Cvoice24.com

এখনো অধরা বাস চালক

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২৯, ৯ নভেম্বর ২০২৩
এখনো অধরা বাস চালক

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে এক পরিবারের সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো অধরা রয়ে গেছে ঘাতক বাস চালক। তবে ঘাতক বাস চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ওসি  মো. আদিল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার সকালে সিভয়েসকে তিনি বলেন, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পরপর বাস চালক পালিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বাসটি জব্দের পর থানায় মামলা হয়েছে। ঘাতক চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে হাটহাজারীর চারিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মা-মেয়ে, ননদসহ একই পরিবারের সাত সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সিএনজি চালকসহ নিহতদের আরেক নিকটাত্বীয়।

নিহতরা সবাই চট্টগ্রামের চন্দনাইশ জোয়ারার বাসিন্দা। ঠাকুরমার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দিতে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। নিহতরা হলেন— চন্দনাইশ উপজেলার পূর্ব জোয়ারা মোহাম্মদপুর গ্রামের প্রবাসী নারায়ণ দাশের স্ত্রী রীতা দাশ (৩৫), তার দুই মেয়ে শ্রাবন্তী দাশ (১৬) ও বর্ষা দাশ (৭), দুই যমজ ছেলে দিগ দাশ (৪) ও দিগন্ত দাশ (৪), রীতার ভাশুরের ছেলে বিপ্লব দাশ (২৫) এবং রীতার স্বামীর কাকাত বোন চিনু দাশ (৫০)।

এদিকে বুধবার দুপুরে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। চারজনকে স্থানীয় শ্মশানে দাহ করা হয়েছে এবং বাকি তিনজন শিশু হওয়ায় নিয়মনুযায়ী তাদের সমাধি করা হয়েছে।

এদিন সড়কের পাশে রাখা লাশের পাশে কাঁদতে কাঁদতে নারায়ণ বলছিলেন, আমার সুখের সংসার শেষ। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো? তারই পাশে বসা বড় ভাই জমজ দুই ভাতিজার জন্য মুর্ছা যাচ্ছিলেন। বলছিলেন, যমজ দুটা ভাইপো, তাদের ছেড়ে কিভাবে বাঁচবো জানি না। বড় ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবুল ও নারায়ণের মেঝ ভাই শম্ভু দাশ। পক্ষাঘাতগ্রস্ত শম্ভু ভালো করে উঠতে বসতেও পারছেন না।

মরদেহ যখন শ্মশানে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিলো বাড়ির দরজায় বসে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছিলেন নারায়ণ। চোখে অঝোর পানি নিয়েই শেষবারের মতো দুই জমজ ছেলের মুখগুলো দেখে আবার ঘরে ফেরেন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে বাড়ি পৌঁছেন তিনি। স্ত্রী সন্তানের নিথর শরীরের কাছে পৌঁছে ভেঙ্গে পড়েন কান্নায়। এরপর অজ্ঞান...।

নিহতের বড় ভাই বাবুল দাশ বলেন, রীতা ও তার মেয়ে বাক প্রতিবন্ধী শ্রাবন্তী ও ভাতিজা বিপ্লবকে শ্মশানে দাহ করা হয়েছে। বর্ষা এবং যমজ দুই ছেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মাটিতে সমাহিত করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের শ্মশানে তোলা হয়। বিকেল ৪টার দিকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হয়। তাদের সঙ্গে মারা যাওয়া চিনুকে চন্দনাইশের সাতবাড়িয়ায় তাদরে পারিবারিক শ্মশানে দাহ করা হয়েছে। ঘাতক বাস চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সিভয়েস/এএস

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়