Cvoice24.com

গতির ঝড় উড়িয়ে লোকসানে ট্রেনের যাত্রা

প্রকাশিত: ১০:২৮, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০
গতির ঝড় উড়িয়ে লোকসানে ট্রেনের যাত্রা

প্রতীকী ছবি

গতির ঝড় দেখালেও লোকসানেই রেল বিনিয়োগ নেই রেলে। যার দরুণ বাড়ছে যাত্রাপথের ভোগান্তি। পুরানো ইঞ্জিন আর বগির কারণেই যাত্রীসেবার বেহাল দশা। —এমন অভিযোগ বেশ পুরানো। চলতি বছরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা দ্রুতগতির ১০ ইঞ্জিন ও ইন্দোনেশিয়ার ২০০ বগি দেখিয়েছে আশার আলো। কিন্তু ট্রেনের গতির তুলনায় দুর্বল ট্র্যাক সে আশায় গুড়েবালি। কেননা নতুন ট্রেন যে লাইন এবং ব্রিজের ওপর দিয়ে চলবে, সেগুলোর উন্নয়নই তো হচ্ছে না। কেবলই জোড়াতালি। সুযোগই মিলছে না গতির ঝড় তোলার।

ট্রেনের গতি ও জরাজীর্ণ ট্র্যাকের এমন দোলাচালের মধ্যেই উঁকিঝুঁকি দিতে শুরু করেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এর আগে সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল টানা দু’মাসের বেশি। এতে রেলের আয় নামে তলানিতে। পরবর্তীতে চালু হলেও টিকিট বিক্রি কমেছে বহুগুণে। এখনো বন্ধ প্ল্যাটফরম ও স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি। সেখানেও বিপুল আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রেল।

রেলওয়ের সূত্র জানায়, দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে অর্থাৎ ২৪ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় ট্রেন চলাচল। ৩১ মে থেকে আবার সারাদেশের মত চট্টগ্রামেও সীমিত আকারে চালু হয়। সে হিসাবে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল টানা ৬৭ দিন। এরপর থেকেই বেশ কয়েক ধাপে ট্র্যাকে ফিরে ট্রেন। তবে সংক্রমণ এড়াতে স্টেশনে ও ট্রেনে যাত্রীদের জন্য বেঁধে দেওয়া হয় নানা সুরক্ষানীতি। স্টেশনে বন্ধ ছিল টিকিট বিক্রিও। সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে শুধুমাত্র ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। পরে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ওই টিকিটের ২৫ শতাংশ বিক্রি শুরু হয় স্টেশনেই।

চট্টগ্রাম রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চট্টগ্রাম থেকে ছুটে যাওয়া যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে সিট সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। এর বিপরীতে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাসিক আয় হচ্ছে ৭ কোটি টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ দিনে গড় আয় ২৩ লাখ টাকার মতো। এদিকে করোনাকালীন পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে দেখা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ থাকার পর আবারও ট্রেন চলাচল শুরুর প্রথমদিকে কম আসন বরাদ্দ এবং ছিল যাত্রীর খড়া। ফলে আয় নেমে এসেছিল ৫ থেকে ৬ লাখে।

অথচ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক অবস্থায় যাত্রী সেবার বিপরীতে দৈনিক আয় হয় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকা। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী সিভয়েসকে, ‘করোনার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আয় কম হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া নিয়মনীতি মেনেই যাত্রী সেবা নিশ্চিত করছি আমরা।’

অন্যদিকে করোনায় সংকটে জর্জরিত অবস্থায়ই প্রায় এক দশক পর বাংলাদেশ রেলওয়েতে পুরোপুরিভাবে যুক্ত হয় ১০টি নতুন ইঞ্জিন। কর্মকর্তারা দাবি করছেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা এসব ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। যদিও এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সে যাই হোক, আশঙ্কার কথা হলো এ গতিবেগে ট্রেন চালাতে হলে যে ধরনের মজবুত রেললাইন দরকার তা দেশে নেই। অবকাঠামোগত দুর্বলতায় অত্যাধুনিক এসব ইঞ্জিনের গতি তাই ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটারেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের যন্ত্র প্রকৌশল দপ্তর থেকে অবশ্য জানা গেছে, নতুন ইঞ্জিনগুলোর ডিজাইন স্পিড ১১০ কিলোমিটার। লোডেড অবস্থায় টেস্ট অ্যান্ড ট্রায়ালে রেললাইনে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার গতি ওঠে। অন্যদিকে দুইশ বগির শেষ ২০টি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছে ২৫ অক্টোবরে। ওইদিন রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী ফকির মো. মহিউদ্দিন সিভয়েসকে বলেছিলেন, ‘ইঞ্জিনগুলোর কমিনশনিং চলছে। পুরোপুরি ট্রায়াল রান শেষ করে আরও একমাস সময় লাগতে পারে বগি টানার কাজে ব্যবহারের জন্য।’ তবে এক মাসের জায়গায় দুই মাস হয়ে গেলেও মূল বহরে যুক্ত হয়নি এসব ইঞ্জিন।

অবশ্য দাপ্তরিক সূত্র বলছে, ট্রায়াল রান শেষে ইঞ্জিনগুলো অপেক্ষা করছে ‘কাগুজে’ নির্দেশনার। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সিভয়েসকে বলেন, ‘এগুলো পূর্বাঞ্চলে বরাদ্দ দিলে আমরা চালাব। শুধু এটুকুই বলতে পারি।’ পুরো বছরজুড়ে নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন শেষে শতভাগ সেবা নিয়ে ট্রেন ট্র্যাকে ফিরবে বলে আশা করছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোও খানিকটা কেটে যাবে।

-সিভয়েস/এপি

সিভয়েস প্রতিবেদক

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়