Cvoice24.com

রেলের বাসা-বিদ্যুতে অনিয়ম, চলছে বাণিজ্য

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২০, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
রেলের বাসা-বিদ্যুতে অনিয়ম, চলছে বাণিজ্য

রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় সরকারি কোয়ার্টার বাসা। এর মধ্যে পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলো অবৈধভাবে দখল করে রমরমা ব্যবসা করছে একটি চক্র। এমনকি রেলের জায়াগায় ঘর নির্মাণ করে তা দেয়া হচ্ছে ভাড়া। শুধু তাই নয়, এসব ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগও রয়েছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে। রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এসব সংযোগ। প্রতি মাসে হাতিয়ে নেয়া হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। 

তবে অভিযুক্তদের দাবি, অবৈধ সংযোগ দেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। উল্টো এসব অবৈধ সংযোগ বন্ধ করতে গেলে মারতে আসা হয় তাদের।

মো. মানিক চট্টগ্রাম স্টেশন ট্রেন লাইটিং বিদ‍্যুৎ বিভাগে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পদে কর্মরত আছেন। থাকেন টাইগারপাস এলাকায়। বাসার পেছনে রেলের জায়গায় গড়ে তুলেছেন বস্তি। আবার ওই এলাকার ১০ ও ১১ নম্বর বিল্ডিং এ অবৈধভাবে বাসা ভাড়াও দিচ্ছেন। মানিকের গড়ে তোলা এসব অবৈধ বস্তিতে ব্যবহার হচ্ছে রেলের অবৈধ বিদ্যুৎ। 

স্থানীয়রা জানান, এসব অবৈধ বাসাগুলো বেশির ভাগই কাচা ঘর। যে কোন সময় ভেঙে দিলে যেন বেশি ক্ষতি না হয়— সেই হিসেব করেই তৈরি করা হয়েছে এসব ঘর।

শুধু ওই বস্তি নয়। টাইগারপাসস্থ মামা ভাগিনা মাজারের পিছনের বস্তিতে, টাইগারপাস কলোনির ভিতরে বিদ‍্যুৎ সাব-স্টেশনের পিছনেও রয়েছে অসংখ্য অবৈধ বিদ‍্যুৎ লাইন। আর এসব অবৈধ লাইন নিয়ত্রণের অভিযোগ টাইগারপাস সাব-স্টেশন বিদ‍্যুতের লাইনম‍্যান (গ্রেড-২) হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে গেদার ওপর। যদিও তিনি দাবি করছেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের এই বিভাগের এক ব্যক্তি বলেন, ‘হাবিবের ইশারাতেই চলে এসব লাইন। তবে সে নিজে প্রকাশ্যে টাকা তুলে না এসব লাইনের। তার লোক আছে। তারা টাকা কালেকশন করে। আমবাগান, নালা পাড়া, মালিপাড়া, রেল গেটস্থ মন্দিরের পেছনে এক থেকে সাত নম্বর লেন, দশ থেকে ষোল নম্বর— এসব জায়গায় আলাদা আলাদা লোক আছে, প্রায় সাত আট জন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগে এক সাইডে আমি টাকা তুলতাম। তবে এখন আমি আর ওখানে নাই। এখন হাবিব এসব তুলে। আগে সে আমাকে বখশিসও দিত। আরেকজন ওনার সাথে মিস্ত্রী আছে কালাম ভাই। ওরেও দিত টাকা। তাকে কেউ লারাইতে (সরাতে) পারে না। ওকে ট্রান্সফার করা হলেও আগের জায়গায় এসে যায় আবার। সে মিস্ত্রী না হয়েও মিস্ত্রীর কাজ করে টাকার জন্য। লাইনে সংযোগ সমস্যা হলে তা ঠিক করতেও টাকা নেয়, যদিও তা সরকারিভাবে ঠিক করার কথা।’

হাবিবের কাছে ভুক্তভোগী রেলওয়ের এক কর্মকর্তার সাথে কথা হয় সিভয়স প্রতিবেদকের সাথে। তিনি বলেন, ‘সরকার তাদের যে কাজের জন্য বেতন দিচ্ছে তারা তা সঠিকভাবে করছে না। দেখেন, আমি তাদের সহকর্মী। আমার বাসায় বিদ্যুৎ লাইনের সমস্যা দেখা দিলে পরে অভিযোগ দিলে তা ঠিক করতে আসে তারা। ঠিক করার পর সহকর্মী হওয়ার পরও আমার কাছ থেকে সে টাকা নিয়েই ছাড়ে। তারা এভাবে যেখানেই কাজ করতে যায় টাকা ছাড়া কাজ করে না। অথচ এই সেবার বিনিময়ে তাদের তো টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নাই।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাবিবুর রহমান। উল্টো এসব অবৈধ লাইন কাটতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে জানান তিনি। তিনি জানান, অবৈধ লাইন কাটতে গেলে তাদের মারতে আসে। একই সাথে তিনি লোকবল সংকটের কথাও জানান। লোকবল সংকটের কারণে কাজ করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে মো. মানিক জানান, তিনি শুধু মাত্র নিজের এলোটমেন্ট করা বাসায় থাকেন। কোন প্রকার অবৈধ বাসা দখলের সাথে তিনি যুক্ত নন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিদ্যুৎ প্রকৌশলী শাকের আহমেদ জানান, ‘যে কোন ধরনের অবৈধ বিদ্যুত লাইন কেটে দেয়া হয়। এটি আমাদের নিয়মিত প্রক্রিয়া। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবৈধ বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়া হয়।’

-সিভয়েস/ওয়াইআর/এএ

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়