Cvoice24.com

নাশকতার মামলায় আসামি ছিলেন বাবা, মেয়ে পেলেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের পদ

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৫৫, ১ আগস্ট ২০২২
নাশকতার মামলায় আসামি ছিলেন বাবা, মেয়ে পেলেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের পদ

২০১৩ সালে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবাসে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি নুরুল আমিন টুলু ; সেই নুরুল আমিন টুলুর মেয়ে জাহিদা আক্তার টুম্পাকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের ছাত্রী বিষয়ক উপ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এমন ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাদের সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বাবা মামলার আসামি ছিলেন এটি স্বীকার করে নিয়ে টুম্পা বলছেন— ষড়যন্ত্রমূলকভাবেই তার বাাবাকে ওই মামলায় আসামি করা হয়েছিল। 

তবে টুম্পা যে জোবরা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সে জোবরা গ্রামেরই আরেক স্থায়ী বাসিন্দা চট্টগ্রাম মহানগর যুব মহিলা লীগের সিনিয়র সদস্য মোক্তার বেগম মুক্তা সিভয়েসকে বলেছেন,‘পারিবারিকভাবেই টুলু জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। টুলুর মেয়ে জেলা ছাত্রলীগের নেত্রী হতে যাচ্ছে শুনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিষয়গুলো জানিয়েছিলাম।’ 

রবিবার (৩১ জুলাই) মধ্য রাতে ঘোষিত ৩১৬ সদস্যের এই কমিটিতে টুম্পা ছাড়াও উপ সম্পাদক করা হয়েছে সিমলা দত্ত নামে আরও একজনকে।

টুম্পার পদ প্রাপ্তির বিষয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করে মুক্তা সিভয়েসকে বলেন, ‘টুম্পা আমার প্রতিবেশি। তার বাবা সরাসরি জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। জোবরা গ্রামে জামায়াতের যে অবস্থান ছিল সেখানে টুম্পার বাবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো। ২০১৩-১৪ সালে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের সময়ও তার ভূমিকা ছিল শিবিরের পক্ষে। টুম্পা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে ঢুকতে চেষ্টা করছে শুনে আমি বিষয়গুলো জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছিলাম। কিন্তু টুম্পা ছাত্রলীগ পদ পেলো। এগুলো রাজনীতির জন্য শুভ নয়।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবা মামলার আসামি ছিলেন স্বীকার করে নিয়ে টুম্পা সিভয়েসকে বলেন, 'উনাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছিল। সিএনজিতে আগুন দেয়ার একটা মামলায় প্রায় ২০০-২৫০ জনকে সেসময় আসামি করা হয়েছিল একটা মামলায়। সে মামলায় আমার আব্বাও ছিল। তিনি তখন ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শ কেন্দ্রে ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এমন একটি প্রত্যায়নপত্র সেখানকার তৎকালীন পরিচালক প্রফেসর ড. খান তৌহিদ ওসমান উনাকে দিয়েছিলেন তাছাড়া আমার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটা প্রত্যায়ন দিয়েছেন যে আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। সেসব আমি কেন্দ্রে জমা দিয়েছি।' 

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ হাটহাজারী থানায় সিএনজি ভাংচুরের যে মামলায় টুম্পার বাবাকে আসামি করা হয়েছিল সেটি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলা ছিল।

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়