Cvoice24.com

২৪ জন ট্রেন হোস্টেস নিয়ে যাত্রা কক্সবাজার এক্সপ্রেসের

দেবাশীষ চক্রবর্তী ও এসএম রুবেল

প্রকাশিত: ১৫:১৭, ১ ডিসেম্বর ২০২৩
২৪ জন ট্রেন হোস্টেস নিয়ে যাত্রা কক্সবাজার এক্সপ্রেসের

কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের ছবিটি তুলেছেন এস এম রুবেল

দেশের প্রথম ট্রেন হোস্টেস নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হল কক্সবাজার এক্সপ্রেসের। এরমধ্যে ৯ জন নারীসহ মোট হোস্টেস ২৪ জন। মোট ১০২০ জন যাত্রী নিয়ে দুপুরে কক্সবাজার থেকে বহুল প্রতীক্ষিত ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। রাতে কমলাপুর স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে আজকের দিনের দ্বিতীয় ট্রেন।

দুজন লোকমাস্টারকে দেওয়া হয়েছে ট্রেন পরিচালনার গুরু দায়িত্ব। এছাড়া সর্বক্ষণ যাত্রী সেবায় নিয়োজিত থাকবেন পুরুষ ও নারীসহ মোট ২৪ জন ট্রেন হোস্টেস। এরমধ্যে ৯ জন নারী ও পুরুষ আছেন ১৫ জন। এদিকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন ছেড়ে যায় বলে জানান স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা কক্সবাজারবাসীর জন্য ঈদের আমেজের মত ছিল। ঈদের আগে মানুষ নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য উচ্ছ্বসিত থাকে সেরকমই উত্তেজনা দেখা গেছে যাত্রীদের মধ্যে।

এছাড়াও রাখা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রেলওয়ে পুলিশ ও আরএনবি সহ মোট ২০ জন রয়েছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শহিদুল ইসলাম সিভয়েসকে বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে মোট ১০ জন পুলিশ রেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে। চট্টগ্রাম আসার পরে ৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।’

স্টেশনের কিছু কাজ এখনও শেষ হয়নি

কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন থেকে আজ বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও বাকি আছে অবকাঠামোগত নির্মাণের কাজ। স্টেশনের প্রবেশমুখে বসানো হয়নি সাইনবোর্ড। ভিতরে নির্মাণ কাজ চলছে। ব্যস্ত সময় পার করছে নির্মাণ শ্রমিকরা। সেখানেও নির্মাণ কাজ করছে শ্রমিকরা। অন্যদিকে মূল প্রবেশ দ্বারের ডানপাশে ভিআইপি টিকিট কাউন্টার খোলা রাখা হয়েছে টিকিট বিক্রির জন্য। এই অংশ ছাড়া মূল ভবনে প্রবেশ করার সুযোগ নেই সাধারণ মানুষের। টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরত রেলওয়ে কর্মকর্তা জানান, ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকল টিকিট শেষ হয়েছে। তবে ২ ডিসেম্বরের কয়েকটি এসি টিকিট এখনো খালি আছে। টিকিট কাটতে এসে নির্দিষ্ট দিনের টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক পর্যটক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের পিছনে চলছে মুল নির্মাণ কাজের বৃহৎ অংশ। ১ নম্বর প্লাটফর্মের বেশিরভাগ অংশের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ২ ও ৩ নং প্লাটফর্মের কাজ এখনো চলমান। বাকি রয়েছে এক প্লাটফর্ম থেকে অন্য প্লাটফর্মে যাওয়ার ওভার ব্রিজের নির্মাণকাজ। পুরো প্লাটফর্ম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটেয়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী। মাঝখানে চলছে নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ। টিকেট সাথে থাকা যাত্রী ছাড়া স্টেশন দেখতে আসা উৎসুক দর্শনার্থীরা এখনও ঢুকতে পারছেন না স্টেশনে।
 
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মুহাম্মদ ইয়াকুব সিভয়েসকে বলেন, একটি টিকিট কাউন্টার ও পার্কিংয়ের অল্প জায়গা ছাড়া অন্যসব এলাকায় জনসাধারণকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ঝুঁকি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আছে মোট ৫৪টি লেভেল ক্রসিং। কেবল ৫৪টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ১৬টি লেভেল ক্রসিংয়ে ঠিকাদার কর্তৃক অস্থায়ী গেইট ম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অনেক লেভেল ক্রসিংয়ে নেই ক্রসিং গেইট। এরমধ্যে কক্সবাজার সেকশনের কেরানীহাট রাস্তার মাথা এলাকায় সড়কপথ আছে রেল ক্রসিং। এখনও অরক্ষিত অবস্থায় আছে রেল গেইট।
   
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন সিভয়েসকে বলেন, ট্রাফিক ডেনসিটি দেখে ১৬টি স্থানে গেইট ম্যান রয়েছে। বাণিজ্যিক ট্রেন সার্ভিস পরিচালনায় স্থায়ী জনবলের অভাব রয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো জনবলে নিয়োগ হবে।

রেলওয়ে সূত্র থেকে জানা যায়, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে প্রায় এক হাজার লোকবলের পরিকল্পনা থাকলেও নতুন ট্রেন চালাতে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে সীমিত। ২৬ নভেম্বর পূর্বাঞ্চলের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা-২ মো. ফেরদৌস স্বাক্ষরিত চিঠিতে একজন স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-৩), একজন স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-৪) ও দুজন সহকারী স্টেশন মাস্টারকে পদায়ন করা হয়েছে। প্রকৌশল বিভাগের প্রস্তাবের ম্যাকানিক্যাল ক্যারেজে ২৬ জন, ইলেট্রিক্যাল আছে ১১ জন, ট্রাফিকে ১১, টেলিকমে ৩জন, কমার্শিয়ালে ৭জন অ্যাকাউন্টসে ২জন দায়িত্বরত অবস্থায় আছে।  

 

সর্বশেষ