এক দশকের প্রেমের পর বিয়ে, আরও সন্তানের ইঙ্গিত রোনালদোর
ক্রীড়া ডেস্ক, সিভয়েস২৪
এক দশকেরও বেশি সময়ের প্রেমের পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এক হয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। গত ১১ আগস্ট পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে অনেকটা ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন তারা। বিয়ের অনুষ্ঠানের জাঁকজমকের চেয়ে সেখানে যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের পাঁচ সন্তান—যাদের ঘিরেই এখন রোনালদো-জর্জিনার সংসার।
বিয়ের পর তাদের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু মুহূর্ত প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর বিখ্যাত ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল সাময়িকী ‘ভোগ’–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেদের দাম্পত্য জীবন, সন্তান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই দম্পতি।
রোনালদো ও জর্জিনার কাছে বিয়ের দিনটি ছিল শুধু তাদের দুজনের নয়; বরং পুরো পরিবারের উদ্যাপন। জর্জিনার ভাষায়, তাদের পাঁচ সন্তানই ছিল বিয়ের ‘প্রধান অতিথি’।
জর্জিনা বলেন, ‘বাচ্চারা জানে, আমাদের সময় তাদের জন্য।’
নিজেদের শৈশবের কথাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন জর্জিনা। তার ভাষ্য, তিনি ও রোনালদো দুজনই তুলনামূলকভাবে কম কাঠামোবদ্ধ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। জীবনে কখনো কিছু না থাকা এবং পরে অনেক কিছু পাওয়ার মূল্য—এই দুই অভিজ্ঞতাই সন্তানদের বোঝাতে চান তারা।
তাই বিয়ের দিন সন্তানদের উপস্থিতি তাদের কাছে ছিল বিশেষ অর্থবহ।
রোনালদো-জর্জিনার পরিবারে এখন পাঁচ সন্তান। বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র। তার জৈবিক মায়ের পরিচয় কখনো প্রকাশ করেননি রোনালদো।
২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেয় যমজ সন্তান ইভা ও মাতেও। এরপর রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্কে জন্ম নেয় দুই মেয়ে—অ্যালানা মার্টিনা ও বেল্লা এসমেরালদা।
তবে এই পরিবারকে ২০২২ সালে যেতে হয়েছে এক গভীর শোকের মধ্য দিয়ে। বেল্লা এসমেরালদার যমজ ভাই অ্যাঞ্জেল জন্মের সময় মারা যায়। সেই বিয়োগান্তক ঘটনা রোনালদো ও জর্জিনার জীবনে আজও এক গভীর স্মৃতি হয়ে আছে।
পাঁচ সন্তান নিয়েই কি থামতে চান রোনালদো-জর্জিনা? প্রশ্নটি উঠতেই ভবিষ্যতের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি পর্তুগিজ তারকা।
রোনালদো বলেন, ‘আমি কখনো বলিনি আর নয়।’
জর্জিনাও জানালেন, ছোট সন্তান ছাড়া নিজেকে কল্পনা করা তার জন্য কঠিন। তবে এখনই আরেকটি সন্তান নিলে সংসারে ব্যস্ততা আরও বাড়বে বলেও মজা করে বলেন তিনি।
তার ভাবনাটা বরং ভবিষ্যৎকে ঘিরে—সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স যখন ১৫ বা ১৬ হবে, তখনো তারা তুলনামূলকভাবে তরুণ থাকবেন। তাই ভবিষ্যতে কী হয়, সেটি সময়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন জর্জিনা।
অর্থাৎ, পাঁচ সন্তানের পরও রোনালদো পরিবারের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সংসারের নতুন অধ্যায়ের পাশাপাশি রোনালদোর পেশাগত জীবনেও যেন শুরু হয়েছে বিদায়ের কাউন্টডাউন। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, সম্ভবত ২০২৬ সালই তার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ বছর হতে পারে। তবে বিদায় নেওয়ার আগে নিজের ক্যারিয়ারে আরও একটি অসাধারণ অধ্যায় যোগ করতে চান তিনি।
রোনালদোর ভাষায়, ‘সম্ভবত এটাই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ বছর, এবং আমি এক অসাধারণ কীর্তি রেখে যেতে চাই।’
যে মানুষটি দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফুটবল মাঠে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছেন, তার মুখে ‘শেষ বছর’ শব্দ দুটি তাই স্বাভাবিকভাবেই আলাদা আবেগ তৈরি করেছে।
ফুটবল মাঠে রোনালদোকে দেখা যায় অবিশ্বাস্য উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে। গোল, রেকর্ড, ট্রফি—সবকিছুর পেছনে ছুটে চলা সেই রোনালদোই ঘরের ভেতর এসে যেন অন্য মানুষ। সেখানে তার পরিচয় শুধু বিশ্বখ্যাত ফুটবলার হিসেবে নয়; পাঁচ সন্তানের বাবা হিসেবে। আর জর্জিনার কাছে রোনালদোর পরিচয় আরও ব্যক্তিগত—দীর্ঘদিনের সঙ্গী, সদ্য বিবাহিত স্বামী এবং তাদের সন্তানদের বাবা।
একদিকে ফুটবল ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়, অন্যদিকে দীর্ঘ প্রেমের পর বিয়ের নতুন শুরু—জীবনের দুই প্রান্ত যেন একই সময়ে এসে মিলেছে রোনালদোর জীবনে। ফুটবল মাঠে তার শেষ বাঁশি কখন বাজবে, সেটি হয়তো সময়ই বলবে। তবে মাঠের বাইরে রোনালদোর গল্প যে শেষ হচ্ছে না, বরং নতুন রূপে শুরু হচ্ছে—সেটি এখন অনেকটাই পরিষ্কার।
খেলাধুলা সব খবর















