Cvoice24.com

এমপি প্রার্থীদের হলফনামা
সহধর্মিণীর সোনার দাম এতো কম!

শারমিন রিমা 

প্রকাশিত: ১১:৫৮, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩
অডিও শুনুন

চার মাস আগে ৩০ তোলা সোনার গহনার (স্বর্ণালংকার) দাম ছিল সাড়ে তিন লাখ টাকা। নভেম্বরে আরও ৫ তোলাসহ ৩৫ তোলা গহনার দাম হয়ে গেল ৩৫ হাজার টাকা। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সোনার দাম কমে গেছে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এখন প্রশ্ন হলো—কীভাবে? যেখানে গত এক বছর ধরে ভরিতে সোনার বাজারমূল্য ছাড়িয়েছে লাখ টাকার ঘরে। সেখানে কয়েক মাসের মাথায় অস্বাভাবিকভাবে কমেছে সোনার দাম। আর এমনটাই দেখা গেছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর হলফনামায়। তবে এই ৩৫ তোলা সোনা কিনেছেন নাকি উপহার পেয়েছেন তা উল্লেখ করেননি এই প্রার্থী। 

চট্টগ্রামে এবারের নৌকার প্রার্থীদের বেশিরভাগ স্ত্রীদের কাছে থাকা সোনার গহনা দেখিয়েছেন বিয়ের উপহার হিসেবে। এর মধ্যে কেউ কেউ উপহার পাওয়া সোনার দাম দেখিয়েছেন আবার কেউবা দেখাননি। আবার কেউ শুধু টাকার অংকে দেখিয়েছেন সোনাদানার পরিমাণ। যদিও সেসব গহনা কে কবে উপহার পেয়েছেন কিংবা কিনেছেন এর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই হলফনামায়। প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের কি বাজারমূল্য নাকি উৎসমূল্য; উল্লেখের ক্ষেত্রে যদি উৎসমূল্যই চূড়ান্ত হয়, তবু প্রশ্ন থাকে—কোনকালে ছিল এমন! অর্থাৎ হলফনামায় প্রার্থীরা যেসব তথ্য দেন বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না অনেকটাই।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামার তথ্য বলছে তাদের স্ত্রীদের কাছে থাকা এক ভরি স্বর্ণালংকারের দাম পড়েছে গড়ে এক হাজার টাকা। যা বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে আকাশপাতাল পার্থক্য। যদিও হলফনামায় স্বর্ণালংকারের দামটি দেখানো হয়েছে অর্জনকালীন সময়ের হিসাবে অর্থাৎ স্বর্ণালংকারগুলো যে সময়ে কিনেছেন অথবা উপহার পেয়েছেন সেই সময়ের দাম। 
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা হলফনামার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। 

৩০ ভরি সোনা আছে রুহেলের স্ত্রীর 

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে এবার নৌকার টিকিট পেয়েছেন সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুব উর রহমান রুহেল। হলফনামার তথ্য বলছে, তাঁর স্ত্রীর নামে স্বর্ণালংকার রয়েছে ৩০ ভরি, যার অর্জনকালীন মূল্য ৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ যখন এসব স্বর্ণালংকার কেনা হয়েছে প্রার্থী তখনকার দাম দেখিয়েছেন হলফনামায়। যদিও কোন সময়ে কেনা হয়েছে তা উল্লেখ করেননি। সেই হিসাবে তার কাছে থাকা এক ভরি সোনার দাম পড়েছে ১৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। অপরদিকে রুহেল নিজ নামে সোনা দেখিয়েছেন ২ লাখ টাকার। তবে কী পরিমাণ সোনার দাম ২ লাখ টাকা তাও হলফনামায় উল্লেখ করেননি তিনি। 

সনির সোনা আছে ৫০ তোলা 

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নৌকার মাঝি হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। পেশায় ব্যবসায়ী এ প্রার্থীর কাছে সোনা আছে কেবল ৫০ তোলা। যার মূল্য ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ তাঁর কাছে থাকা এক তোলা সোনার দাম পড়েছে এক হাজার টাকা করে। তবে এই সোনা বিয়ের সময় উপহার হিসেবে পাওয়া কিনা তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি তিনি। যদিও এ প্রার্থীর স্বামীর নামে কোনো সোনা নেই। 

বিয়ের সময় মিতার স্ত্রী পেয়েছেন ২০ তোলা সোনা, মূল্য অজানা

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা। স্থাবর অস্থাবর মিলে গত পাঁচ বছরে তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে নয় গুণ। কিন্তু সোনা বাড়েনি। তাঁর স্ত্রী বিয়ের সময় উপহার হিসেবে ২০ তোলা সোনা পেয়েছিলেন। যদিও উপহার হিসেবে পাওয়া এসব সোনার দাম জানা নেই বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। তবে মিতার নিজ নামে স্বর্ণালংকার আছে মাত্র ৮ হাজার টাকার। কিন্তু কী পরিমাণ সোনা আছে তা তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেননি। 

সীতাকুণ্ডের মামুনের স্ত্রীর সোনা আছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুনের স্ত্রীর নামে সোনা আছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার। অপরদিকে হলফনামায় তাঁর নিজ নামে স্বর্ণালংকার দেখিয়েছেন ১০ হাজার টাকার। যদিও কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার রয়েছে তার কথা উল্লেখ করেননি তিনিও। 

এক কানাকড়িও সোনাদানা নেই ফজলে করিমের!

সংসদ নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থীর হলফনামায় তাদের নিজ নামে ও তাদের স্ত্রীদের নামে কম-বেশি স্বর্ণালংকার থাকলেও চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর স্ত্রীর নামে কোনো সোনা নেই। এমনকি স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদও নেই। হলফনামার তথ্য বলছে, এই প্রার্থীর নিজ নামেও কোনো সোনাদানা নেই। 

মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর সোনার গহনার দাম জানা নেই

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী) আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি এবং তাঁর স্ত্রীর কাছে নিজেদের কেনা কোনো ধরনের সোনা নেই। বরং যা আছে তাও বিয়ের সময় উপহার হিসেবে পাওয়া। হলফনামার তথ্য বলছে— হাছান মাহমুদের কাছে সোনা আছে ৫ ভরি এবং তাঁর স্ত্রীর আছে ৫০ ভরি। তবে এসব সোনার দাম তাঁর জানা নেই বলে উল্লেখ করেছেন নির্বাচনী হলফনামায়।

নোমানের স্ত্রীর আছে ৪০ তোলা সোনা, মূল্য অজানা

আট মাস আগে চট্টগ্রাম-৮ (চাঁন্দগাও-বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ) আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি নোমান আল মাহমুদ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন। হলফনামায় এ প্রার্থী স্ত্রীর নামে সোনা দেখিয়েছেন ৪০ তোলা। তবে মূল্য অজানা। অপরদিকে নিজের নামে সোনা দেখিয়েছেন ১০ ভরি যার মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার। অর্থাৎ তার কাছে থাকা এক ভরি স্বর্ণের দাম পড়েছে ১৫ হাজার টাকা করে। 

নওফেলের স্ত্রীর আছে ১০ লাখ টাকার সোনা

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া)  আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের স্ত্রীর সোনা আছে ১০ লাখ টাকার। অপরদিকে নওফেলের আছে ৪ লাখ টাকার। তবে তাদের কার কাছে কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার আছে তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি এ প্রার্থী। 

চার মাসে বাচ্চুর স্ত্রীর সোনার পরিমাণ বেড়েছে কিন্তু দাম কমেছে

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীনের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে চার মাস আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মহিউদ্দিন বাচ্চু। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন। চার মাস আগে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজ নামে কোনো সোনা না থাকলেও স্ত্রীর স্বর্ণালংকারের পরিমাণ ছিল ৩০ তোলা। যার মূল্য দেখিয়েছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ এবারের হলফলামার তথ্য বলছে—চার মাস পরেই বাচ্চুর স্ত্রীর নামে সোনার পরিমাণ আরও ৫ তোলা বেড়ে হয়েছে ৩৫ তোলা। কিন্তু এই ৩৫ তোলার তিনি মূল্য দেখিয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকা এক তোলা স্বর্ণের দাম পড়েছে এক হাজার টাকা। 

যেখানে গত এক বছর ধরে সোনার দাম লাখের ঘরে উঠানামা করছে। সেখানে চার মাসের ব্যবধানে ৫ তোলা সোনার দাম কী করে কমে গেলো তা জানতে যোগাযোগ করা হয় মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা লিখতে গিয়ে হয়তো ৩৫ হাজার টাকা হয়ে গেছে। সংখ্যাগত ভুল। আমি জানি না। আমার মনে নেই।’

৫ তোলা সোনা বাড়লেও দামের হেরফের প্রসঙ্গে বাচ্চু বলেন, ‘আমি কী লিখেছি মনে নেই।’

লতিফের স্ত্রীর আছে ৫ হাজার টাকার সোনা!

চট্টগ্রাম -১১ আসনের টানা তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ লতিফের স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১০ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে সোনা কেবল ৫ হাজার টাকার। আর নিজের নামে সোনা আছে ৪৫ হাজার টাকার। অর্থাৎ হলফনামার তথ্য বলছে স্ত্রীর চেয়ে সোনা বেশি লতিফের। কিন্তু তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর কাছে কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার আছে তা হলফনামায় উল্লেখ করেনি এই প্রার্থী। 

মোতাহেরুলের স্ত্রীর সোনা আছে ১৫ তোলা

চট্টগ্রাম- ১২ (পটিয়া) আসনে পরপর তিনবার নৌকার টিকিট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সামশুল হক চৌধুরী এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি। ওই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন পটিয়া উপজেলার সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। হলফনামার তথ্য বলছে— এ প্রার্থীর স্ত্রীর নামে ১৫ তোলা সোনা আছে। যার অর্জনকালীন মূল্য মাত্র ১৫ হাজার। অপরদিকে তাঁর নিজ নামে স্বর্ণালংকার আছে কেবল ১০ হাজার টাকার। তবে এসব স্বর্ণালংকার কবে কখন কেনা হয়েছে তার কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। 

ভূমিমন্ত্রীর স্ত্রীর মাত্র ৪০ হাজার টাকার সোনা

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন থেকে টানা চারবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮’র নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পাঁচবছর ধরে মন্ত্রী থাকার পরেও তাঁর স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বাড়েনি। হলফনামা অনুসারে— তাঁর স্ত্রীর কাছে সোনা আছে মাত্র ৪০ হাজার টাকার আর মন্ত্রী জাবেদের আছে ৩০ হাজার টাকার। যদিও কী পরিমাণ সোনার দাম এই টাকা দেখানো হয়েছে তা উল্লেখ করেনি এই প্রার্থী। 

নজরুলের স্ত্রীর সোনা আছে ৫০ হাজার টাকার

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসন থেকে হ্যাট্রিকের পথে মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ২০১৪ ও ২০১৮’র নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও পেয়েছেন নৌকার টিকিট। আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী হলফনামায় স্ত্রীর নামে স্বর্ণালংকার দেখিয়েছেন ৫০ হাজার টাকার আর নিজের নামে ২৫ হাজার টাকার। কিন্তু কার কাছে কী পরিমাণ সোনা আছে তা উল্লেখ করেননি তিনি। 

স্ত্রীর চেয়ে বেশি সোনা আছে নদভীর

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভীর কাছে তাঁর স্ত্রীর তুলনায় স্বর্ণালংকার বেশি রয়েছে। তাঁর নিজের কাছে স্বর্ণালংকার রয়েছে ৯০ ভরি আর স্ত্রীর নামে ৫০ ভরি। তবে অর্জনকালীন সময় হিসেবে স্ত্রীর চেয়ে সোনা বেশি থাকলেও দামের দিক থেকে কম। হলফনামায় এ প্রার্থীর ৯০ ভরি সোনার দাম দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, স্ত্রীর কাছে থাকা ৫০ ভরি সোনার দাম ৫ লাখ টাকা। তবে এসব সোনা বিয়েতে উপহার হিসেবে পেয়েছেন কিনা তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি। 

২০১৪ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নদভী। ওই সময় জমা দেওয়া হলফনামায় নদভী তাঁর নিজের নামে ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার দেখান। একই সময়ে তাঁর স্ত্রীর নামে দেখানো হয় ১০ ভরি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও দুজনের সোনার পরিমাণ একই দেখানো হয়। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় নদভীর সোনা বেড়ে হয়েছে ৯০ ভরি এবং স্ত্রীর ৫০ ভরি। 

স্ত্রীর চেয়ে বেশি টাকার সোনা আছে মোস্তাফিজের

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর হলফনামায় স্ত্রীর নামে স্বর্ণালংকার দেখিয়েছেন ২০ হাজার টাকার আর নিজ নামে দেখিয়েছেন ৪০ হাজার টাকার। অর্থাৎ তাঁর স্ত্রীর চেয়েও স্বর্ণালংকার বেশি রয়েছে এ প্রার্থীর। তবে তাদের কার কাছে কী পরিমাণ সোনা আছে তা হলফনামায় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি এ প্রার্থী। 

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে সব দলের প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিতে হয়। এই হলফনামায় দিতে হয় আট ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য। এই তথ্যের গরমিলে বাতিলও হয়ে যায় প্রার্থিতা। কিন্তু প্রশ্ন হলো—হলফনামায় থাকা সকল তথ্য কি যাচাই-বাছাই করা হয়? এ বিষয়ে কথা বলতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

প্রার্থীদের হলফনামায় থাকা স্বর্ণালংকারের তথ্যের বিষয়টি কীভাবে যাচাই-বাছাই করেন? এই প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই করেন। তিনিই বলতে পারবেন। তবে আমার কাছে যতটুকু মনে হয় এত অল্প সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তথ্যসহ বিবিধ যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি পরিপূর্ণভাবে করতে পারেন না।’

সর্বশেষ