Cvoice24.com

চসিকের সভায় মশা মারার ওষুধ নিয়ে বাগবিতণ্ডা

সিভয়েস প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ২২:২৪, ৩০ নভেম্বর ২০২১
চসিকের সভায় মশা মারার ওষুধ নিয়ে বাগবিতণ্ডা

নগর ভবনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে চসিকের সাধারণ সভা

নগরের মশা মারার কার্যক্রম নিয়ে রীতিমতো হট্টগোল বেধে গেলো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ষষ্ঠ পরিষদের ১০ম সাধারণ সভায়। সস্তায় মশার ওষুধ কেনা নিয়ে প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোবারক আলীর মধ্যে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। সেসময় সিটি করপোরেশন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় পুরোনো নগর ভবনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, সভায় মশকনিধন কর্মসূচি ও ওষুধ কেনা নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করছিলেন চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম চৌধুরী। তবে তার বক্তব্য চলাকালে প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন আপত্তি জানিয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতি লিটার ১৬০ টাকা দরে সস্তায় মশার ওষুধ কেনার প্রস্তাব দেন। যা প্রতি লিটার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিনছেন ৫৯০ টাকা দরে। 

প্যানেল মেয়র তার বক্তব্যে জানান, মাত্র ১৬০ টাকা লিটার ওষুধ তিনি তাঁর ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করেন যা খুবই কার্যকর বলে তিনি দাবিও করেন। এই সস্তায় মশা মারার ওষুধ কেনার প্রসঙ্গ নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির সভাপতি মোবারক আলীর সাথে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন প্যানেল মেয়র।  

এ বিষয়ে কাউন্সিলর মোবারক আলী সিভয়েসকে বলেন, ‌‘আসলে তেমন কিছুই হয়নি। জিএম (সাধারণ সভা) হচ্ছে এমন একটা ফোরাম যেখানে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। উনি ওষুধ কেনার বিষয়ে একটা প্রস্তাব রেখেছেন কিন্তু আমাদের একটা প্রকিউরমেন্ট প্রসেস আছে। এর বাইরে গিয়ে কিছু কেনা যাবে না। আপনি যেই জিনিসটা ৫ টাকায় কেনেন যখন একটা সংস্থা কেনে তখন এটার সাথে ভ্যাট, ট্যাক্সসহ অন্যান্য আরও কিছু যোগ হয়। সব মিলে স্বাভাবিক দরদামের চেয়ে কিছু মূল্য বর্ধিত হয়ে যায়। উনি আমার বক্তব্য শুনতে চাচ্ছিলেন না। একটু রাগান্বিত হয়ে কথা বলছিলেন। পরে মেয়র মহোদয় থামিয়ে বলেছেন, একজনের বক্তব্য শেষ হলে আরেকজন বক্তব্য রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘আসলে এখানে হট্টগোলের কিছু হয়নি। তাছাড়া উনি সস্তায় কিছু ওষুধ দিতে পারবেন। কিন্তু জাতীয় মশক নিধন নির্দেশিকার আলোকে পাবলিক হেলথ নিয়ে একটা বিষয় আছে যে ওষুধ ব্যবহার করবেন সেটার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও অনুমোদন থাকতে হবে। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে সার্টিফাইড করতে হবে যে এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে না এবং এটা কার্যকর। এই বিষয়টাই আমি উপস্থাপন করেছিলাম।’

কাউন্সিলর মোবারক আলী আরও বলেন, ‘এখানে আমাদের অনেকগুলো ইনকোয়ারি হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের পরে জেনেছি আগের গুলো কার্যকর না। আমরা কার্যকর ওষুধের সন্ধানে আছি। আমার ইচ্ছে হলেই তো যেকোনো ওষুধ ব্যবহার করতে পারবো না। যেহেতু ৭০ শতাংশ পরাগায়ন হয় মৌমাছি দ্বারা এবং লার্ভিসাইড হিসেবে ব্যবহার করতাম এম ফস ২০ ইসি এটা মৌমাছি এবং জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর।’

‘বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা এটাকে নির্দেশিত করেনা। যার কারণে এটা থেকে বেরিয়ে টেমিফস ফিফটি পার্সেন্ট ইসি কেনার সুপারিশ করেছি। মেয়ের মহোদয়ের নির্দেশে কার্যকর ওষুধ কেনা হচ্ছে। যেখানে আইডিসিআরের অনুমতি আছে এবং সেটা সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী ব্যবহার করছে। মূলত এ নিয়ে উনি একটু বিতর্কে জড়িয়েছেন। এটা হট্টগোল বলা যায় না। আসলে সেরকম কিছু না। এটা হচ্ছে ফোরাম এখানে সবাই সবার মতামত দিবে। তবে একজনের পরে একজন বক্তব্য দেয়াটা শোভনীয় ছিল। উনি হয়তো একটু লাউডলি বলেছেন। তবে আমাদের মধ্যে খুবই ভালো সম্পর্ক। উনার সাথে আমার কোনো দূরত্ব নাই। আপনারা সবাই যেভাবে ফোন করছেন আমি নিজেই বিব্রত।’— বলেন মোবারক আলী।

একই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন সিভয়েসকে বলেন, ‘মশার ওষুধ কেনার বিষয়ে আজ একটি সাধারণ সভা হয়েছিল। সভায় ওষুধের দাম নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হয়েছিল। প্রতি লিটার ১৬০ টাকার ওষুধ ৫৯০ টাকা চাওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আমার আপত্তি ছিল। কারণ ১৬০ টাকার ওষুধটা ভালো কাজ করে। তাহলে আমরা শুধু শুধু ৫৯০ টাকা দিয়ে ওষুধ কেনার কোন মানেই হয়না। এটা নিয়ে বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি এ বিষয়ে সভায় কোন পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।’

-সিভয়েস/এসআর

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়