Cvoice24.com

৭ মাসেও পলিথিনমুক্ত বাজার করতে পারেনি চসিক, থমকে আছে অভিযান

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:২৪, ১১ আগস্ট ২০২২
৭ মাসেও পলিথিনমুক্ত বাজার করতে পারেনি চসিক, থমকে আছে অভিযান

চট্টগ্রামের কর্নেলহাট কাঁচাবাজার। ছবি: সিভয়েস

গেল বছরের নভেম্বরে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামের তিন কাঁচাবাজারকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণা করেছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। তার একমাস পর শহরের বাকি কাঁচাবাজারগুলোকেও পলিথিনমুক্ত ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। তবে ঘোষণার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের একটি কাঁচাবাজারও পলিথিনমুক্ত হয়নি। দফায় দফায় পলিথিনবিরোধী অভিযান চালালেও হঠাৎ করে সেটি থমকে গেছে উচ্ছেদ অভিযানের ‘বাহানায়’।

বুধবার (১০ আগস্ট) নগরের কাজির দেউরী বাজার, কর্ণফুলী মার্কেট, চকবাজার, কর্নেলহাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের দোকান থেকে শুরু করে মাছ মাংস সবখানেই অবাধে পলিথিন ব্যবহার করছেন দোকানিরা। কারও কারও কাছে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে কাপড়ের ব্যাগেরও দেখা মিলেছে। তবে বেশি দাম হওয়ায় ওই ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহ নেই তাদের। ক্রেতাদেরও এই ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহ নেই খুব একটা। কেননা এই ব্যাগে মাছ, মাংস, সবজি নিয়ে খুব একটা সুবিধে করা যায়না। মাছ-মাংসের রক্তে ভিজে অল্পতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এটি।

চসিকের পলিথিন নিষিদ্ধের কথা জানতে চাইলে কাজীর দেউরি বাজারের সবজি বিক্রেতা সাইফুদ্দিনকে সিভয়েসকে বলেন, ১ কেজি কাপড়ের ব্যাগের দাম ২৫’শ টাকা। পলিথিনের দাম আড়াইশো থেকে ৩শ’ টাকা। বাজারে দাম বাড়তি, পরিবহন খরচ তো আছেই। তার উপর পলিথিনের দাম যোগ করলে মালের দাম আরও বেড়ে যাবে। রাস্তায় রাস্তায় ভ্যান বসে। দাম বেশি হাঁকালে মানুষ দোকানে আসে না। অন্যদিকে সবজি তাজা রাখতে পানি ছিঁটাতে হয়। ভেজা সবজি কাপড়ের ব্যাগে নিলে ভিজে যায়, এজন্য মানুষ নিতে চায় না।

 

একই কথা মাংস বিক্রেতা রনির। তিনি বলেন, মাংসের রক্তে ব্যাগ ভিজে যায়। কাপড়ের ব্যাগে দিলেও মানুষ পলিথিন খুঁজে। ব্যাগের দাম বেশি। পলিথিন-ব্যাগ সব দিলে আমরা পোষাবো কি করে! মানুষ যেটা চায় সেটাই দোকানে রেখেছি।

পলিথিনের ‘সঠিক’ বিকল্প চান চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেটের মুদির দোকানদার সুমন চৌধুরী। তিনি বলেন, পলিথিন বন্ধের আগে সঠিক বিকল্প বাজারে আনতে হবে। কাপড়ের ব্যাগ, চটের ব্যাগ কোনটাই জিনিসপত্রের ভারে টিকে না। ভালো কোন বিকল্প বের করতে পারলে অটোমেটিক পলিথিন উঠে যাবে। জরিমানার ভয় দেখাতে হবে না।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী সিভয়েসকে বলেন, ঘোষণার পর থেকে টানা পাঁচ মাস বাজারে পলিথিন মুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়েছে। এরপর অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের কারণে বাজারে পলিথিন মুক্ত করার বিষয়টিতে নজর কম দেওয়া হচ্ছে। তবে আবার প্রশাসনের নির্দেশনার পর অভিযান শুরু হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিবেশ স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি শৈবাল দাশ সুমন সিভয়েসকে বলেন, আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছি বাজারে পলিথিনের ব্যবহার রোধ করতে। কিন্তু শুধু আমরা চেষ্টা চালিয়ে গেলে চলবে না। সাধারণ মানুষেরও সহযোগিতা করার দরকার ছিল। মানুষ প্লাস্টিক পলিথিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকলে দোকানিরা তখন এর বিকল্প ব্যবস্থা করতো। তাছাড়া আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটের অভাব আছে। এরপরও আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই। বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। তারপরও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ না করলে আমরা কঠোর হবো।

এদিকে গবেষণার অভাব আছে দাবি করে নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ সুভাষ বড়ুয়া বলেন, আমাদের কোনরকম গবেষণা নাই। যখন যেটা মনে আসে সঠিক আলোচনা না করে, পরিপূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়া কাজে নেমে পড়ি। এছাড়াও প্লাস্টিকের বিকল্প কি ব্যবহার করা যায় ও তার যোগান প্রশাসন করে দিচ্ছে কিনা সেটা দেখা জরুরি। 

তিনি আরও বলেন, দোকানিদের প্লাস্টিকের বিকল্প সহজলভ্য পণ্যের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এই নগরকে অল্প দিনে প্লাস্টিকমুক্ত করা কোনভাবে সম্ভব হবে না। প্রশাসন থেকে সঠিক পরিকল্পনা ও সময় নিয়ে কাজে নামতে হবে। আজকে প্লাস্টিক অভিযান কালকে উচ্ছেদ এইভাবে কোনদিন সিস্টেমের বদল হবে না।

প্রসঙ্গত, ৭ নভেম্বর কাজীর দেউড়ি, কর্ণফুলী মার্কেট ও চকবাজার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসে চসিকের পরিবেশ উন্নয়ন স্থায়ী কমিটি। তাদের আশ্বাসে ব্যবসায়ীদের নভেম্বর মাস সময় দিয়ে ডিসেম্বর থেকে এই তিন বাজারকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণা করে চসিক। সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতিতে ওই মাস থেকেই জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। প্রথম দিন থেকেই আইন ভেঙে পলিথিন ব্যবহার করে চৌমুহনীর কর্ণফুলী মার্কেট ও কাজীর দেউরী কাঁচা বাজারে তিন দোকানদার। তাদের চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ হাজার টাকা জরিমানাও করেন। এরপর দফায় দফায় পলিথিনবিরোধী অভিযান চালানো হয়। সবশেষ গত ২৬ জানুয়ারি নগরের টাইগারপাসে চসিকের চালানো বিভিন্ন বাজার কমিটির সঙ্গে পলিথিন নিষিদ্ধের ব্যাপারে বৈঠকে বসেন খোদ সিটি মেয়র রেজাউল করিম। সেখানে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে সচেতনা কার্যক্রম চালাতে ১৯ দিন হাতে সময় রেখে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পলিথিন বিরোধী অভিযানের কথা জানান।

সিভয়েস/ডিসি/এএস

 

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়