় বিষয়, আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলেও অনেক রোগীকেও এই সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না সীমিত সুযোগের কারণে। সেপসিস পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নেয়া রোগীদের অর্ধেকই পরবর্তীতে বড় ধরনের আর কোনো সমস্যায় ভোগেন না। বাকি অর্ধেক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও বিভিন্ন সংক্রমণ, কিডনি বিকল হওয়া, হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগতে পারেন৷ অনেকের দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হতে পারে।

তাই সেপসিস পরিস্থিতির যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করানোই উত্তম। যত আগে তা ধরা পড়বে এবং চিকিৎসা করানো যাবে ততই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে।

হোমিওপ্যাথিতে করোনা ভাইরাসসহ বিভিন্ন সংক্রমিত রোগব্যাধির ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে শাসনতান্ত্রিক চিকিৎসা শুরু করতে পারলে আক্রান্ত রোগীকে অনায়াসে এই ভয়াবহ সেপসিস সিটিউশনের ক্ষেত্রকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

এ জাতীয় মাইক্রন অনুজীবী, যেগুলি মারাত্মক ধরনের ছোঁয়াছে ও সংক্রামক যেমন- কোবিড,সাস,মাস,সোয়াইন ফ্লু, ডেঙ্গু, ইবোলা প্রভৃতির ক্ষেত্রে সন্দেহজনক সময়কালে কালক্ষেপণ না করে একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এছাড়া হোমিওপ্যাথিতে ওধুষগুলি প্রায়শ যেকোনো প্রকার সেপসিস সিটিউশনেঅত্যন্ত কার্যকর ও জীবন রক্ষাকারী। ওষুধগুলো হল- Arsenicum alb, Champora, Carbo veg, Heper sulpher, Acid nitricum, Justicea adatoda, Natrum sulpher, Echenasia, Clendula indica,  Baptisia, pyrozenum, Tuber Bovinum etc.

ডা. একেএম ফজলুল হক সিদ্দিকী
লেখক: বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের বিভাগীয় সদস্য ও কলামিস্ট

সিভয়েস/এসসি

আরও পড়ুন

সহকারী সার্জন হলেন সাতকানিয়ার ডা. জোবায়ের

করোনাকালীন মহাদুর্যোগে জরুরি ভিত্তিতে ৩৯তম বিশেষ বিসিএস থেকে নির্বাচিত বিস্তারিত

মৃতদেহ থেকে করোনা ছড়ায় না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য কারও সংক্রমণের প্রমাণ বিস্তারিত

করোনাভাইরাস কেন এত অপ্রতিরোধ্য?

করোনা মহামারি পৃথিবীটাকেই দুম করে বদলে দিয়েছে। এত দ্রুততায় এটি ছড়িয়েছে যে বিস্তারিত

করোনার ঝুঁকি এড়াতে বাড়িতে কী করবেন?

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে করোনার ঝুঁকি এড়াতে সারাদেশ লকডাউন করা হয়েছে। বিস্তারিত

করোনার ঝুঁকিতে ডায়াবেটিস রোগীদের করণীয়

করোনা সংক্রমণে ডায়াবেটিস রোগী, হার্ট ফেইলিউরের রোগী, কিডনি ফেইলিউরের রোগী, বিস্তারিত

ঢামেকের চার চিকিৎসক কোয়ারেন্টাইনে

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চার চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। বিস্তারিত

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে স্বাস্থ্য পরিচালকের শ্রদ্ধা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস বিস্তারিত

করোনাভাইরাস: লক্ষ্মণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী

করোনাভাইরাস: লক্ষ্মণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায় কী, কতটা মারাত্মক, কোথা থেকে বিস্তারিত

কিডনী রোগীর ডায়ালাইসিস নয়

মূত্র যন্ত্রের এবং মূত্রের যে কোনো পীড়া সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে বিস্তারিত

সর্বশেষ

বাঁশখালীতে এনআইডি, জন্মসনদ, সার্টিফিকেট জালিয়াতি, কম্পিউটার জব্দ

বাঁশখালীতে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ, হলফনামা, সার্টিফিকেট এবং বিস্তারিত

করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া চিকিৎসকের পাশে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল

করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল শিশু স্বাস্থ্য বিস্তারিত

১২ জুলাই খুলছে হাফিজিয়া মাদ্রাসা

আগামি বারোই জুলাই দেশের সব হাফিজিয়া মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বিস্তারিত

বান্দরবানে ৬ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা

বান্দরবা‌নের বাঘমারায় ৬ জন‌কে গু‌লি ক‌রে হত্যার ঘটনায় বান্দরবান সদর বিস্তারিত

সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত, এই ওয়েব সাইটের যেকোন লিখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনি