Cvoice24.com

ডোর টু ডোর প্রকল্পের সরঞ্জাম পড়ে আছে নগর ভবনে

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ৬ জুন ২০২৩
ডোর টু ডোর প্রকল্পের সরঞ্জাম পড়ে আছে নগর ভবনে

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সাত বছর আগে বাসা-বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ‘ডোর টু ডোর’ প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ময়লা সংগ্রহ করতে সে-সময় ৪১টি ওয়ার্ডের বাসা-বাড়িতে বিনামূল্যে দেওয়া হয় ময়লা রাখার বিন। গত সাড়ে তিনবছর ধরে বিনামূল্যের এই বিন পড়ে আছে পুরাতন নগর ভবনের সাতটি কক্ষে। পুরনো নগর ভবন ভাঙতে গিয়ে এবার এই বিন নিয়ে দোটানায় পড়েছে সংস্থাটি। বিনগুলো ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিতরণ করবে নাকি ভাঙ্গারি হিসেবে বিক্রি করে দেবে তা সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে মেয়রের টেবিলে।

যদিও চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম আগামী সপ্তাহে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিনগুলো বিতরণের কথা জানিয়েছেন। তবে এরমধ্যে কতটি বিন ব্যবহারযোগ্য, কতটি ব্যহারযোগ্য নয় তা জানা যায়নি।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগর ভবন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চলতি মাসে চসিকের পুরাতন ভবন ভাঙার কাজ শুরু হবে। তাই পুরাতন ভবনের সকল সম্পদের তালিকা তৈরি করেছে চসিক। এরমধ্যে পুরাতন নগর ভবনের সাতটি কক্ষে ডোর টু ডোর কার্যক্রমের বিনগুলো রয়েছে। তারমধ্যে একতলার দুটি, দ্বিতীয় তলার তিনটি এবং তৃতীয় তলার দুটি কক্ষে এসব বিন রাখা আছে। যদিও এরমধ্যে কতটি বিন ব্যবহারযোগ্য তা হিসাবে আনা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় অনেক বিন নষ্টও হয়ে গেছে। নগর ভবন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে বিনগুলো রাখা হবে নাকি ফেলে দেওয়া হবে তা নিয়েই দুশ্চিতায় রয়েছে সংস্থাটি। 

সরজমিনে দেখা গেছে, পুরাতন নগর ভবনের ১০৬, ১০৯, ২০৯, ২১০, ২১১, ৩১০ এবং ৩১১ নম্বর কক্ষে বিনগুলো রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ৩১১ নম্বর রুমেই কেবল অল্প পরিমাণের বিন ছিল। তারমধ্যে বেশকিছু বিন ভাঙা ও নষ্ট অবস্থায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চসিকের এক কর্মকর্তা বলেন, চসিকের সাবেক মেয়র ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহের জন্য সিটির সব ওয়ার্ডের প্রতিটি বাসা বাড়িতে বিন দেস। যতটুকু খেয়াল আছে সব ওয়ার্ডে বিন বিতরণ কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি, সঠিকভাবে মনে নেই। নয়তো বাড়তি বিন কেনা হয়েছে, যেগুলো পড়ে আছে। কিন্তু এগুলো রাখা হবে নাকি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দিয়ে দিবে তা নিয়েই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি রাখে তাহলে এতোগুলো বিন কোথায় রাখবে? জায়গা তো নেই। আবার দিলে কীভাবে দিবে তা নিয়েও ঝামেলা। তাই এটা এখন মেয়রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। উনার টেবিলে এ সংক্রান্ত একটা কাগজ দেওয়া হয়েছে। উনি যা করেন তাই হবে।’

প্রসঙ্গত, সেসময় (২০১৬ সালের শেষদিকে) চসিকের দেওয়া সেই বিনগুলোর ব্যবহার শুরুর দিকে আলোর মুখ দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত বর্জ্য সংগ্রহ করার কথা বলা হলেও লোকবলের অভাবে তা বাস্তবায়ন হয়নি। বছরকে বছর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে রয়েছে এ সেবা সংস্থাটি।

nagad

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়