Cvoice24.com

‘তুই মরে যা, আর সংসার করব না’

সিভয়েস২৪ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:২০, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
‘তুই মরে যা, আর সংসার করব না’

‘তুই মরে যা। তোর সাথে আমি আর সংসার করবো না। আমি যেনো তোর মুখ আর না দেখি’। আগের বিয়ের বিষয়ে জেনে যাওয়ায় স্ত্রী তাহমিনা ইকবাল আরশিকে (৩২) ডিভোর্স দিয়ে এভাবেই তাড়িয়ে দিয়েছিলেন স্বামী আকরাম খান। বারবার স্ত্রী পায়ে পড়ে সংসার টেকাতে আকুতির পরেও কথা শোনেননি পাষণ্ড স্বামী। তাই অপমান এবং ক্ষোভে স্বামীর বাড়ির ৫ম তলার বারান্দা থেকেই লাফ নিয়ে আত্মহত্যা করেন  আরশি। 

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেছেন আরশির বাবা।

মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে, খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকার মো. আকরাম খানকে (৪২)। তিনি নিহত গৃহবধূ আরশির স্বামী। 

নিহত তাহমিনা ইকবাল আরশি কোতোয়ালী থানার নন্দনকানন এলাকার হরিশদত্ত লেইনের মো. ইকবাল উদ্দিনের মেয়ে। 

আরশির বাবার করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ইসলামী শরিয়া মোতাবেক তার বড় মেয়ে তাহমিনা ইকবাল আরশির সাথে বিয়ে হয় আকরাম খানের। বিয়ের পর কুমিল্লার শাকপুরা মর্ডান হসপিটালের পিছনে ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করে তারা। সংসার জীবনে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর সম্প্রতি আরশি জানতে পারে, তার স্বামীর আগেও একটি বিয়ে হয়েছিলো। যা সে জানতো না। এরপর থেকেই স্বামী আকরান খান আরশিকে তালাকের হুমকি দিয়ে আসছিলো।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আকরাম খান বাদীর নন্দনকাননের বাসায় গিয়ে তাকে জানায় তার মেয়ে (আরশি) বিষপান করেছে। এরপর সে আরশিকে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফের বাসায় এসে আকরাম খান বলে তার মেয়ের সাথে আর সংসার করবে না। এরপর তার মেয়েকে বলে, ‘তুই মরে যা। তোর সাথে আমি আর সংসার করবো না। আমি যেনো তোর মুখ আর না দেখি।’ 

তখন আরশির স্বামী আকরাম খান বাসা থেকে বের হয়ে যায়।এর কিছুক্ষণ পর আরশি লালখান বাজার এলালার বাঘঘোনা মোড়ের সিয়াজ টাওয়ারে তার স্বামীর প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে যায়। সেখানে তাকে অপমান করলে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়ে ৫ম তলার বারান্দা থেকে সে লাফ দেয় এবং পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।  

আরশির বাবা মো. ইকবাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আমি খুলশী থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে তার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছি। আমার মেয়েকে সে না জানিয়েই ডিভোর্স দিয়েছে। তার আগের স্ত্রী ছিল—যা আমার মেয়ে জানতোই না। আমি চাই আমার মেয়ের মতো যেন আর কোনো মেয়ে অকালে প্রাণ না দেয়। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই এবং বিচার চাই।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে আকরাম খাঁনের সাথে বিয়ে হয় আরশির। তবে, দুজনেই পূর্বে বিবাহিত ছিলেন—যা কেউই জানতো না। সম্প্রতি আকরাম খাঁনের পূর্বের বিয়ের বিষয়ে জানতে পারেন আরশি। এরপরই তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি আরশিকে ডিভোর্সের চিঠি পাঠান আকরাম খাঁন। সেই চিঠি তাঁর হাতে পৌঁছায় ১৪ ফেব্রুয়ারি। যা কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না আরশি। সবশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে উভয় পরিবারের উপস্থিতে বিষয়টি সমাধানে বৈঠকও হয়। 

যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আকরামের প্রথম স্ত্রী, আকরাম এবং আরও কয়েকজন। সেখানে আরশি আকরাম খাঁনের পায়ে পড়ে সংসার করার আকুতি জানালেও তা মানেন নি আকরাম। তিনি তার সাথে সংসার করবেন না বলে সাফ জানান। এরপর বৈঠকে কোনো সমাধান না হলে সেখান থেকে আরশি চলে যান আকরামের বাড়ি লালখান বাজার চাঁনমারি রোডের সিরাজ টাওয়ারে। সেখানের ৫ম তলায় গিয়ে তিনি কলিং বেল চাপলে গৃহকর্মী দরজা খোলেননি। আকরাম সেখানে না থাকায় ফোন করেন তাকে। আকরাম কল করে আরশির দুলাভাইকে জানান, ‘আপনার শ্যালিকা পাগলামি করছে, তাকে সামলান।’ এরপরেই ভবনের নিচে আরশির রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

মামলার বিষয়টি সিভয়েস২৪-কে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নেয়ামত উল্লাহ্। তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালখান বাজার চাঁনমারি রোডের সিরাজ টাওয়ারের ৫ম তলা থেকে পড়ে গৃহবধূ আরশির মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামীকে আসামি করে  তার বাবা একটি মামলা করেছেন। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়